• শিরোনাম

    মোঃ আলাউল হক বিশ্বাস এর এক গুচ্ছ কবিতা

    | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০


    মোঃ আলাউল হক বিশ্বাস এর এক গুচ্ছ কবিতা

    ১/

    অন্ধকারের অন্ধ দুর হোক


    বিদ্যুৎ নেই অন্ধকার
    অন্ধকার ত অন্ধকার।
    চোখ বন্ধ করলে,
    সেত, আরো অন্ধকার।
    এই চোখ বুজে অন্ধকারের
    বিশালত্ব আমার সকল
    যন্ত্রণার ক্ষতকে ম্লান করে দেয়।
    এই চোখ বুজে অন্ধকারে
    আনি স্বাধীন সত্তায়
    একাকী ঘুরে বেড়াই।
    আমার দৃষ্টি আমার গতি,
    এ, এক আদ্ভুত ক্ষিপ্রতায়,
    অন্ধকার দিগন্ত ভিন্নতায় ছুয়ে যায়।
    অন্ধকারে আমি আলোর
    বিচ্ছুরণ দেখি,যেন
    নক্ষত্র রাজি, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র
    আলোর কনিকা।
    কখনো কাছে যাই, সরে আসি,
    উত্তপ্ত লোহ পিন্ডর মত,
    লাল বিশাল গহ্বর।
    আমিও সতর্ক দুরে সরে যাই।
    আবার কখনও দেখি, আদ্ভুত
    নৌকার পাল,সারি সারি
    সাদা মেঘ,সাদা পাল
    সাদা আভায়, ভেসে যায়।
    আমার দেখার নেই যে শেষ,
    চোখ বুজে অন্ধকারের দেশ।
    কেন জানিনা হঠাৎ জেগে
    উঠল অন্ধকারে, আমার
    শ্যামল বাংলার সবুজ মানচিত্র।
    সবুজ বাংলার মানচিত্রের ছাপ।
    গোলাকৃতি সাদৃশ্য পৃথিবীর পৃষ্ঠে,
    ঘুর্নিয়মান বেগে দৃশ্যপট পাল্টে গেল।
    আমি-ত কবি আল মাহমুদের
    কাটা সুপারি সাদৃশ্য সবুজ
    পাতায় ঢাকা,বকের চোখ
    লাল নখ দেখিনা।
    আমি দেখি আগুনের গহ্বর
    উত্তপ্ত সানিত নীল, কৃষ্ণ গহ্বর।
    আন্ধকার, তোমার বিশালত্বে
    আমি মৃয়মান তুচ্ছ নগণ্য।
    আমার খোলা চোখের আলো,
    সেত অত্যান্ত সংকির্ণ
    টর্চ লাইটের আলো।
    আমি চাইনা, আমি চাট
    অন্ধকারের অন্ধ দুর হোক,
    অন্ধকারের আলো,
    আমাকে আলোকিত করো।
    তোমার আলোর ছোঁয়া
    আমাকে বার বার ছুঁয়ে যাক
    অন্ধকারের মহানুভবতা
    আমাকে প্রসারিত কর।

    ২/


    নজরুল স্বরণে

    কবি নজরুল,
    তুমি ছিলে অপ্রতুল।
    হঠাৎ, নিরব নির্বাক
    বাঙালি বিস্ময় অবাক।
    তোমার অব্যাক্ত বেদনা
    রয়ে গেল অজানা।
    তুমি ছিলে দিব্য জ্ঞানী,
    বিদ্রোহী জ্বালাময়ী কবি।
    জ্বেলেছ মানুষের হৃদয়ে রবি,
    উত্তাপে এঁকেছ সাম্যের ছবি।


