• শিরোনাম

    আমি একা নই – প্রবীণ কলম বন্ধু : চিঠি নং:০২

    একশত পঞ্চবিংশতি চাণক্য-সূক্তি : গণেশ হালদার

    রুমা হালদার | ১৯ জুন ২০২০


    একশত পঞ্চবিংশতি চাণক্য-সূক্তি : গণেশ হালদার

    চিঠি ন: ০২

    লেখক পরিচিতি: গণেশ হালদার (৭৯) মাদারীপুর জেলার নবগ্রাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।


    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৬৫ সালে গণিত শাস্ত্রে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

    দীর্ঘ ৪৫ বছর কলেজের অধ্যাপনা শেষে ২০০৬ সালে অবসরে যান। বর্তমানে পড়াশুনা এবং সমাজ সেবামূলক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।


    এর ফাঁকে ফাঁঁকে রাজনীতিতেও অংশগ্রহণ করেন। প্রাক্তন এই সংসদ সদস্য একশত পঞ্চবিংশতি চাণক্য-সূক্তি ্ও রকমারী সংগ্রহ নামের দুটি বই লিখেছেন। বতর্মানে আরো একটি বই লেখায় উদ্যোগেী হয়েছেন।

    একশত পঞ্চবিংশতি চাণক্য-সূক্তি: গণেশ হালদার


    দৈনন্দিন জীবনে একান্তভাবে অনুসরণীয় ও স্মরণযোগ্য মূল সংস্কৃত ভাষা হতে একশত পঞ্চবিংশতি চাণক্য-সূক্তি, খনার বচন, মনীষীদের বাণী এবং গ্রাম্য-প্রবাদ টিকা ভাষাসহ বঙ্গানুবাদ সম্বলিত অনন্য সংগ্রহ গ্রন্থ।

    এই বইটি লেখার জন্য আমাকে বেদ উপনিষদ, বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ, খনার জীবনী, আঞ্চলিক প্রবাদ সংগ্রহ করতে হয়েছে। চাণক্য, খনা বা অন্যান্যসূত্র থেকে দু’পাঁচটি সূক্ত সকলেরই মনে থাকে। আমি এই বইটিতে ১২০টি সূক্ত একত্রে রেখেছি। লোক সংস্কৃতি নিয়ে যারা গবেষণা করছেন ও শিক্ষার্থী রয়েছে তাদের জন্য এই বইটি খুবই প্রয়োজনীয় সংকলন। সাধারণ পাঠকেরা চাণক্য ও খনার জীবন কথা প্রায় জানেই না। এই বইটিতে তাদের ভাবনার নিরসন হবে।

    একশত পঞ্চবিংশতি চাণক্য-সূক্তি – এই বইটি আমার লিখিত প্রথম বই। এই বইয়ের দু’টি পর্বে দশটি ভাগের মাধ্যমে চাণক্য ও খনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। প্রথম পর্বের প্রথম ভাগে রেখেছি চাণক্য পরিচয়।

    চাণক্যের ছোট বেলার বিশ্বাস ছিলো- সুখার্থী বা ত্যাজেদ্বিদং, বিদ্যার্থী বা ত্যজেৎ সুখম্। অর্থাৎ, পৃথিবীতে দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয়না। সুখ, সুবিধা, বিদ্যা একসাথে থাকেনা, সাফল্য পেতে হলে কষ্ট করতে হয়। তার মতানুসারে প্রথম বয়সে বিদ্যাশিক্ষা, যৌবনে অর্থোপার্জন, পৌঁড়কালে পুণ্য কাজ না করলে বার্ধ্যক্যে কষ্ট করতে হয়।

    দ্বিতীয় ভাগে চাণক্যের বিদ্যা-বিষয়ক আলোচনা করেছি – উৎসবে, ব্যসনে, দৈব, দুর্ভিক্ষে রাষ্ট্রবিপ্লবে – সূক্তিসমূহ। রাজদ্বারে শ্মশানেচাযন্তিষ্ঠাতি স: বান্দব।। অর্থাৎ, আনন্দে, বেদনায়, অভাব অনটনে, রাষ্ট্র্রীয় গোলযোগে জেলজুলুমে অত্যাচারে, মৃত্যুকালে যে কাছে থাকে সেই প্রকৃত বন্ধু।

