• শিরোনাম

    আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস:

    মাদকঃ মৃত্যুর সহজ রাস্তা : ডা. মেজবাউল খাঁন ফরহাদ

    | ২৭ জুন ২০২০


    মাদকঃ মৃত্যুর সহজ রাস্তা : ডা. মেজবাউল খাঁন ফরহাদ

    ২৬ জুন, আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস। এ দিনটি মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবেও পালিত হয়। মাদকবিরোধী দিবস, ২০২০ এর প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে “ভালো জ্ঞান, ভালো যত্ন”। দেখা যাচ্ছে যে, মাদক সমস্যা বিভিন্ন ধরনের ভুল তথ্য দিয়ে জর্জরিত। তাই এবারের এরকম প্রতিপাদ্যের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিশ্ব মাদক সমস্যাকে ভালোভাবে বুঝতে পারা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীতাকে আরো উৎসাহিত করা, যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো উন্নত ও যুগোপযোগী করা যায়।

    প্রতিপাদ্যের সাথে মিল রেখে আজকে আমরা বোঝার চেষ্টা করবো, কীভাবে মাদক আমাদেরকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে।


    আমাদের শরীর খুবই সুন্দর ভারসাম্যপূর্ন একটি যন্ত্র। আমরা শরীরে যা গ্রহন করি তার উপরই নির্ভর করে এটি কতটুকু ভালোভাবে কাজ করবে। প্রাকৃতিকভাবে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য পানি, ভিটামিন, মিনারেলস ও অন্যান্য ক্যালরি দরকার। উদ্ভাবক প্রানি হিসেবে আমরা অনেক প্রকার মাদক জাতীয় পদার্থ তৈরি করেছি, যা প্রকৃতি আমাদের কখনো গ্রহন করতে উৎসাহ দেয়না। প্রকৃতিবিরুদ্ধ এসকল মাদক গ্রহনে আমাদের শরীর ও মনে দৃশ্যমান প্রভাব পরে। এমনকি যেসকল ওষুধ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বলা হয়, তাও প্রস্তুতকারক বিভিন্ন পদ্ধতি ও ধাপের মাধ্যমে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। এই ওষুধ অপব্যবহারের কারণে রোগী তার রোগের জন্য ওষুধের গুণাগুণ পাওয়ার বদলে হয়ে যায় বিষ। তাই অনেক সময় বিষ স্বল্প মাত্রায় প্রয়োগ করলে হয় ওষুধ, কিন্তু বেশি মাত্রা বা অযথা গ্রহণ করলে হয় বিষাক্ত যা শরীরকে নিস্তেজ করে, মৃত্যু ডেকে আনে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অপব্যবহারের মাধ্যমে মাদকাসক্তির সূচনা হয়। কোন মাদকই মূলত খাটি ও প্রাকৃতিক নয়। মাদক শরীরের জন্য কখনোই ভালো নয়।

    বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হচ্ছে মাদক। বিশ্বব্যাপী সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বের প্রতি মাদক হুমকিস্বরূপ। মাদক বর্তমানে জাতীয় ও বৈশ্বিক সমস্যা। মাদক বলতে এমন বস্তুসমূহকে বোঝায়, যা কোনো মানুষকে আসক্ত ও নির্ভরশীল করে তোলে এবং শরীরে প্রবেশ করার পর কিছু স্নায়বিক প্রতিক্রিয়ার উদ্রেক ঘটে এবং পুনরায় এসব দ্রব্য গ্রহণে তীব্র আগ্রহ জন্মায়। মাদক গ্রহণ করলে ব্যক্তির এক বা একাধিক কার্যকলাপের পরির্তন ঘটে।


    আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ করে থাকে। কাজগুলো এমনভাবে হয়ে থাকে যাতে পুষ্টি ও অন্যান্য কার্যকর উপাদান গ্রহন করে এবং বর্জ্য ও অপচয়কে শরীর থেকে বের করে দেয়। আমরা যাই গ্রহন করিনা কেন, তা শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গ দ্বারা ফিল্টার হয়। যখন কোন ব্যক্তি মদ গ্রহন করে মাতাল অবস্থায় থাকে, তখন তার লিভার ওভারলোডেড বা অত্যধিক বোঝাই থাকে। ফলে, লিভার খুব দ্রুতই সে মদকে ফিল্টার করে বের করতে পারেনা এবং এলকোহল পয়জনিং অবস্থার সৃষ্টি হয়। এভাবে বারংবার হওয়ার ফলে এক সময় লিভার সিরোসিস হয়ে এলকোহলে আসক্ত ব্যক্তি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পরে। এটা হচ্ছে শুধু একটা উদাহরন, যাতে মাদক কিভাবে আমাদের শরীরের ভিতরকার গুরুত্বপূর্ন অঙ্গকে ক্ষতি করে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে তা বোঝা যায়।
    এভাবে প্রতিটি মাদকই দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমানভাবে আমাদের কোন গুরুত্বপূর্ন অঙ্গকে ক্ষতি করে থাকে এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে থাকে।

    এখন দেখা যাক, প্রচলিত মাদকসমূহ কিভাবে আমাদের ক্ষতি করে,
    অ্যালকোহল, জার্মানির সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট ফর মেন্টাল হেল্থ-এর ফাল্ক কিফার বলেন, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ হয়ে জীবনের মূল্যবান বছরগুলি হারিয়ে যায়। লিভার সিরোসিস থেকে শুরু করে কর্মক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন অনেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট বলা হয়েছে, ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ৩.৩ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া ২০০টি নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ হতে পারে অতিরিক্ত অ্যালকোহলের কারনে।


    ইয়াবা, বাংলাদেশে বর্তমানে মাদক হিসেবে এটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে কিডনি, লিভার ও ফুসফস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাময়িক যৌন উত্তেজনা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এছাড়া ইয়াবার কারণে রক্তচাপ ও হৃদকম্পন বেড়ে গিয়ে ব্রেইন স্ট্রোক হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে।

    ফেনসিডিল, একসময় এটিই প্রধান মাদক ছিল। ইয়াবা আসার পর ফেনসিডিলের ব্যবহার কিছুটা কমেছে। এটি খাওয়ার কারণে ক্ষুধা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে খাবার না খাওয়ায় শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। এতে স্বাস্থ্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইয়াবার মতো ফেনসিডিলও যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এছাড়া শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷

    গাঁজা, রক্তবাহী শিরার ক্ষতি করে, ফলে রক্ত পরিবহনে সমস্যা হয়। মস্তিষ্কের উপর প্রভাবের কারণে স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। পুরুষের ক্ষেত্রে টেস্টিকুলার ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গাঁজা খেলে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয়, চোখের দৃষ্টি কমে যায়।

    হেরোইন, যারা অধিক পরিমাণে হেরোইন সেবন করেন তারা নানারকম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। যেমন লিভার সমস্যা, ফুসফুসে সংক্রমণ, তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য, কিডনি রোগ, হার্ট ও ত্বকে সমস্যা, হেপাটাইটিস, নারীদের সন্তান জন্মদানে অক্ষমতা, গর্ভপাত ইত্যাদি। নিউইয়র্কের লেনক্স হিল হসপিটালের ভাসকুলার নিউরোসার্জন ডা. রবিন ধারিয়া বলেন, অপিওয়েড বা হেরোইন ব্যবহারকারীর ব্লাড প্রেশার দ্রুত এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, ‘এবং যার ফলে স্ট্রোক হতে পারে’।

    আফিম, আফিম খেলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে, যা থেকে অবচেতন হয়ে পড়া এবং বেশি পরিমাণে খেলে মৃত্যুও হতে পারে। এছাড়া মুখ ও নাক শুকিয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি হতে পারে।

    ড্যান্ডি হল এক প্রকার গ্লু, গাম বা আঠা জাতীয় উদ্বায়ী পদার্থ যা সাধারণ তাপমাত্রায় সহজেই বাষ্পে বা ধূম্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন প্রকার রাবার ও চামড়া জাতীয় পদার্থ যেমন- জুতা, চাকার রাবার-টিউব প্রভৃতির মেরামতকল্পে সংযোজক কারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত বড় বড় শহরের বা সমাজের সুবিধা বঞ্চিত কিশোর-কিশোরী ও সদ্য বয়োপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যেমন- রাস্তার টোকাই, ভবঘুরে, কুলি-মজুর শ্রেণীর মধ্যে এই প্রকার নেশা যেন দিন থেকে দিন যেন এক সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। স্বল্পমেয়াদে-মাথা ঘোরা, চলাচলে অসংলগ্নতা, কথা জড়িয়ে আসা, চোখে ঝাপসা দেখা, রক্ত বমি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ঘটে। এমনকি নেশার অতিমাত্রায় শ্বসন ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কিংবা শ্বাসরোধ বা দুর্ঘটনার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুও ঘটতে পারে।

