• শিরোনাম

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ‘মডেল’ রূপ দেয়া হচ্ছে!

    | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০


    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ‘মডেল’ রূপ দেয়া হচ্ছে!

    ‘মডেল’ রূপ পাচ্ছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৩১ বছর পর নতুন রুপে সাজতে যাচ্ছে খুলনাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবার বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।  ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সঙ্গে সভা করেছেন সি-জে মডেল রেপ্লিকেশন বাস্তবায়ন কমিটি।

    ‘মডেল’ রূপ দেয়া সম্ভব হলে এ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে দুর্নীতি ও রোগি হয়রানি কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ঠরা। জনবল সংকট দূরীকরণসহ স্থানীয় কমিউনিটিকে কাজে লাগিয়ে হাসপাতালটিকে একটি ‘জনবান্ধব’ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।


    সি-জে অর্থাৎ যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং জিনাইদহ জেলা জেনারেল হাসপাতালকে ‘মডেল’ ধরে তার আদলেই সরকার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকেও ‘মডেল’ হাসপাতালে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

    খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান ইতোমধ্যে তারা এর প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু করেছেন। এ হাসপাতালে সবকিছুই রয়েছে কিন্তু সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততার অভাব চোখে পড়ার মত। স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে ‘কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপ’ গঠনের মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানটিকে ‘মডেল’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


    এদিকে, খুমেককে ‘মডেল’ রূপ দিতে সি-জে মডেল রেপ্লিকেশন বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে একটি টিম বুধবার হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। দিনব্যাপী হাসপাতালে অবস্থান করে তারা চিকিৎসক-নার্স, বিভাগ ও ইউনিট প্রধান, আর.পি, আর.এস, আর.এম. ও, ই.এম.ও, ইনচার্জ, সহকারি রেজিস্ট্রার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উপ-সেবা তত্বাবধায়ক, নার্সিং সুপারভাইজার, নার্সিং কর্মকর্তা, পরিসংখ্যানবিদ, ওয়ার্ড মাস্টারসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি, সাংবাদিক, রাজনীতিক, সিভিল সোসাইটি এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সার্বিক সমস্যা-সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।

    এ সময় সি-জে মডেল রেপ্লিকেশন বাস্তবায়ন কমিটির ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ও আদ্ব-দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক ও আইসিডিডিআরবি’র চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. ইকবাল আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।


    এ বিষয়ে বুধবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সি-জে মডেল রেপ্লিকেশন বাস্তবায়ন কমিটির ন্যাশনাল কনসালটেন্ট  ডা. ইমদাদুল হক বলেন, তিনি এবং খুমেক হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দারের হাতেই চৌগাছা ও ঝিনাইদহ হাসপাতাল ‘মডেল’ রূপ পেয়েছে। তাদের সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকেও তারা ‘মডেল’ রূপ দিতে চান। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের মানসিকতায় পরিবর্তন এনে ‘সৎ ও আন্তরিক’ হওয়ার আহবান জানান তিনি।

    খুমেক পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার বলেন, তিনি নিজে দুর্নীতি করেন না, দুর্নীতিকে প্রশ্রয়ও দেন না। আর এ কারণেই ‘মডেল’ রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা মাথায় রেখেই বিষয়টিকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

    প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ৩১ বছর আড়ে ১৯৮৯ সালের ১৮ জানুয়ারি নগরীর বয়রা এলাকায় ৪০ দশমিক ২৫ একর জমির ওপর ৭৫ শয্যা বিশিষ্ট ‘খুলনা হাসপাতাল’ নামে যাত্রা শুরু করে। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পরবর্তীতে এই হাসপাতালকে ঘিরে প্রতিষ্ঠা করা হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ। সেই থেকে ২৫০ শয্যার এই খুলনা হাসপাতালটি ‘খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল’ বলে পরিচিতি লাভ করে। জন্ম থেকেই হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালটির সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হলেও কার্যত: কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়নি। হাসপাতালটি ২০০৮ সালে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও অদ্যাবধি এর জন্য কোনো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। ২৫০ শয্যার জন্য নির্ধারিত জনবল দিয়েই চলছে হাজারো রোগীর চিকিৎসা সেবা।

    হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগের সূত্র জানান, ৫০০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনার জন্য চিকিৎসকসহ কমপক্ষে ১ হাজার ৬৫০ জনবল প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসক-কর্মকর্তাসহ মঞ্জুরিকৃত মোট পদ আছে ৮৯৭ জনের। এর মধ্যে ২০১টি পদ শূণ্য রয়েছে। চিকিৎসক ও জনবল সংকটে কাংখিত সেবায় ব্যহত হচ্ছে। গত তিন দশকেও পূর্ণতা পায়নি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রয়োজনীয় জনবল অবকাঠামোর এক চতুর্থাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই চলছে এ হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে আটশ/নয়শ রোগী ভর্তি থাকে। আউটডোরে আসে প্রতিদিন ৩/৪শ রোগী। এতো রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক-সেবিকাসহ অন্যান্যদের। এখানে ৫০০ বেডের রোগীদের জন্য খাবার, বিছানাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা থাকলেও ৫০০ শয্যার অতিরিক্ত ভর্তি রোগীরা বেড পায় না। বারান্দার মেঝেতে বিছানা নিয়ে তাদের চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়।

    খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সী মো. রেজা সেকেন্দার বলেন, হাসপাতালটি জনবল সংকটে আছে দীর্ঘদিন। স্বল্প জনবল দিয়ে অধিক মানুষকে সেবা দিতে হচ্ছে। অনেকে বারান্দায় সেবা নিচ্ছে। তারপরও আমরা শতভাগ চেষ্টা করে যাচ্ছি রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য।

    সূত্রঃ দৈনিক প্রবাহ

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১