• শিরোনাম

    বৈঠকে বার্তা দিল দিল্লি

    দি গাংচিল ডেস্ক | ২১ আগস্ট ২০২০


    বৈঠকে বার্তা দিল দিল্লি

    রাজধানী ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা করোনা ভাইরাসের এই মহামারির সময়ে দুই দিনের আকস্মিক সফরে আসেন। আর পৌছেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কিত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু ওই বার্তায় কী ছিলো সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট কিছু বলা হচ্ছে না। এর ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ঢাকাকে কী বার্তা দিল দিল্লি? তাছাড়াও যে রোডম্যাপ বা প্যাকেজের কথা হাসিনা-শ্রিংলা বৈঠকের পর বলা হচ্ছে, সেটাই বা কী তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকারই করা হয়নি। বৈঠকটিতে ভারতের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আলোচনার বিষয় সুস্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।

    সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি নিজে যে কাজগুলো করেন, সেটার বিন্দুবিসর্গ গণমাধ্যমকে জানান না। গণমাধ্যম নিজেদের মতো করে বিষয়গুলো বের করে। ঠিক সেভাবেই হাসিনা-শ্রিংলা বৈঠকটি হয়েছে। কাউকে কোনো কিছু জানানো হয়নি। তাছাড়া ঐ বৈঠকে তারা দুজন ছাড়া অন্য কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেনও না।


    নানা সূত্র বলেছে, সম্পর্ক সুদৃঢ় করা কিংবা ভারতে উৎপাদিত ভ্যাকসিন বাংলাদেশে দেয়া, আটকে থাকা প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনার জন্য শ্রিংলার মতো একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিককে নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় পাঠাননি। শ্রিংলাকে ঢাকায় পাঠানোর আগে মোদি-হাসিনা কথা হয়েছে। ওই কথার সূত্রেই বৈঠকের আদ্যোপান্ত ঠিক হয়েছে। বৈঠকে আগামী দুই বছর কিভাবে বাংলাদেশ-ভারতের পথচলা হবে তার রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে।

    হাসিনা-শ্রিংলা বৈঠকে মূলত যেসব বিষয়ে জোর দেয়া হয় তার মধ্যে একটি হচ্ছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনে ব্যবসা করা অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ওখান থেকে সরিয়ে অন্য কোনো দেশে প্রতিস্থাপন করা হতে পারে। সম্ভাবনা আছে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভারতেও স্থানান্তরিত হওয়ার। সেক্ষেত্রে ওইসব কোম্পানির বাজারের আওতায় বাংলাদেশকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ভারত। পাশাপাশি, বিনিয়োগের নামে পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় ঢুকে চীন প্রকৃতপক্ষে কী কী করছে, তারও বিশ্লেষণ করা হয় ওই বৈঠকে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন শ্রিংলার সফরের ব্যাপারে জানেন না বললেও, বিষয়টি সঠিক নয়। তিস্তার উৎস মুখে যদি চীন বাঁধ দেয় তাহলে ভারত-বাংলাদেশ উভয়ের ক্ষতি হবে। সব কিছু মিলিয়ে ঐ বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামনে ভারত একটি রোডম্যাপ বা প্যাকেজ হাজির করে দিয়েছে।


    এদিক, ভারতে চীনের ব্যবসা আপাতত সুফল বয়ে আনছে না। এক্ষেত্রে চীন চাইছে, তারা বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে উৎপাদন করে ভারতের বাজারে নিয়ে যাবে। কিন্তু এখানে ভারত আপত্তি জানিয়ে বলছে,  চীন বাংলাদেশে তাদের পণ্য উৎপাদন করে তাতে বাংলাদেশের কী লাভ? এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বলছে, চীন যদি বাংলাদেশে তাদের পণ্য উৎপাদন করে বাংলাদেশে শ্রমিক সরবরাহ করে এবং তা থেকে বহু মানুষ সুফল পাবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের ট্যাক্স বাড়বে। কিন্তু ভারত তা খারিজ করে দিয়ে বলেছে, চীন আসলে বাংলাদেশের বাজারটাই দখলে নেয়ার কথা ভাবছে, উপকারের কথা নয়।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক রওনক জাহান সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, বড় দেশ হিসেবে ভারত এক রকম ধরেই নিয়েছে যে প্রতিবেশী ছোট দেশগুলোর সমর্থন তাদের পেছনে আছে। কিন্তু ভারতের বিভিন্ন নীতির কারণে বাংলাদেশের জনগণ গত কয়েক বছরে অনেক ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি, রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ভারতের কাছে কাক্সিক্ষত সমর্থন পায়নি। তারপরেও প্রতিবেশীদের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে ভাল বন্ধু যদি কেউ থাকে, সেটা হলো বাংলাদেশ আর যেখানে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হয় কখনই এমন কোনো পদক্ষেপ বাংলাদেশ আগ বাড়িয়ে নেবে না। কিন্তু তার মানে এই নয়, বাংলাদেশ যদি নিজের স্বার্থে কখনো মনে করে, চীনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়ন করতে হবে, সেটা তারা করতে পারবে না। ভারতের আচরণের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে চীন একটা জায়গা করে নিচ্ছে। এই অঞ্চলে নেপাল-শ্রীলংকাও চীনের দিকে ঝুঁঁকে পড়েছে বলে তিনি মনে করছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ঘাটতির বিষয়টা হয়ত ভারত এখন অনুধাবন করছে। সেজন্য ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা হয়তো কাটানোর চেষ্টা করছে।


    এদিকে, বিশ্লেষকরা বলেছেন, বাংলাদেশে চীন এবং পাকিস্তান একটা সুযোগ তৈরি করে নিতে চায়। এ কারণেই ভারত শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান চীনা স্বার্থের পটভূমিতে শঙ্কিত হয়ে ঢাকায় ছুটে গেছেন। শ্রিংলা তার পক্ষে যতটা সম্ভব এটা সারিয়ে তোলার জন্য চেষ্টা করেছেন। তিনি হয়ত বাংলাদেশের চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে গেছেন।

    এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার আকস্মিক ঢাকা সফরের খবর ভারতের গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ হয়েছে। এতে বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ দুটির মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। প্রকল্প দেখভালের জন্যে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি দ্রুত গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্যে প্রতিবেশী দেশ দুটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়াও, আলোচনায় আখাউড়া ও আগরতলার মধ্যে রেল সংযোগ, ১৩২০ মেগাওয়াটের খুলনা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য প্রকল্পগুলো আগামী বছর উদ্বোধন করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করা হয়। একই বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ও বাংলাদেশ-ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তির চলমান কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করার সম্ভাবনার কথা আলোচিত হয়।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১