• শিরোনাম

    মিশরের সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রার জীবন : তানজিনা তাজিন

    তানজিনা তাজিন | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০


    মিশরের সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রার জীবন : তানজিনা তাজিন

    মিশরের সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রা

    ক্লিওপেট্রা এমন একটা নাম যিনি মধ্য-পূর্ব ইউরোপ, মিশর এবং আফ্রিকার রাজনীতিতে অনেক বড় প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন।

    যার মৃত্যুর ২০০০ বছর পরেও ইতিহাস তাকে আলাদা ভাবে চর্চা করে আসছে। ইতিহাস বর্ণনা করে যে ক্লিওপেট্রা খুব সুন্দর ছিলেন।


    এতটাই সুন্দর ছিলেন যে, যে কোনো ব্যাক্তি তাকে একবার দেখলে সারাজীবন তার সৌন্দর্য ভুলতে পারবে না। প্রকৃতিই তার উপর অস্বাভাবিক সৌন্দর্য বর্ষণ করেছিল।

    ইতিহাসে আরো বর্ণনা রয়েছে যে,তার জন্মের আগেও ছয়জন ক্লিওপেট্রা ছিলেন কিন্তু রানী সপ্তম ক্লিওপেট্রা যেমন ছিলেন সৌন্দর্যে অতুলনীয়, তেমনি তার জীবন ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর।তিনি চতুর, ষড়যন্ত্রকারী ও ভয়ানক ছিলেন এবং তিনি ক্ষমতার লোভে যে ধরণের কাজগুলি করেছেন তা আমরা ভাবতেও পারি না।


    ক্ষমতার লোভে তিনি তার সারা জীবনে বেশ কয়েকজন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।ক্লিওপেট্রা সপ্তম এর জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ৬৯ সালে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে হয়েছিল। ক্লিওপেট্রা একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ “পিতার গৌরব (Glory of Father)”। ক্লিওপেট্রার যখন ১৭ বছর বয়স তখন তার পিতা টলেমি দ্বাদশ এর মৃত্যু হয়। ক্লিওপেট্রার পিতা একজন রাজা ছিলেন তার মৃত্যুর পর সাম্রাজ্যটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় ক্লিওপেট্রা সপ্তম ও তার ভাই টলেমি ত্রয়োদশ এর মধ্যে।

    প্রাচীন মিশরীয় পরম্পরা অনুসারে তিনি তার নিজের ভাই এর স্ত্রী হবে।বিয়ের পর ক্লিওপেট্রা ও তার ভাইয়ের মধ্যকার সম্পর্ক সুখকর ছিল না টলেমি ষড়যন্ত্র করে ক্লিওপেট্রাকে মিশর থেকে বিতাড়িত করে একাই রাজ্য শাসন করতে থাকেন।কিন্তু ক্লিওপেট্রা রাজ্য পুনরুদ্ধারের আত্মবিশ্বাস হারাননি।


    ক্লিওপেট্রার অজ্ঞাতবাস অবস্থায় তিনি জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে দেখা করেন। জুলিয়াস সিজার রোমান সম্রাট ছিলেন, তিনি ক্লিওপেট্রাকে দেখার সঙ্গেই ক্লিওপেট্রার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন। ক্লিওপেট্রাও জুলিয়াস সিজারকে তার সৌন্দর্যের মায়াজালে ফাঁসিয়ে নেন। ক্লিওপেট্রা জুলিয়াস সিজারকে সবকিছু দিয়েছে যা চেয়েছে তার বদলে সে সিজারকে মিশরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য রাজি করেছেন। ঠিক তাই হয়েছে সিজার টলেমিকে পরাজিত করে ক্লিওপেট্রাকে মিশরের সম্রাজ্ঞী বানান। এটাই ছিল ক্লিওপেট্রার রাজনীতিতে আসার ও ক্ষমতা পাওয়ার প্রথম ধাপ।

    মিশরীয় প্রথা অনুসারে রাজার ভাই বোনকে বিবাহ করতে হয়, ক্লিওপেট্রাকে তার আরেক ছোট ভাইকে বিবাহ করতে হয়। কিন্তু ক্লিওপেট্রা একাই ক্ষমতার অধিকারী হতে চেয়েছিলেন তাই তিনি তার ভাইকে হত্যা করেন ও আরেকজন ছোট বোন ছিল তাকেও বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলেন।

