• শিরোনাম

    গল্প: করোনা এবং জোহরার প্রতীক্ষা

    গাংচিল ডেস্ক | ১০ আগস্ট ২০২০


    গল্প: করোনা এবং জোহরার প্রতীক্ষা

    আজকাল খুব মন খারাপ হলেও জোহরার চোখে আর পানি আসেনা। দিন দিন কেমন যেন বোধহীন হয়ে পড়ছে সে। কি এক রোগ এসেছে “করোনা ” , তার বাড়ি যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। আজকে প্রায় ২ বছর হল বাড়ি যায়না জোহরা।

    এবার রোজার ঈদে খালাম্মাকে বলাতে উনি বলেছিলেন “করোনার মাঝে তোকে কিভাবে পাঠাবো? একটু অপেক্ষা কর। “করোনা সংক্রমণ কমার তো কোনো লক্ষনই নেই, দিন দিন বেড়েই চলছে। কোরবানির ঈদে বাড়ি যাওয়া একরকম ঠিক হয়েই গিয়েছিলো, শেষ মুহূর্তে খালাম্মা মত পাল্টালেন যে তাকে পাঠাবেন না।


    আবারো নাকি করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে , ইচ্ছে করেই যেন প্রতিদিন দুপুর আড়াইটার করোনা বুলেটিন টা ইচ্ছে করে জোর ভলিউম এ চালিয়ে রাখেন আর মাথা নাড়তে নাড়তে বলেন “দেখেছিস জোহরা, আজকেও কতজন লোক মারা গেলো, বলতো কিভাবে তোকে পাঠাই, অবস্থা দেখে তো মনে হচ্ছেনা এই বছর করোনা যাবে ,তুই বরং এখন না গিয়ে ডিসেম্বর এ একমাস বেড়িয়ে আসিস। ”

    জোহরার গলা ছেড়ে কাঁদতে মন চাইছিলো কিন্তু কান্নার দমকটা গলা পাকিয়ে আটকে গেলো ,গলায় কেমন যেন জ্বালা করতে লাগলো কিন্তু জোহরার গলা দিয়ে একটা কথাও বের হলোনা। কারণ সে জানে , এখন না যেতে পারলে ডিসেম্বর এ আরো যেতে পারবেনা কারণ ২০২১ সালের জানুয়ারী তে মেজো আপুর বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে আছে , বাসায় অনেক মেহমান আসবে , বিয়ে বাড়িতে কতরকম কাজ থাকে, সেই ঝামেলায় খালাম্মা আরো যেতে দেবেননা তখন বলাই বাহুল্য। এই বিষয়ে কথা বলতে গেলেই মেজো আপুর থাপ্পড় খেতে হবে নির্ঘাত।


    এইতো কাল সময়মতো মেজো আপু কে গ্রীন টি না বানিয়ে দেবার অপরাধে এমন জোরে চড় কষালো!!! করোনা কালে সবাই লকডাউন এ বাসায় থাকায় জোহরার এখন একদণ্ড দম নেয়ার ফুরসৎ নেই , সারাদিন সবার ফাই ফরমাশ খাটতে হয় , একটু পর পর “এটা দে, ওটা দে , মাথায় তেল দিয়ে দে, নুডলস বানিয়ে দে , কাপড় ইস্ত্রি করে দে, ম্যালা ঝক্কি , পাশাপাশি অন্য গৃহস্থালী কাজ তো আছেই , করোনা র কারণে ছুটা বুয়ার আসাও বন্ধ। খালাম্মা হাঁটুর ব্যাথার কারণে তেমন কাজ করতে পারেননা। মেয়েরাও অলস টাইপের । জোহরা কে ফরমাশ দিয়েই সব করায়।

    খালাম্মার মনে জোহরার জন্য মায়া আছে জোহরা বোঝে , করোনার আগে উনি সারাদিন একাই বাসায় থাকতেন , বড়ো আপু বিদেশে থাকেন , মেজো আপু মাস্টার্স করছেন আর ছোট আপু ক্যাডেট কলেজ এ পড়েন , জোহরার সাথেই সুখ দুঃখের কথা বলেন খালাম্মা। মেয়েদের সাথে জোহরার পক্ষ নিয়ে কিছু বলতে গেলে মেয়েরা রেগে যায়। মা কে বলে ‘ জোহরা ই তো তোমার সব , আমরা তো কিছুনা। ” খালুও মেয়েদের পক্ষ নিয়ে খালাম্মাকে বকাঝকা করেন। তাই খালাম্মাও সংসারের শান্তির জন্য বেশি কথা বাড়ান না। আজ বাড়ি থেকে মায়ের ফোন আসার পর থেকে জোহরার মন খুব এ খারাপ। মাস দুয়েক হলো মায়ের শরীর ভালো যাচ্ছেনা , খুব করে বলছেন তাকে যেতে। কিন্তু করোনার সময়ে সে কি করে বাড়ি যাবে ? সঙ্গত কারণেই তার আকুতি শুনার ও কেউ নেই। চোখের পানি চোখেই শুকিয়ে যায়।


    এভাবেই করোনা কালে কাটছে হাজারো জোহরার জীবন। বাড়ি যাওয়ার আশায় প্রতিদিন নতুন করে স্বপ্ন দেখছে , এই বুঝি পরিস্থিতি ভালো হবে , কিন্তু আমাদের অসচেতনতা তাদের প্রতীক্ষা বাড়িয়েই চলেছে, দীর্ঘতর হচ্ছে তাদের হাহাকার।।।।।

     

    লেখকঃ সোমা কবির

    ঢাকা

     

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১