• শিরোনাম

    ‘আমি একা নই – প্রবীণ কলম বন্ধু’ চিঠি: ০৫

    একজন ডাক্তারের স্ত্রী হয়ে বলছি : মাহমুদা আন্জুমান।

    | ০৪ জুলাই ২০২০


    একজন ডাক্তারের স্ত্রী হয়ে বলছি : মাহমুদা আন্জুমান।

    চিঠি: ০৫

    লেখক পরিচিতি: মাহমুদা আন্জুমান।


    নরসিংদী জেলায় স্থানীয় বাড়ি। পেশা: গৃহিণী, শিক্ষাগত যোগ্যতা: বাংলায় এম. এ. অবসরে লেখালেখি করি, বাগান করি ও গান শুনতে ভালেবাসি।প্রকৃতির সাথে সময় কাটাতেও বেশ ভালো লাগে। রাত দুপুরে মাঝে মাঝে গাছদের গান শুনাই ও গাছের নৃত্য দেখে অভিভূত ।

    একজন ডাক্তারের স্ত্রী হয়ে বলছি


    গত চারমাস ধরে কি যে উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা,আর আতঙ্কে দিন কাটছে তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। প্রতিটা দিন পার হচ্ছে আর নিরাশা বেড়ে চলেছে। কোন প্রডিকশনই ইতিবাচক ফলাফল দিচ্ছে না। না দেশে না বিশ্বে।

    সাইফকে নিয়ে বড্ড টেনশন হয়। ঘর থেকে বের হলেই বুক ধুকপুক করতে থাকে।


    পেশায় ডাক্তার, দেশ সেবা থেকে বিরত রাখাও যায় না। যেভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে দেশে ডাক্তারের ঘাটতি দেখা যাবে মনে হচ্ছে। ঘরে ফিরলেও একটা আতঙ্ক নিয়ে তাকিয়ে থাকি ঠিক আছে তো সে! ভাবনা আসে হঠাৎ করে পরিবারকে না ছুঁয়ে যায় এই ভাইরাস করোনা। যদিও পিপিই নামক এক কঠিন সরঞ্জাম পরে রাউন্ড দেয় সাইফ; তবুও আমার মনের ভয় দূর হয় না।

    এই পিপিই পরে থাকাটা যে কতোটা দুর্বিষহ তা তাঁর কাছ থেকে শুনে ব্যথাই পাই মনে। প্রত্যেকটা ডাক্তার, নার্সদের নিয়ে ভাবি কতোটা যন্ত্রণা নিয়ে তারা সেবা করছেন , এই করোনাকালে! একসাথে থেকেও একেকজন মনে হয় পরিবার থেকে হাজার ক্রোশ দূরে। প্রত্যেকের দরজা সবার জন্য বন্ধ।

    সাইফকে মাঝে মাঝে টেস্ট করতে হয়। যখন টেস্টের জন্য যায়, সেই রিপোর্টের জন্য উৎকণ্ঠায় থাকি, মানসিক চাপ নিয়ে শান্ত থাকা কঠিন ব্যাপার। বাসায় ফিরে আবার একলা নিবাস। এ জীবন দুর্বিষহ। পরবর্তী রাউন্ডের জন্য আবার প্রস্তুতি নেয়া।

    টেনশনে কয়েকদিন ধরে হাঁপিয়ে উঠেছি। কোভিড হাসপাতালের ডিউটি এবং হোটেল নিবাস শেষে বাসায় ফিরল আজ। চার দেয়ালে আরো এক সপ্তাহ কাটানোর মানসিক প্রস্তুতি নেয়াই আছে তার।

    এখন এগুলো রীতি হয়ে গেছে। বাচ্চারাও অভ্যস্থ। গেটের বাইরে জুতা স্প্রে করা, সঙ্গের লাগেজ স্প্রে করা, এটা ওটা যথাস্থানে যথাযথভাবে রাখা, অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মিনিমাম টাচে বাসায় ঢুকা ইত্যাদি ব্যাপারগুলো দরজায় দাঁড়িয়ে ছেলেমেয়েরা পর্যবেক্ষণ করে। ভিন্ন দরজা দিয়ে ঢুকে সোজা বাথরুম, লম্বা একটা সাওয়ার নিয়ে রুমে ঢুকে।

    এর মধ্যে কোন কথা বার্তা নেই। দূর থেকেই বাচ্চারা বাবাকে দেখে। যতদিন হোটেলে থাকে তার খাবারের ছবি পাঠাতে হয় বাচ্চাদের। কি খেলো বাবা তা মোবাইলে দেখে বাচ্চারা।

    আজ টেবিলে চোখ পড়তেই অভিভূত হয়ে যাই ! ইংরেজিতে লেখা Open it after your fresh. বাবার জন্য ছেলেমেয়েদের সারপ্রাইজ। তাদের হাতে বানানো কাগজের এপ্রন, ছাদ থেকে তুলে আনা তাজা ফুল এবং বাবা সম্মন্ধে উচ্চ ধারণা নিয়ে লেখা চিরকুট,,,,,,

    আমার চোখ বেয়ে জল গড়াতে থাকে। নিজেকে আর স্থির রাখতে পারলাম না। একলা ঘরে আঁচলে মুখ ঢেকে বেশ কিছুক্ষণ কাঁদলাম। এমনিতর সময়ের জন্য বেঁচে থাকা আমাদের।

    আল্লাহপাক সুন্দর এক পৃথিবী ফিরিয়ে দিক আমাদের। আমরা জনসমুদ্রে যেনো বুক ভরে নিঃস্বাস নিতে পারি। কোন শিশুসন্তানকে উপযুক্ত না করে যেনো আল্লাহ এতিম না করেন, আমিন!

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১