• শিরোনাম

    চলে গেলেন সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী

    সাবিকুন্নাহার কাঁকন | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২০


    চলে গেলেন সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী

    একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী আজ (শনিবার) সকালে রাজধানীর সিএমএইচ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ৮৫ বছর।

    চিকিৎসা চলাকালীন সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।আবু ওসমান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী আবুল বাশার এ খবর নিশ্চিত করেছেন।


    আবু ওসমান মুক্তিযুদ্ধে 8 নং সেক্টরের কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ৩০শে আগস্ট তারঁ করোনা পরীক্ষার পজেটিভ রিপোর্ট আসে।মুক্তিযুদ্ধের এ নায়কের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত সিএমএইচে নিয়ে যাওয়া হয়।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরষ্কার অর্জনকারী আবু ওসমান দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।


    ১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ওসমান ১৯৫৮ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে বিএ পাস করার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্ত হন। ১৯৬৮ সালে তিনি মেজর হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।

    ওসমান ১৯৬০ সালে নাজিয়া খানমকে বিয়ে করেন। নাসিমা ও ফৌজিয়া ওসমান তাদের দুই মেয়ে।


    ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকায় যখন বাঙালির উপর গণহত্যা শুরু করেছিল, তখন ওসমান কুষ্টিয়ায় ছিলেন। চুয়াডাঙ্গায় পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলেস্ এর চতুর্থ শাখার কমান্ডার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

    পরের দিন সকালে তিনি একদল সৈন্যকে চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে যান এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। তাকে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে ৮ নম্বর সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।

    যুদ্ধের সময় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বাংলাদেশের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় গার্ড অব অনার প্রদানের জন্য ওসমান এক প্লাটুনের নেতৃত্ব দেন।

    তাঁর স্ত্রী নাজিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র, গোলাবারুদ পাহারা দিয়ে এবং তাদের পরিবারকে খাদ্য, পানিয়, অর্থ এবং ঔষধ দিয়ে সহায়তা করেছিলেন।

    স্বাধীনতার পরে ওসমানকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে আর্মি সার্ভিস কর্পস-এর পরিচালক বানিয়েছিলেন।

    ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ৭ই নভেম্বরের অভ্যুত্থান ও পাল্টা হামলার সময় সেনাবাহিনীর একদল সদস্য ঢাকার গুলশানে ওসমানের বাড়িতে হামলা চালায়।মুক্তিযুদ্ধের নায়ক ওসমানকে না পেয়ে হামলাকারীরা তাঁর স্ত্রী নাজিয়াকে হত্যা করে।

    একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠনে ওসমান মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন, যা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের নৃশংসতার বিচারের দাবিতে গঠিত হয়েছিল।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বিদায় ফুটবল ঈশ্বর!

    ২৫ নভেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১