    এবং তৃতীয় ভাগে চাণক্য সুখের পথের উল্ল্খে করেছি এভাবে – অনাগত বিধাতাপ্রত্যুৎপন্নমতিস্তথা। দ্বাধেদি সুখষেতে সদ্ভবিষ্যোবিনাশ্যাৎ। অর্থাৎ, যিনি প্রতুৎপন্নমতি সম্পন্ন অর্থাৎ উপস্থিত বুদ্ধি দ্বারা ভবিষ্যৎ প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে পারেন- তিনি সুখী: আর যে ভাগ্যের উপর নির্ভর করে বসে থাকে সে দু:খ কষ্টে নি:শেষ হয়ে যায়।

    কালস্য কুটিলাগতি। অর্থৎ, সেই কালের বিবর্তনে অনেক কিছ হারিয়ে যায়। আবার কিছু কিছু স্বমহিমায় ভাস্বর হয়ে থাকে। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে মহামুনি চাণক্য বিরচিত সূক্তি, স্বভাব জ্যোতিষী খনার বচন, প্রখ্যাত মণীষীদের বাণী এবং অভিজ্ঞতা লব্দ গ্রাম্য প্রবাদ কালোতীর্ণ সম্পদ। চাণক্য যুগ¯স্রষ্টা, খনা ভবিষ্যতদ্রষ্টা, মাণীষীগণ প্রেরণার উৎস ও গ্রাম্য প্রবাদ রসিক জনের রস নিঃস্যন্দ এই বইটি।


    এই বইয়ের দ্বিতীয় ভাগে আমি একশত পঞ্চবিংশতিতে খনার বচন উল্লেখ করেছি। দ্বিতীয়ভাগের পর্বগুলো কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করেছি। প্রথম থেকে পঞ্চমভাগ পর্যন্ত খনার পরিচয়সহ আমাদের দেশের কৃষিক্ষেত্রে, ঝড় বৃষ্টিতে, নারীর সস্পর্কে, যাত্রাকালে ক্ষণ নিরূপণ করার চেষ্টা করেছি।

    সেই অতীত কাল থেকে এখনো খনার বচনকে সঠিক ও অকাট্য বলে মনে করা হয়। খনার বচন দেশের আবহাওয়া ও নৈসর্গিক ব্যবস্থাপনায় আগাম বার্তা হিসেবে মেনে নেয় যেমন- অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা করে খনা বলেছিলেন ’’চৈত্রে কাঁপে থর থর। বৈশাখেতে ঝড়ে পাথর।

    জ্যৈষ্ঠেতে তারা ছোটে তবেই হবে বর্ষা বটে।।’’ অর্থাৎ, যে বছর চৈত্র মাসে শীত অনুভূত হয় শীতে শরীর কাপঁতে থাকে, সে বছর অতিরিক্ত বৃষ্টি বন্যা হবার সম্ভাবনা থাকে।

    বাংলার প্রকৃতির সাথে যুগে যুগে খনা এবং চাণক্যের বক্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

    যার সাথে রয়েছে প্রকৃতির অপূর্ব মিল। দৈনন্দিন জীবনে একান্তভাবে অনুসরণীয় ও স্মরণযোগ্য মূল সংস্কৃত ভাষা হতে একশত পঞ্চবিংশতি চাণক্যসূক্তি, খনার বচন, মণীষীদের কথা ও গ্রাম্য প্রবাদ টিকাভাষ্যসহ বঙ্গানুবাদ সম্বলিত একখানি অনন্য সংগ্রহ গ্রন্থ। তাই আমি বলতে চাই একশত পঞ্চবিংশতি চাণক্য-সূক্তি নামক বইটি সকলের পড়া উচিত, জানা উচিত। আশা করছি এই বইটি সকলে পড়বেন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১