• শিরোনাম

    কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক মোঃ সরওয়ার হক চৌধুরীর কবিতা “কচু পাতার পানি”

    | ২৭ জুলাই ২০২০


    কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক মোঃ সরওয়ার হক চৌধুরীর কবিতা “কচু পাতার পানি”

    ১.
    খারাপটা পিছু নিয়েছে আবার,
    সবাই ছুটছে নিয়ে যার যার।
    কেহ ইচ্ছে করে হয় না শ্রমবিমুখতা,
    শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রতঙ্গে আশ্রয় নিয়েছে অলসতা।
    তারপরও তোমাদের জন্য শুভ কামনা নিরন্তর,
    মানুষকে ভালবাসার মাটি বড়ই উর্বর।
    মানুষ ছুটতে ছুটতে হারিয়ে ফেলছে পথের দিশা,
    আলো ঝলমল সুন্দর আকাশ সবার আশা।
    মানুষ মানুষকে ভালবাসবে সেটিই প্রেরণা,
    বর্তমান সমাজে খুব বেশি অবর্তমান তাইতো বেদনা।
    মানুষের মন এখন কচু পাতার পানি,
    কখনও ভালো, কখনও মন্দ, কখনও সুযোগ সন্ধানী।
    কষ্টের সাথে বসবাস করতে করতে কখনও চিরনিদ্রায়,
    মানুষের এত কষ্টকে মানবিকতা দেয় না সায়।
    মানবতা হারিয়ে যায় হাজার মানুষের ভীড়ে,
    দুঃখের দিনেও থাকতে পারে না নীড়ে।
    কচু পাতা যখন প্রভাব দেখিয়ে খাবার মেন্যুতে করে নেয় স্থান,
    সবার জীবনের স্বপ্নের স্মৃতিগুলো হয়ে যায় ম্লান।
    কারও জীবনে কখনও সততা খুব বেশি উজ্জ্বল,
    ভোরে প্রবাহমান বাতাস যেমন নির্মল।
    আবার কারও জীবনে বাসা বাঁধে নির্লজ্জ ধূর্তামী,
    সাদা সিধে সাজে মাথায় সুগন্ধি তেল মেখে দিয়ে চিরুনী।
    লোভ দেখিয়ে হৃদয়ে ঢুকে যায় অনায়াসে,
    মানুষকে দেখানোর জন্য তোমাদের বড়ই ভালবাসে।
    ভালবাসার চিকন গলিতে দাঁড়িয়ে তোমাদের দেখাবে এক হাত,
    হৃদয়ে এমন আঘাত দিবে কখনও আর কাটবে না রাত।
    সেটি বুঝতে বুঝতে তোমাদের যাবে বারো মাস,
    সাথে থাকবে না কেউ ফাঁকা হয়ে যাবে আশপাশ।
    হিংসে করবে তোমাদের সম্পদে, তোমাদের সুখে,
    একটুও মানবিকতা নেই তাদের বুকে।
    মানুষ কিসের জন্য, কিসের পিছনে এত ছুটে,
    প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেয় দাঁড়িয়ে মেঠো পথে।
    হারিয়ে যাবে এক সেকেন্ডে যেমন টলমলে কচু পাতার পানি,
    হবে সব শেষ তোমরা যতই করো কানাকানি।

    ২.
    ভালবাসার প্রতিদান দিতে তোমাদের দিবে কথা,
    সেতো কিছু নয় রকমারী ব্যথা।
    জীবনের বাঁকে বাঁকে কখনও হাসাবে কখনও কাঁদাবে,
    যেন সবকিছু তোমাকেই দিয়ে দিবে।
    ফসলের মাঠে সবুজ ক্ষেতের হাঁসি,
    ফসলের ন্যায্য মূল্য নেই বাজে বেদনার বাঁশি।
    আমরাই করি আবাদ, আমরাই বিকি কিনি,
    নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরাই আমাদের চিনি।
    মাথার উপর অনেক ঋণের হুশিয়ারী,
    এরা কারা নিষেধ সত্বেও আমাদের দেখায় বাড়াবাড়ি।
    ব্যর্থতা দিয়েছে জানান আর নয় অবহেলা,
    সকল অপশক্তিকে করবে মোকাবেলা।
    যদি থাকে তোমার মাঝে সত্যের সাধনা,
    রবে না দুঃখ কষ্ট ঘুচবে বেদনা।


    ৩.
    তোমাদের জীবন যখন কচু পাতার পানির মতো টল মল,
    দু’চোখ তখন পানিতে ছল ছল।
    তোমাদের দুঃখে কারও হৃদয়ে নেই কোন আবেগ,
    নিজেকে দেখাতে অর্থের মোহে হারিয়ে যায় বিবেক।
    নামের আগে লেগে যায় অনেক বিশেষণ,
    দেশ প্রেমিকতা নেই, হয়ে যায় দেশপ্রেমিক যে মিথ্যার নেই প্রয়োজন।
    আমাকে লিখতে দিয়েছে, বলতে দিয়েছে আমি মহারাজা,
    ক্ষমতার দাপটে নিজেই নিজের ঢোল বাজা।
    মিথ্যর অন্ধকার মুছে ফেলতে চায় সত্যের ক্ষমতা,
    অসত্যের মাঝে জেগে ওঠা কঠিণ নির্মমতা।
    সত্য মিথ্যার লড়াই হবে একদিন,
    যখন দেশ বিরোধী হয়ে যায় দেশপ্রেমিক যে কষ্ট প্রতিদিন।
    প্রতিদিন খাচ্ছে মিঠাই হাজার তেলবাজ,
    ওরাই বড় নেতা, নষ্ট করে না পাঞ্জাবীর ভাঁজ।
    তেলবাজের তেলেসমাতীতে দেশবিরোধী নেতা মারে তালি,
    কালো টাকা জমেছে তাই পকেট করছে খালি।

    ৪.
    আকাশে এক টুকরো কালো মেঘ উড়ে,
    কষ্ট হয়ে বৃষ্টি ঝরে, কিচির মিচির করতে করতে পাখিগুলো ঘরে ফেরে।
    মেঘের ফাঁক দিয়ে চকচকে রোদ হাঁসে,
    মানুষ থাকবে বেঁচে মানুষকে ভালবেসে।
    ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির সাথে রোদ করে খেলা,
    বৃষ্টিতে ভেজা পাখি আর সারি সারি মেঘের ভেলা।
    আমাদের ভালবাসা যদি হয় কচু পাতার পানি,
    এক ঝাঁক রঙিন পাখি হবে হয়রানি।
    মানুষ যখন অমানুষ হয়,
    সেটিই মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়।
    জেগে উঠবে জনতা ভয়কে করতে জয়,
    রাজপথে আছি, থাকবো, কাপুরুষতা নয়।


    Facebook Comments


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১