• শিরোনাম

    করোনাভাইরাস রাজশাহীর রেশম শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

    দি গাংচিল ডেস্ক | ২৯ আগস্ট ২০২০


    করোনাভাইরাস রাজশাহীর রেশম শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

    দীর্ঘায়িত  করোনভাইরাস (কভিড -১৯) মহামারী পরিস্থিতি রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ব্যবসায়ীরা এবং উদ্যোক্তারা বর্তমানে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি প অস্বাভাবিক হ্রাসপ্রাপ্ত উৎপাদন কে সামনে রেখে তাদের ব্যবসায়ের মারাত্মক  হুমকির মুখোমুখি হচ্ছেন।


    উষা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, পহেলা বৈশাখ ও দুটি ঈদ উৎসব কে  কেন্দ্র করে রেশম ব্যবসা প্রায় বিদ্যমান ছিল কিন্তু এই মহামারী পরিস্থিতি ব্যবসায়কে সর্বনাশ এনে দিয়েছে।

    পহেলা বৈশাখ এবং দুটি ইদের  সময় আমাদের বিক্রয় বেশি হয়। কভিড ১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারণে উৎসব  গুলিতে বিক্রি কমে গেছে । সেই সময়কালের আনুমানিক ক্ষতি প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।


    “প্রতি ঈদ এ  সাধারণত আমরা কয়েক লক্ষের পণ্য বিক্রি করি তবে এবার আমরা খুব কমই ৫০,০০০ টাকার পণ্য বিক্রি করেছি।”

    তিনি বলেন, ফলস্বরূপ আমরা ইতিমধ্যে প্রায় দুই কোটি টাকার লোকসানে করেছি, তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হলে ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখা খুব কঠিন হবে।


    রাজশাহী সোপুরা সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ সুতা থেকে রেশম সুতা ও কাপড় তৈরির মাধ্যমে ১৯৭৯  সাল থেকে রেশম পোশাক তৈরি ও বিক্রয় করে আসছে। সুতা উত্পাদন করার সাথে সঙ্গতি রেখে তারা চীন থেকে অন্যান্য কাঁচামাল আমদানি করে সিল্কের পোশাক তৈরি করে।

    বর্তমানে শোরুম এবং কারখানাগুলি আবার চালু হয়েছে তবে উত্পাদন ও বিক্রয় এ ব্যবসায়ীরা হতাশ। অন্যান্য সিল্ক উত্পাদকদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অনেকে তাদের কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। করোনাভাইরাস উপন্যাসের উত্থান রেশম ব্যবসায়কে বেঁচে থাকার সঙ্কটে ফেলেছে ।

    আর্থিক ও জনবল সংকটের মধ্যেও দেশের রেশম খাতকে উন্নীত করার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা বাংলাদেশ সেরিকালচার ডেভলপমেন্ট বোর্ড (বিএসডিবি) চলছে। তারা দেশের সিল্ক পণ্যগুলির সর্বনিম্ন চাহিদা পূরণ করতে পারছে না  বরং চাহিদা পূরণ করছে বেসরকারী কারখানাগুলো।

    সারা দেশে বিএসডিবি’র অধীনে ১২ টি মিনি-ফাইলেটচার থেকে সুতা নিয়ে, কারখানায় কাপড় তৈরি হয়। তৈরি পোশাকগুলি বিএসডিবির শো-রুমগুলিতে প্রদর্শিত হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরেও রাজশাহী রেশম কারখানাগুলিতে ৩৮ টি তাঁত পুনরায় চালুর  জন্য মেরামত করা হয়েছে।

    বিএসডিবির মহাপরিচালক আবদুল হাকিম বলেছেন, ২০১২-২০১৮ অর্থবছরে ১২ মিনি-ফাইলেটচার থেকে সুতা ব্যবহার করে ৪৭৭০ মিটার কাপড় তৈরি করা হয়েছিল। মহামারী জনিত পরিস্থিতি সত্ত্বেও গত জুলাই মাসেও কারখানাগুলি ৪০০  মিটার কাপড় উত্পাদন করেছিল।

    কারখানার ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, ১২  মিনি-ফাইলেটারের সুতা দিয়ে কাপড় তৈরি করার পরে এগুলি বিএসডিবির শো-রুমের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। বাংলাদেশ সিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, রেশম শিল্প দুটি পর্যায়ে কাজ করে। পোকামাকড় থেকে সুতা এক পর্যায়ে উত্পাদিত হয় এবং অন্য পর্যায়ে কাপড়গুলি সুতা থেকে তৈরি করা হয়। প্রায় ৪০,০০০ কর্মচারী ও শ্রমিক কেবল রাজশাহী অঞ্চলে এই শিল্পের সাথে জড়িত।

    তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার শ্রমিক সুতা উৎপাদনে নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু কর্নাভাইরাসজনিত কারণে এই শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছে। সারাদেশে এক লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শিল্পটি মারাত্মক সংকটে পড়েছে, তিনি বলেছিলেন।

    লিয়াকাত বলেছিলেন, সারা দেশে রেশম শিল্পে  করোনাভাইরাস এর প্রাদুর্ভাবের ফলে লোকসানের পরিমাণ প্রায়৩০০  কোটি টাকা হবে ।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    দেশ এগিয়ে গেছে বহুদূর

    ১৮ জানুয়ারি ২০২১

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১