• শিরোনাম

    গল্প : পরিতৃপ্তি

    গাংচিল ডেস্ক | ১৪ আগস্ট ২০২০


    গল্প : পরিতৃপ্তি

    সকাল থেকেই আজ নীরার মেজাজ খিটখিটে হয়ে আছে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম অবস্থায় অফিসের কাজের প্রেসার আরও ভয়াবহ, রুটিন বলে কিছু নেই , এর মাঝে করোনার কারণে ছুটা বুয়াও নেই , গৃহস্থালি কাজগুলো ও করতে হচ্ছে সমানতালে। সবমিলিয়ে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। নীরার হাসব্যান্ড রুশদী এমনিতে খুব সাপোর্টিভ , ঘরের কাজগুলোতে নীরা কে যতটা সম্ভব সাহায্য করে , কিন্তু খামখেয়ালি স্বভাবের কারণে মাঝে মাঝে দুজনের মাঝে ঝগড়া লেগে যায়, রুশদী দেখা গেলো গোসল করে ভেজা তোয়ালে টা বিছানার উপর রেখে দেবে, নয়তো ওয়াশরুম এর স্যান্ডেল পরেই ছাদ থেকে ঘুরে এসে সেই স্যান্ডেল পরেই আবার ওয়াশরুম এ ঢুকে টাইলস নোংরা করে ফেলবে , যেসব কাজ নীরা দুচোখে দেখতে পারেনা। বাবার দেখাদেখি তাদের ৭ বছরের মেয়ে শ্রেয়াও হয়েছে অগোছালো , এখানে খেলার পুতুল ছড়িয়ে রাখছে, তো ডাইনিং টেবিল এর উপর রং করার বই পরে আছে। গোছাতে গোছাতে নীরা বিরক্ত হয়ে যায়। এখন আবার আবদার করছে শ্রেয়া , তার অষ্টম জন্মদিন ধুমধাম করে পালন করতে হবে।

    প্রতি বছর জন্মদিন নিয়ে মেয়েটা ভীষণ রকম উত্তেজিত থাকে, নীরাও চেষ্টা করে শ্রেয়ার স্কুল এর বন্ধুদের নিয়ে ছোট করে হলেও গেট টুগেদার করতে। কিন্তু এবার করোনার কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রেয়া বায়না ধরেছে এবার আত্মীয় স্বজন দের বাসায় দাওয়াত দিয়ে জন্মদিন করতে হবে। নীরা আর রুশদি এবার একেবারেই চাইছিলনা জন্মদিন করতে কারণ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এই পরিস্থিতিতে খুবই জরুরি। কিন্তু মেয়েটা হয়েছে এমন জেদি যে কোনোভাবেই মানতে চাইছেনা , নীরা খুব করে বুঝিয়েছে মেয়েকে ,
    “মামনি, এখন করোনার জন্য সবকিছু বন্ধ , এইসময় কত মানুষ ৩ বেলা খেতেই পাচ্ছেনা , এখন তোমার জন্মদিন করলে আল্লাহ রাগ করবেন , অন্যদের কষ্টে রেখে নিজেরা কি আনন্দ করা যায় বলতো ? আর এখন দাওয়াত দিলে কেউ তো আসতে পারবেনা মা। ” কে শোনে কার কথা! শ্রেয়া কিছু বুঝলেতো ! অভিমানে কান্না জুড়ে দেয়। নীরার ইচ্ছা করে সজোরে মেয়ের গালে একটা চড় কষাতে। কিন্তু এখনকার যুগে গুড প্যারেন্টিং এর অংশ হিসেবে চড় কষানো মোটেও কাম্য নয়।


    রুশদী নীরাকে বোঝায় , ” তুমি এতো মাথা গরম করলে হবে ! শ্রেয়ার ভার আমার উপর ছেড়ে দাও। ”
    নীরা ঠোঁট উল্টিয়ে বললো, ” ভার নিয়ে তো সব উল্টে ফেললে , প্রতিদিন বলি শ্রেয়াকে নিয়ে একটু পড়তে বসাও ,তাতো তোমার কানে যায়না , শুধু অনলাইন ক্লাস করলে কি হবে ? বাসায় ও তো চর্চা করতে হবে , তুমি একটু পড়াগুলো দেখিয়ে দিলে আমার উপর চাপ কিছুটা কমে। আমি একা আর কয়দিক সামলাব?”