    ৩/

    কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড

    জর্জ ফ্লয়েডের প্রাণ যায়,
    বর্ণ বিদ্বেষের হিংস্রতায়।
    শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীতার নিঃসংশয়তা
    ক্ষোভে বিক্ষোভে সবাই এগিয়ে
    নাগরিক আধিকারের লড়াইয়ে
    দিতে হবে সমতার আধিকার।
    ভেঙে ফেল বিশ্বব্যাপি মুখোশ অন্ধতার
    হবে হবে নিশ্চয়ই হবে কৃষ্ণাঙ্গ নিপীড়ন হত্যা রোধ।
    ৪০০ বছরের প্রাগৈতিহাসিক বর্ণবাদ বিরোধ
    ফ্লয়েডের কফিনের সরণ সভায়,
    বিশ্বজন ফিরে পাক নাগরিক অধিকার সমতার
    আবার ফিরে আসুক সভ্যতা সূচনায় মিএতায়
    মানুষে মানুষে অতিতের মেলবন্ধন
    লোপিত আজ,ধুমাকার,
    ধূমাবতী হয়তো করিবে বর্নন।
    কে তুলে আনবে ণৃত্বত্রের,
    মূল্যবান উপকরণ, উপকথা,মহাকালের
    হাজার বছরের চলমান ধারায়
    মানুষ নিজেকে নিজেই হারায়
    বিবর্তন আর সুনামি ঝড়ে
    ব্যাবচ্ছদ হয়তো আমাদের করেছে পর
    নৃত্বত্রের উপকরণ,
    নেই আজ সংরক্ষণ।
    কোন গ্রন্থ, কোন মন্তে
    জানাবে মানুষে- মানুষে যোগসূত্র।
    হয়তো, একই ছাউনি তলায়
    ছিল বসবাস,কলো আর ধলায়।

    ৪/

     শিশু হোক স্বাধীন

    ফুট ফুটে নিঃষ্পাপ শিশুর হাসি,
    দেখে অপলক সকলেই ভালোবাসি।
    শিশু অবুঝ, অভয় দুরন্তপনায়,
    নেই শেষ তার আকাশের চাঁদ, তাও বায়নায়।
    শিশুর একটি স্নিগ্ধ হাসি,
    শত কষ্টে মায়ের খুশি।
    একান্ত মনে অবোধ শিশু পেয়ে নির্জন,
    মিথ্যা লোভ দেখিয়ে করছে ধর্ষণ।
    এরা বর্বর পশু, কোন মাত্রার পাপিষ্ঠ,
    খুনি, সমাজের কিট, মানুষের বিবেক রুষ্ঠ।
    প্রতিদিন, টেলিভিশন পত্রিকার পাতায় পাতায়,
    মেতেছে পাপিষ্ঠরা ধর্ষণ উত্তর হত্যায়।
    সমাজের অভিসাপ, ঘৃণিত অন্যায় দেখে,
    মুখ বুঝে রাখছে সব ঢেঁকে।
    বালাই আপদ যাবেই চলে,
    একদিন চুপিসারে না বলে।
    বিচারকের আসনে তাহার,
    যৌক্তিক স্বাক্ষীবিনা হয়না বিচার।
    আর হবেনা ক্ষমা,
    দাড়াও উঠে বীর জনতা, রক্তমাখা।
    অনেক বেরেছে বার বারন্ত,
    দূর্বৃত্তের নেই কোন ক্ষ্যান্ত।
    তাকিয়ে সব ফেসবুকে,
    কিশোর ছাত্র জনতা নত মুখ সরাও,
    সামনে বাধা যানজট,
    খোলা আকাশ, খোলা জানালায় তাকাও।
    বেরিয়ে আস ফেসবুক থেকে,
    কিশোর ছাত্র জনতা।
    অত্যাচারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সাহসী নেতা।
    বর্বর পশু সমাজের ঘৃণিত কিট, এদের বিরুদ্ধে,
    বাসযোগ্য করতে নৈতিকতা পুনঃউদ্ধারে চল যাই যুদ্ধে।
    নিজ ভুমে অসহায় পরাধীন,
    চাই অভয় দেশ, শিশু হোক স্বাধীন।

    ৫/

    আমি আমার কথা বলছি

    আমি আমার কথা বলছি,
    আমি এই শহরের কথা বলছি;
    স্বাধীনতার পরবর্তি সময়ের কথা বলছি।
    এই শহরের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় আমার পদচিহ্ন।
    আমি তার কথা বলছি।
    আমি এই শহরের প্রতিটি অলি, গলি, ধুলি
    কণাকে ভালোবাসার কথা বলছি।