    মাদকের সাথে অনেক সময় অন্যান্য প্রেসক্রাইবড ওষুধ মিশিয়ে এক ধরনের মিক্সার বানানো হয় যা মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মৃত্যু ঘটে থাকে। যেমন, ফেনসিডিল ও বিভিন্ন সিউডোএফিড্রিন জাতিয় কাশির সিরাপের সাথে, অপিওয়েড জাতীয় পেইন কিলার, ঘুমের ওষুধ, এলকোহল ইত্যাদি মিশ্রন দেশের মাদকাসক্ত তরুনদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। অনেক সময় একে জাক্কি নামেও ডাকা হয়। এ ধরনের মিশ্রনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার হলে আমাদের শাস্ব-প্রস্বাসের উপর মারাত্বক প্রভাব পরে, এমনকি মৃতুও হতে পারে।

    তাছাড়া, মাদকাসক্তি ব্যক্তি কম বেশি ধূমপায়ী হয়ে থাকে। ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে পৃথিবীতে প্রতি ৮ সেকেন্ডে শুধু ধূমপানজনিত কারণে একজন ব্যক্তির মৃত্যু হচ্ছে।মাদক সংক্রান্ত মৃত্যু মাদক অপব্যবহারের মারাত্বক ফলাফল। মাদক সংক্রান্ত মৃত্যু এবং তার সঠিক হিসেব একেক দেশে একেক রকম হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা নিন্মোক্ত উপায়ে হয়ে থাকে। যেমন, মাদকের মাত্রাতিরিক্ত অপব্যবহার, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নেয়ার ফলে এইচআইভি ও হেপাটাইটিস-সিতে মৃত্যু, মাদকের ফলে আত্নহত্যা ও নিজেকে নিজে আঘাত করার ফলে মৃত্যু এবং মাদকের ফলে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু যেমন, সড়ক দুর্ঘটনা বা নিজেদের মধ্যে মারামারি ইত্যাদি।

    বিশ্বব্যাপি, UNODC র হিসেব মতে ২০১৫ সালে ১৯০,৯০০ মানুষ মাদক কারনে মারা যান। মাদকাসক্তের ফলে যারা মারা যায়, তাদের বেশিরভাগই ঘটে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে। যারা ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নেন, তারা মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরেন। পৃথিবিতে প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষ ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক নেন, এর মধ্যে প্রতি ৮ জনে ১ জন এইচ আইভিতে এবং প্রায় অর্ধেক মানুষ হেপাটাইটিস সি তে আক্রান্ত হয়।

    দীর্ঘমেয়াদি মাদক সেবনে টলারেন্স বা সয্যশক্তি তৈরি হয়, ফলে মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদকের একই প্রভাব পেতে পূর্বের থেকে আরো বেশি পরিমান মাদক প্রয়োজন হয়। টলারেন্স মানে হলো তার শরীর ঐ নির্দিষ্ট মাদককে সয্য করে নেয়। এর মানে এই নয়, যে তার শরীর ঐ মাদককে গ্রহন করে নিচ্ছে, এর মানে হচ্ছে তার শরীরের কিছু অংশ ঐ মাদককে গ্রহনে আপত্তি জানাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে শরীরের কোষগুলো মারা যাচ্ছে। ফলে এক মারাত্বক বিপদজনক পরিস্থিতির তৈরি হয়, যাতে তার শরীরের কিছু অংশ বৃহদায়তন মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা ছেড়ে দেয়, আরো বেশি মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার হয় এবং মৃত্যুর খুব নিকটে চলে আসে।

    অনেক তারকা অথবা ক্রীড়াবীদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর সাথে মাদক জড়িত বলে মনে করা হয়। বিখ্যাত ও মানুষের ভালবাসায় সিক্ত তারকা যেমন, মাইকেল জ্যাকসন, ইউটনি হাস্টন এবং হিথ লেজার এরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সিকার। কেন মাদক তাদের মৃত্যু ডেকে আনলো?