    জুলিয়াস সিজার ক্লিওপেট্রাকে বিবাহ করে রোমান সাম্রাজ্যের মহারানী ঘোষণা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রোমান প্রজা এর বিরুদ্ধে ছিল, ফলে ক্লিওপেট্রা রোমের মহারানী হতে পারেনি। সিজারের কাছ থেকে ক্লিওপেট্রা একটি পুত্র সন্তান লাভ করেন।

    ক্লিওপেট্রা চেয়েছিলেন তার সাম্রাজ্য যেন মিশর থেকে রোমান পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে আর তিনি রোমান সাম্রাজ্যের মহারানী হতে পারেন। বিচার-বিবেচনা করে তিনি জুলিয়াস সিজারের খুব কাছের লোক এন্টোনিও-কে নিজের সৌন্দের্যের মায়াজালে ফাঁসান। এন্টোনিও-কে বিবাহ করেন, তিন সন্তানের মা হন এবং সময় এলে এন্টোনিওর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে জুলিয়াস সিজারকে হত্যা করেন।

    জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পর রোমান সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে সিজারের পুত্র অষ্টেলিয়ান সিজার হবে এটাই পরম্পরা।

    কিন্তু এন্টোনিও ও তার সঙ্গীরা এর প্রচন্ড বিরুদ্ধ করেন তার সঙ্গ দেন ক্লিওপেট্রাও। ক্লিওপেট্রা ও এন্টোনিও একসঙ্গে অষ্টেলিয়ান সিজারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু অষ্টেলিয়ান সিজারের সেনাবাহিনীর সামনে কেউ দাঁড়াতে পারেনি শেষমেষ ক্লিওপেট্রা তার ৭০টি জাহাজ নিয়ে মিশর ফিরে আসেন। পরে এন্টোনিও মিশরে চলে আসেন।

    এদিকে অষ্টেলিয়ান সিজার যেকোনো মূল্যে বিশ্বাসঘাতক এন্টোনিওকে শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন, তিনি ক্লিওপেট্রাকে লোভ দেখিয়ে নিজের দিকে করে নেন এবং ষড়যন্ত্র করে আলেকজান্দ্রিয়া শহরে এন্টোনিওকে হত্যা করেন।এন্টোনিওকে হত্যা করার পর ক্লিওপেট্রা আবার নতুন করে জাল বুনতে শুরু করেন। তিনি অষ্টেলিয়ান সিজারকে নিজের মায়াজালে ফাঁসাতে চেষ্টা করেন এবং রোমান সাম্রাজ্যের মহারানী হয়ে নিজের স্বপ্ন পূরন করতে চেয়েছিলেন।

    কিন্তু অষ্টেলিয়ান সিজার ক্লিওপেট্রার জালে পা দেননি। তিনি ক্লিওপেট্রার সঙ্গে তেমনি ব্যবহার করেছেন যেমনটা একজন শত্রুর সঙ্গে করা উচিত। তিনি মিশর আক্রমণ করেন এবং ক্লিওপেট্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।

    রানী ক্লিওপেট্রা মাত্র ৩৯ বছর তিনি বেঁচে ছিলেন। এই স্বল্প সময়েই তিনি একের পর এক নাটকীয় ঘটনার সৃষ্টি করেন। সে যুগের কোনো পুরুষের পক্ষেও যে ধরনের কাজ করা ছিল প্রায় অসম্ভব অথচ তিনি সেসব কাজ‌গুলি করেছেন বিনাবা‌ধায়।

    রাজনৈতিক কারণেই হোক আর বিপদে পড়েই হোক, প্রথমে সিজার ও পরে তিনি অ্যান্টনিওকে বিয়ে করেন। কিন্তু অক্টাভিয়ান অ্যান্টনিওকে পরাজয় করার পর তিনি বেশ ভেঙ্গে পড়েন। তবে ক্লিওপেট্রা অক্টাভিয়ানকে সম্মানিত করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পুরোপুরি ব্যর্থ হন।

    ক্লিওপেট্রা বুঝতে পারলেন অক্টাভিয়ান তাকে লাঞ্ছিত করবে। অপমানের আশঙ্কায় তিনি ভেঙ্গে পড়েন।এই অপমানের চেয়ে মৃত্যুই তার কাছে শ্রেয় মনে হলো। তাই রাজকীয় প্রথা অনুসারে বিষধর গোখড়া সাপের বিষ দ্বারা আত্মহত্যা করেন। ওই সময়ে মিশরে মনে করা হতো সাপের কামড়ে মারা যাওয়া মানুষ অমরত্ব লাভ করে। তাই ক্লিওপেট্রা সে পথই বেছে নিয়েছিলেন। দিনটি ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৩০ সালের ৩০ আগস্ট।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১