• শিরোনাম

    পলাশ মন্ডলের কবিতা

    | ১৯ আগস্ট ২০২০


    পলাশ মন্ডলের কবিতা

    একটি নিতান্ত পারিবারিক ঘটনা!

    কী সব ছাইপাশ যে লিখেন আপনারা?


    একটা নিতান্ত পারিবারিক ঘটনা,

    আর লিখেছেন ‘রাষ্ট্রীয় বৈষম্য!’


    কোন যুক্তিতে? শুনি, কেন এমন রটনা?

    গল্পটিতো এমন, নাকি?


    অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে

    মেয়েটির প্রয়োজন ছিলো একটি মোবাইল,

    ইন্টারনেটসহ একটি অ্যানরয়েড মোবাইল।

    ক্লাস বাদ গেলে মেয়ে পিছিয়ে পড়বে, তাই

    কর্মহীন স্বামীর ওপর চাপ ছিলো স্ত্রীর।

    অক্ষম ব্যক্তিটি কিনেওছিলেন

    একটি মোবাইল। তাই কিনা?

    তারপর কী? আচ্ছা আমিই বলি।

    শুনে চলেন লেখক। বলতে চাইলেই কি বলা যায়?

    মোবাইল একটা হলেই হবে

    এমনই ধারণা ছিলো লোকটির।

    অনলাইন ক্লাসে স্মার্ট মোবাইল প্রয়োজন,

    কেন এতো আনস্মার্ট, যে এইটুকুও জানবে না?

    জবাব দিন, ঠিক কিনা?

    বাটন মোবাইল কিনে আনার

    ফল হলো বিপরীত, কথা শোনালেন স্ত্রী,

    অভিমানে কাঁদলেন মেয়েও

    সহ্য করতে পারলেন না দিনমজুর,

    গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন তিনি।

    এইতো গল্প? একটুও কি বাড়িয়ে বললাম?

    এতো নিতান্তই পারিবারিক ঘটনা!

    এটা বৈষম্য কিনা?

    এমন সময় উত্তেজনায় চোখের চশমা খসে পড়ে।

    হাতে চশমা তুলে দিয়ে লেখক বলেন,

    না আপনি ঠিকই বলেছেন রাষ্ট্রসেবক;

    আপনারা ভুল বলেন না।

    আচ্ছা চলি, তবে আপনাকে আমন্ত্রণ,

    এবারের আই ক্যাম্পের প্রধান অতিথি আপনি।

    আপনার ছানিটা বড্ড বেড়েছে-

    আপনার অপারেশনের মধ্য দিয়েই

    শুভারম্ভ হবে এবারের ক্যাম্প!

    নদীর বিদ্রোহ

    ‘স্ব’ (নিজ) এবং ‘অধীনতা’র আন্তঃযোগে ‘স্বাধীনতা’।

    তোমরা স্বাধীনতার জন্য

    যুদ্ধ কর, রক্ত ঝরাও

    আমার ভালো লাগে।

    ভালোলাগায় আমার বুক ভরে যায়-

    যখন স্বাধীনতা উদযাপনের জন্য

    বর্ণীল আয়োজন দেখি।

    কত রকম স্বাধীনতার কথা বলো তোমরা!

    ব্যক্তি স্বাধীনতা, রাষ্ট্র স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা-

    আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় স্বাধীনতা

    আরও কত শত স্বাধীনতা-

    বোঝো তোমরা, বোঝাও তোমরা।

    এমনকি বনের পশু-পাখির আবদ্ধ অবস্থার বিরুদ্ধেও-

    সোচ্চার তোমাদের স্বাধীনতা বোধ,

    আমার কিন্তু ভালোই লাগে।

    কিন্তু অবাক হই, ভাষা হারাই-

    তোমাদের দ্বি-চারীতায়।

    এই আমাকে, হ্যাঁ আমাকে তোমরা-

    প্রাণদায়ী মনে করো,

    অথচ আমারও যে প্রাণ আছে তা-

    মনেও নাও না, মেনেও না!

    তটবন্দি করে চলার পথরোধ করো,

    আমার স্বাধীনতার অধিকার ভুলে

    মাথাওয়ালাদের(!) নিয়োগ করো

    টুটি চেপে হত্যা করতে।

    আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে,

    তাইতো বিদ্রোহী হই।

    হেথায় পালানোর হিড়িক

    চারিদিকে শুধুই পালাই পালাই,

    কারণে পালাই, ব্যা-কারণে পালাই,

    একা পালাই, সদলবলে পালাই,

    সজ্ঞানে পালাই, অজ্ঞানে পালাই।

    প্রেম থেকে পালাই, বিদ্রোহ থেকে পালাই,

    ভাগ ছেড়ে কিংবা ভাবের তরে পালাই,

    দায়িত্ব থেকে পালাই, জীবন থেকেও পালাই।

    চোখের টানে পালাই, চোখ এড়াতে পালাই,

    দেশ থেকে পালাই, দশ থেকে পালাই,

    জ্ঞান কিনতে পালাই, জ্ঞান বেঁচতেও পালাই,

    গাঁটরি-বোঁচকা নিয়ে পালাই, আবার-

    আইনস্টাইনের মতো মাথা নিয়েও পালাই।

    ধর্ম আর বর্ণ দোষে(!) পালাই,

    কাঁটাতার গলিয়ে জীবন-বাঁচাতে পালাই,

    রোগ-শোকে পালাই, মর্ম থেকে পালাই,

    জীবন হাতে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পালাই,

    কেউ কেউ আবার সদর্পে-

    আস্ত প্লেন ভাড়া করেও পালাই।

    দিন থেকে দিনে, কালে অকালে

    পলায়নপর মানুষে, অমানুষে-

    ভরে যাচ্ছে দেশটা,

    এই যক্ষপুরীতে হায়!

    দুঃখিনী মায়ের কোল জুড়ে –

    উন্নত বিনত শিরে কে রবে শেষটা?

    পালানোয় নিস্তার নাই-

    সুবোধ তুই তৈরি হ।

    *********************

    পলাশ মণ্ডল

    পলাশ মন্ডলের গল্প

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১