    নীরার গজগজানি থেকে বাঁচতে রুশদী তাড়াতাড়ি শ্রেয়াকে নিয়ে ছাদ এ ওঠে। তাদের বাড়ির ছাদ টা আটতলায় হওয়ায় আশেপাশে অনেকদূর পর্যন্ত দেখা যায়। ওদের বিল্ডিংটার পাশে ফাঁকা খানিকটা জায়গা আছে সেখানে টিনশেডের কয়েকটা ঘরে ৫/৬ টি পরিবার বাস করে। বিকেলে পরিবারগুলোর ছেলে মেয়েরা হৈচৈ করে খেলাধুলা করে। রুশদীর দেখতে বেশ লাগে। শ্রেয়া বেচারি তো নিচে খেলতেও যেতে পারেনা , নীরার কড়া নিষেধ , একা একা কোথাও যাওয়া যাবেনা। খুব চোখে চোখে রাখে মেয়েকে। নীরা হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে , কিন্তু রুশদী নীরার ভয়টা বুঝতে পারে।
    ছাদ থেকে নেমে রুশদী চা খেতে খেতে একটা স্পোর্টস চ্যানেলে ডুবে গিয়েছিলো , এমন সময় কলিং বেল বাজলো। রুশদী উঠে দরজা খুলতেই দেখলো , পাশের টিনশেড বাড়ির এক ভাড়াটে পরিবারের বড়ো মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে দরজায় , মেয়েটির বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। রুশদী মেয়েটিকে মাঝে মাঝে দেখে তার ছোট ভাইবোন গুলোর সাথে। ওরা যখন খেলাধুলা করে , মেয়েটি পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। মেয়েটির বাবা কোনো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বল্প বেতনের কর্মচারী। মেয়েটি ক্ষীণস্বরে রুশদীকে সালাম দিয়ে বলে , “আন্টি কি বাসায় আছেন ?” রুশদী একটু অবাক হয় , মেয়েটি যে নীরার পরিচিত , তা সে জানতোনা।


    রুশদী বলে , “ভেতরে এস , কষ্ট করে ওখানে বেসিন আছে, ভালো করে হাতটা ধুয়ে নাও ২০ সেকেন্ড ”
    নীরা রান্নাঘর এ কি যেন করছিলো , কে এসেছে বলতে বলতে দরজার কাছে মেয়েটিকে দেখে প্রফুল্ল কণ্ঠে বললো ,
    আরে লাবনী যে ! কেমন আছো তুমি ? বাসায় সব ঠিকঠাক তো ? ”
    লাবনী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে উত্তর দেয়না। নীরা নরম স্বরে আবার জিগ্যেস করলো, “লাবনী, কি হয়েছে ? মুখটা এতো মলিন দেখাচ্ছে কেন ? তুমি এখানে চেয়ারটাতে বস। আমাকে বলো কি হয়েছে ? ” রুশদী পাশে ড্রয়িং রুম এর সোফা তে বসে ছিল। নীরার কাছে ইশারায় জানতে চাইছিলো ঘটনা কি? লাবনী হঠাৎ করে ঝরঝর করে কেঁদে দিলো , কাঁদতে কাঁদতেই বললো ” শ্রেয়া কে আমি যদি প্রতিদিন বাংলা আর অঙ্কটা দেখিয়ে দেই, আমাকে কি একটু সাহায্য করবেন ? গত মাসে আব্বাকে বেতন না দিয়েই অফিস থেকে ছাঁটাই করেছে , আমাদের কে আব্বা কিছুই বলেনি। কাল রাত এ বাড়িওয়ালা চাচা এসে বাসা ভাড়ার জন্য রাগারাগি করে যাওয়ায় তখন জেনেছি। আম্মা তো শুনেই খুব কান্নাকাটি করছে , কিভাবে সংসার চলবে , বাসা ভাড়া কিভাবে দেব তাও জানিনা। আমরা জানার পর আব্বাও কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছে , কথাবার্তা বলছেনা কারো সাথে তেমন , দেশের বাড়িতেও যাওয়ার উপায় নেই, দাদার যে ভিটে ছিল সেটাও নদী ভাঙ্গনে তলিয়ে গেছে , ওখানে মাথা গুজার ঠাঁই টুকুও নেই। আমি তাই ভাবছিলাম, যদি একটু আব্বাকে সাহায্য করতে পারতাম! আপনি সেদিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটের আন্টি কে বলেছিলেননা যে শ্রেয়াকে পড়তে বসাতে পারছেন না , আমি বাচ্চাদের সাথে খুব সহজে মিশে যেতে পারি, আমাকে যদি দায়িত্বটুকু দিতেন আমার খুব উপকার হতো আন্টি। ”