    জুকার হিলসাইড হসপিটাল, নিউইয়র্কের সহকারী ইউনিট প্রধান সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. স্কট ক্রাকোয়ার বলেন, যদিও প্রতিটি মাদক ভিন্ন ভিন্ন পন্থায় শারীরিক ও স্নায়ুবিক প্রভাব ফেলে, তারপরও সকল মাদক সমন্নিতভাবে ব্রেইনে প্রভাব বিস্তার করে তার পরিবর্তন করে। অর্থাৎ সকল মাদক কোন না কোন ভাবে ব্রেইনে পরিবর্তন করে, কখনো এটা দীর্ঘমেয়াদী, আবার কখনো স্থায়ী। ব্রেইন আমাদের শরীরের শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদযন্ত্রসহ সকল মৌলিক কাজ নিয়ন্ত্রন করে এবং আমাদের চিন্তা ও আবেগ গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে। ব্রেইনের এই পরিবর্তন আবেগ আর অনুভূতির উপর মারাত্বক প্রভাব ফেলে এবং বিষণ্ণতা চলে আসে যা একজন ব্যক্তির সেরাটা দেয়ার ক্ষমতা কমায় ও সুখি জীবনের ইতি ঘটায়।

    মাদকাসক্তের মৃত্যু মাদকের কারনেই হয়েছে কিনা তা বুঝা অবশ্য খুব জটিল, যেহেতু মাদকাসক্তের সাথে বেশ কিছু বিষয় জড়িত। যেমন, মাদকাসক্ত, আত্মহত্যা ও বিষণ্ণতার সাথে খুবই গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। যারা আত্মহত্যায় ধাবিত হয় তাদের ৯০ ভাগ হয় বিষণ্ণতা, না হয় মাদকাসক্ত অথবা উভয়েই আক্রান্ত থাকে। বিষণ্ণতা ও মাদকাসক্ত মিলে একটা দ্বিপার্শ্বিক দুষ্টচক্র তৈরি করে ব্যক্তিকে আত্মহত্যায় ধাবিত করে। একটি মৃত্যু সরাসরি মাদকের কারনে হতে পারে এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে, আবার সাহায্যকারি কারনও হতে পারে, যেমন, মাদক গ্রহন করে যদি সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা বা অন্যকোন দুর্ঘটনায় মারা যায়।

    এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান দেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ লাখ। কোন কোন সংস্থার মতে ৭০ লাখ, এবং মাদকসেবীদের মধ্যে ৮০ শতাংশই যুবক। বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মাদকাসক্তদের মধ্যে ৮৪ ভাগ পুরুষ, ১৬ ভাগ নারী। ৫০ শতাংশ অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ নানাভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী ও শিশু-কিশোররাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আর উচ্চশিক্ষিতের সংখ্যা ১৫ শতাংশ। কিছুদিন আগেও যারা ফেনসিডিলে আসক্ত ছিল তাদের অধিকাংশিই এখন ইয়াবায় আসক্ত। সম্প্রতি ইয়াবা আমাদের দেশের তরুন যুবসমাজকে গ্রাস করেছে। প্রতিদিন যেমন ইয়াবা ধরা হচ্ছে তেমনি প্রতিদিন হাজার হাজার পিস ইয়াবা তরুনরা গ্রহণ করছে।

    দেখা যাচ্ছে, আমাদের সমাজের বড় একটা অংশ, বিশেষ করে যুব সমাজ এক অপরিণত মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে। একটা জাতির প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে যুব সমাজ। তাদেরকে মাদকের ঝুঁকিতে রেখে রাষ্ট্র কখনো আগাতে পারেনা। তাই রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই উচিৎ এর

    সহজপ্রাপ্যতা নিয়ন্ত্রণ করা। আর আমাদের উচিৎ আমাদের ছেলে-মেয়ের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর, দৃঢ় পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ করে দেয়া, শিল্প সংস্কৃতিসহ সকল সুস্থ বিনোদনে উৎসাহিত করা এবং তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেয়া। তাহলেই কেবল মাদক নির্মূল সম্ভব, সম্ভব মাদকের প্রভাবে অপরিণত মৃত্যু ঠেকানো।

    মেজবাউল খাঁন ফরহাদ
    মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
    ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরিদপুর

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১