• শিরোনাম

    কোভিড-১৯ ও বাংলাদেশ

    অমৃতস্য সাগর,গোহাটি,আসাম,ভারত। | ১১ জুলাই ২০২০


    কোভিড-১৯ ও বাংলাদেশ

    নিজেকে ছড়িয়ে দেবার জন্য, ধর্মেরও টিকে থাকার জন্য দরকার হয় এক গাদা অনুগত বান্দা এবং সেবকের, যাদের বুকে আশ্রয় করে ধর্ম টিকে থাকে। শুধু তাই নয়, জীবাণু যেমন নিজেকে রক্ষার জন্য অন্য জীবাণুর সাথে প্রতিযোগিতা করে, ঠিক তেমনি এক বিশ্বাসও প্রতিযোগিতা করে অন্য বিশ্বাসের সাথে।

    নিজেকে অন্য বিশ্বাসের হাত থেকে রক্ষা করতে চায়। বিশ্বাসী বান্দাদের মনে ঢুকিয়ে দেয়া হয় – ‘অবিশ্বাসীদের কিংবা বিধর্মীদের কথা বেশি শুনতে যেয়ো না, ঈমান আমান নষ্ট হয়ে যাবে।’

    বলা হচ্ছে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস এবং মোল্লা গোষ্ঠী তথা মুমিনদের নিয়ে। আসলে ধর্ম কী? ধর্ম হচ্ছে যা মানুষকে ধারণ করে। কিন্তু আমরা এর উল্টোটাই কিন্তু দেখতে পাচ্ছি এখন। ধর্মকে মানুষ ধারণ করে বসে আছে। তিনি হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ-ইহুদি যাই হোন না কেন, কুসংস্কার আর অপসংস্কৃতিগুলো সাধারণ মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে জীবন ব্যতিব্যস্ত করে তুলছে।


    মানুষ তার চিন্তাশক্তি হারাচ্ছে, কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে। কর্মই যে জীবনের একমাত্র ধর্ম, সে কথা ধর্ম্মান্ধরা নিজেরাও ভুলেছে, ভুলিয়েছে মানুষকেও। এরা প্রত্যেকে একটা দৈবিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল।

    বাংলাদেশে ওয়াজ-মাহফিলগুলো একেবারে ধ্বংস করে ফেলেছে। ওয়াজে বরাবর বলা হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া কোন ভাইরাসকে তারা ভয় করেন না। ওয়াজকারীরা বিভ্রান্ত করে তুলছেন জনমণ। জন-জমায়েত করে চিকিতসাশাস্ত্রের বিরুদ্ধে কথাগুলো বলে বেড়াচ্ছেন। সেখানে কোন বিজ্ঞান ভিত্তি নেই। করোনাভাইরাস নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করছেন। তারা বলছেন, চিন মুসলিমদের ওপর নির্মমভাবে নির্যাতন করছে, আর তাই সে দেশে আল্লার গজবে করোনাভাইয়ারস ছড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, ইতালির কথাও। নাস্তিকরা ইতালিতে বহু বেশি পরিমাণে বসবাস করেন, আর তাই নাকি করোনা সংহার ঘটছে সে দেশে। এমনটাই হওয়ার কথা ওয়াজকারীদের জন্যে! ওয়াজে দাবি করা হয়েছিল মুসলিমদের কখনো করোনাভাইরাস আক্রমণ করে না।


    বাংলার ওয়াজকারীরা মুসলিমদের নিষেধ করছেন মুসলিমদের মাস্ক ব্যবহার করতে। “কোন হুজুর আজ পর্যন্ত মাস্ক লাগাননি। সুতরাং আপনারা সাধারণ মানুষ। মাস্ক লাগাবেন না। মুখে ফুঁ দিয়ে বেরিয়ে যান”! কিন্তু আমরা কী দেখছি বাংলাদেশে এখন লক্ষেরও উপর মানুষ করোনাক্রান্ত হয়েছে! সাধারণ মানুষ না বুঝে ঈদের সময় ভয়ংকরভাবে ভিড় করেছে বাজারে! এই দৃশ্য রীতিমতো আতংকিত করে তুলেছিল বিশেষজ্ঞদের।

    বাংলাদেশের একজন সাধারণ মানুষ গাংচিলের সাংবাদিককে জানাচ্ছেন, “আমরা বাঁচতে পারছি না এই দেশে। ভয়ংকর একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশের ওয়াজকারীরা”। আমরা দেখেছি এর আগে নির্মম ঘটনাটি যে, বাউল সম্রাট রণেশের যুগ যুগ পুরনো বাউল গানের কপি এবং ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতিরা। আসলে বর্তমান বাংলাদেশে এমন মৌলবাদ আর অপসংস্কৃতি বিরাজ করছে। বাংলার আভিজাত্য, বাংলার সংস্কৃতি এখন ওয়াজ-মাহফিলে পরিণত হয়েছে।


    যে কোন আলোচনায়, যে কোন স্থানে মতভেদ থাকতেই পারে, মতভেদ থেকেই একটি সুন্দর; শ্লীল গাছের জন্ম হয়। কিন্তু এখন আর দেশে মতভেদের কোন জায়গা নেই। মৌলবাদ ছাড়া কোন বাদ চলবে না। চললেই তাঁকে কুপিয়ে মারা হবে! সামান্য মতবিরোধেই সে দেশে প্রাণ হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ! আমরা কোন পোড়ামাটির ওপর দাঁড়িয়ে? কবে পাবো ফিরে বাংলার সংস্কৃতি?

    অমৃতস্য সাগর,গোহাটি,আসাম,ভারত।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১