    নীরা হঠাৎ হতচকিত হয়ে যায় আকস্মিক এই ঘটনায় , অসম্ভব মন খারাপ লাগতে থাকে তার , পরিবারের বিপদে দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে ! নীরা লাবনীকে বলে , তুমি এখানে বস কিছুক্ষন , আমি তোমার জন্য একটু আমের শরবত করে দেই। নীরা আমের শরবত করতে করতে রুশদী এর মাঝে লাবনী কোন স্কুল এ কোন ক্লাস এ পরে সব জেনে নেয়, মেয়েটার মাঝে একটা অন্যরকম আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক আছে যা তার কাছে খুব ভালো লাগে। নীরা লাবনীকে বলে , “আমি তোমার আঙ্কেল এর সাথে একটু কথা বলি, কাল তোমাকে জানাবো। ” লাবনী মাথা নেড়ে বিদায় নেয়।
    রুশদী , নীরা দুজনেই মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। করোনার কারণে উদ্ভূত আর্থিক সংকটের আঁচ এখনো তাদের গায়ে লাগেনি। দুজনেই এখন পর্যন্ত নিয়মিত বেতন পেয়ে যাচ্ছে এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি এজন্য তারা ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। সংসারের বাড়তি এবং অপ্রয়োজনীয় খরচগুলো তারা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অনলাইন পেমেন্ট এর মাধ্যমে তারা কিছু টাকা দান ও করেছে বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে যারা এই দুঃসময়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে। অথচ বাড়ির পাশেই বিপদগ্রস্ত মানুষগুলোর কথা মাথায় ছিলোনা। দুজনের মাঝেই কেমন একটা অপরাধবোধ কাজ করছে।


    নীরা রুশদী কে বলে , “লাবনীর প্রস্তাব আমার ভালো লেগেছে , সে যদি আসে , শ্রেয়া ও নিয়ম করে একটু পড়তে বসবে , লাবনীর পরিবারের ও উপকার হবে , কি বলো ? ”
    রুশদী বললো , ” আমার মাথায় কিন্তু একটা অন্রকম ভাবনাও কাজ করছে , তুমি যদি আমাকে আরেক কাপ চা দাও তাহলে আলোচনা করতে পারি। ” নীরা জানে , রুশদীর একটু পর পর চা খাওয়ার অভ্যাস , তাই সে ফ্লাস্কে বেশি করে চা বানিয়ে রেখেছে বিকেলেই। নীরা চায়ের কাপ রুশদীর হাতে দিয়ে নিজে চানাচুর মাখা নিয়ে আয়েশ করে বসলো। রুশদী চায়ের কাপ এ চুমুক দিয়ে বললো , “চা টা খুব ভালো হয়েছে নীরা। ” নীরা বলে, ‘হয়েছে আর তেল দিতে হবেনা , আসল কথায় আসো। ”
    রুশদী বললো ” লাবনী শ্রেয়াকে পড়া দেখিয়ে দিলে শুধু লাবনীর না , আমাদের ও উপকার হবে , তুমি চিন্তা করে দেখো , শ্রেয়ার মাঝে এখনো শেয়ারিং এবং কেয়ারিং এর ধারণা টা গড়ে উঠেনি , এই ব্যাপারগুলো এখনো সে বোঝেনা। প্রতিদিন লাবনীর সংস্পর্শে এলে, তার সাথে কিছুটা সময় কাটালে হয়তো তার মাঝে শেয়ারিং এর কনসেপ্ট টা গ্রো করবে। জন্মদিন নিয়ে তার যে অবসেশন সেটা দূর হওয়া জরুরি। এই দুঃসময়ে মানুষ কত কষ্টে আছে , এই পরিস্থিতিতে জন্মদিনের আয়োজন করা আমার কাছে অপরাধের শামিল। আমি কয়েকদিন ধরে ভাবছিলাম , কিভাবে শ্রেয়াকে বোঝানো যায় , আল্লাহ একটা পথ দেখালেন। তুমি কাল থেকেই লাবনীকে সপ্তাহে ৫ দিন আসতে বলে দাও দুপুর এর পরে , দেড় ঘন্টাও যদি শ্রেয়াকে সময় দিতে পারে , আমার বিশ্বাস , কাজ হবে। ” নীরা হেসে বললো , “দাড়াও তোমার মেয়ে কে ডাকি ,” শ্রেয়া নিজের ঘরে রং করছিলো , লাবনীর কথা তাকে বলাতে সে খুব খুশি হলো। সে তো ছাদ থেকে প্রতিদিন তাদের খেলতে দেখে , তার ও খুব ইচ্ছা করে খেলতে কিন্তু মা তো নিচে নামতেই দেয়না। লাবনী তার বাসায় আসলে সে একজন সঙ্গী পাবে।

    পরের দিন সকালেই নীরা বারান্দা থেকে লাবনী কে ডেকে বললো একটু বাসায় এসে কথা বলে যেতে। লাবনী শ্রেয়াকে পড়ানোর দায়িত্ব পেয়ে এতো যে খুশি হলো বলার মতো না। সেদিনই বিকেল থেকে লাবনী বাসায় আসা শুরু করলো। শ্রেয়াও খুব উৎসাহ নিয়ে লাবনীর সাথে পড়তে বসে। নীরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো , লাবনীর মাঝে শিশুদের পড়ানোর একটা সহজাত গুণ আছে। এতো সুন্দর করে হাত নেড়ে গল্পচ্ছলে পড়ায় , শ্রেয়া অধৈর্য হয়না। ফাঁকে ফাঁকে আবার গল্প ও করে দুজন। নীরা প্রায়ই লাবনীর সাথে তার বাসায় নেয়ার জন্য কিছু খাবার দিয়ে দেয়। লাবনী নিতে চায়না একদম , খুব সংকোচ বোধ করে। মেয়েটার আত্মসম্মানবোধ প্রবল।

    এভাবেই ১০/১২ দিন চলে যায় , নীরা আর রুশদী খেয়াল করে , শ্রেয়ার মাঝে একটা পরিবর্তন এসেছে। আগের চেয়ে তার আচরণ নমনীয় হয়েছে , সে স্বভাবগতভাবে খুব অস্থির ছিল , এখন তার ভেতর একটু ধীর স্থির ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাংস না থাকলে যে মেয়ে ভাতই খেতে চাইতোনা সে আজ দিব্বি পটোলের তরকারি আর লতি দিয়ে খেলো। নীরা অবাক হয়ে বললো, “আজ মাংস চাইনা ? ” শ্রেয়া রিনরিনে গলায় বললো , “মামনি জানো , লাবনী আপুরা কতদিন মাংস দিয়ে ভাত খায়নি। আমি তো প্রতিদিন ই খাই। আমি যদি এখন থেকে প্রতিদিন মাংস না খাই তুমি কি লাবনী আপু কে একটু মাংস দেবে ? ” নীরা আর রুশদী তো অবাক। রুশদী রীতিমতো যুদ্ধ জয়ের ভঙ্গি নিয়ে নীরার দিকে তাকালো।

    সেদিন সন্ধ্যায় নীরা রুশদী কে বললো, “আমার মাথায় একটা আইডিয়া এসেছে , গত ২ মাসে তো আমাদের অপ্রয়োজনীয় কিছু খরচ বেঁচে গেছে , অফিস এ যাতায়াতের ভাড়াটাও লাগছেনা দুজনের। আর তুমি না বললেও আমি জানি , শ্রেয়ার জন্মদিনের জন্য তুমি কিছু টাকা আলাদা করে রেখেছো, আমিও রেখেছি। চলোনা এক কাজ করি , এই টাকাগুলো দিয়ে লাবনী আর তার প্রতিবেশী পরিবারগুলোকে আগামী অন্তত ২ মাস নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন , প্রতি পরিবার কে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল , ২ লিটার তেল , ৫ কেজি আলু , ৫ হালি ডিম, ২ কেজি আটা , ১ কেজি চিনি আর হ্যান্ডওয়াশ কিনে দেই। তাহলে পরিবারগুলোর খুব উপকার হবে। আমার মনেহয় , শ্রেয়াও এবার তার জন্মদিন পালন না করলেও আপত্তি করবেনা। ” রুশদী নীরার মাথায় টোকা মেরে বললো , “তোমার মাথায় ও তো দারুন বুদ্ধি ! সত্যিই খুব প্রশংসনীয় উদ্যোগ। “ শ্রেয়াকে নিয়ে দুজনই একটু ভয় পাচ্ছিলো যদি আবার কান্না জুড়ে দেয় শুনে যে তার জন্মদিন হবেনা এবার , কিন্তু শ্রেয়াও এবার হাত তালি দিয়ে বললো , “খুব ভালো হবে , লাবনী আপু রা তাহলে প্রতিদিন ভালো খাবার খেতে পারবে , আমার সাথে আরও সময় কাটাতে পারবে তাইনা বাবা ? আমার এবার জন্মদিন লাগবেনা মামনি , ওরা খুশি হলেই আমি জন্মদিনের আনন্দ পেয়ে যাবো। ” নীরা খুশিতে শ্রেয়াকে জড়িয়ে ধরে। তার চোখের কোণে আনন্দ অশ্ৰু টলমল করে। গত কয়েক বছর ধরে সে আর রুশদী দুজনেই শ্রেয়াকে যা শেখাতে পারছিলোনা , করোনাকালে ২ মাসের মাঝেই শ্রেয়া শিখে গেলো। আজ নীরা, রুশদী , শ্রেয়া তিনজনের মুখেই পরিতৃপ্তির হাসি। এই পরিতৃপ্তি ভোগের নয়, ত্যাগের।

    সমাপ্ত

    লেখকঃ সোমা কবির

    ঢাকা।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১