    আমি এই শহরের অনন্য সাধারণদের কথা বলছি।
    সবলের সদম্ভ, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে, অনন্যোপায়দের
    স্বপক্ষে যারা কথা বলত।
    আমি তাদের কথা বলছি।
    তারা ছিল অকুতোভয়, সার্বজনীন, উদ্ধাস্ত, সর্বহারাদের
    মুক্তির কথা বলত।

    আমি তাদের কথা বলছি।
    তারা ছিল ইতিহাস বেত্তা, বাগ্মী, প্রত্ত্যুৎপন্নমতি।
    আমি তাদের কথা বলছি।

    তারা সকলেই রাজনীতির আদর্শে দিক্ষিত ছিল।
    মতান্তরে ভিন্ন, ভিন্ন, গ্রুপিং ছিল।
    নিজেদের মধ্যে বিরোধে কত, জানা অজানা, কিশোর,
    ছাত্র, জনতার, রক্তাক্ত প্রান, লাশ হয়ে, কবর হল।
    রোরুদ্দমান মাতা, বাকরুদ্ধ পিতা।
    আমি তাদের কথা বলছি।

    আমি এই শহরের কথা বলছি।
    আমি আমার কথা বলছি।

    আমি এই শহরের অলি-গলি হেঁটেছি,
    আমি অকাল মৃত্যু দেখেছি।
    আমি জিঘাংসায় হত্যা দেখেছি।
    আমি এই শহরের কথা বলছি।

    যাঁরা পরপকারী বিদ্যোৎসাহী ছিলেন,
    গরীব ছাত্রের মাধ্যমিক
    পরীক্ষার ফিস, আবাসন ও খাবারের
    ব্যবস্থা করে দিতেন।
    আমি তাদের কথা বলছি।
    এই শহরের কথা বলছি।
    যাঁরা ছিল অতলস্পর্শী মেধাবী
    আমি তাদের কথা বলছি।

    এই শহর আজ চাক-চিক্য বর্ধিষ্ণু
    আমি ভুতপূর্ব দূর্লভ ব্যক্তিত্ব অন্তর্হিত
    নেতাদের কথা বলছি।
    এই শহরের কথা বলছি
    আমি আমার কথা বলছি।

    আমি ৭৫ এর কথা বলছি ;
    আমি ১৫ই আগষ্টের কথা বলছি।
    আমি দূরন্ত কিশোরের কথা বলছি।
    যে কিশোর বিহ্বল, যে কিশোর
    অবিসংবাদিত নেতাকে হত্যায়, প্রতিবাদের
    সপথ নেয়।

    নিজের সকল সম্ভাবনাকে ছুড়ে ফেলে,
    জীবনকে তুচ্ছ করে, বন্ধুর পথের যাত্রী হয়।
    স্বপথের আগুনে পুড়ে, জ্বলতে থাকে,
    আমি তার কথা বলছি।
    আমি কিশোরের কথা বলছি।
    আমি আমার কথা বলছি
    আমি এই শহরের কথা বলছি।

    এই শহরের প্রতিটি দাগ, ছাপ
    আমার চেনা জানা।
    বাদলা রাত্রিতে, মেঘের ঝিলিকে
    দূরগম পথ দেখে হেঁটেছি।
    একা গন্তব্যে পোঁছেছি।
    আমি আমার কথা বলছি
    এই শহরের কথা বলছি।
    এই শহরের দূর্দিন এর কথা বলছি
    আমি উত্তাল সময়ের কথা বলছি।
    এই শহরের মিছিলের কথা বলছি।
    আমি মুখো মুখি উত্তপ্ত মিছিলের কথা বলছি।
    প্রত্যক্ষ্য অভিঘাতে যাদের রক্তে রঞ্জিত হলো
    আমি তাদের কথা বলছি।
    আমি জটিল রাজনীতির কথা বলছি।
    আমি দিকহীন মিছিলের কথা বলছি।

    আমি মানুষে মানুষে বিভেদ এর কথা বলছি
    আমি মতে মতে বিরোধ এর কথা বলছি।
    আমি আলো আঁধারের কথা বলছি।
    আমি রাত্রি দিনের কথা বলছি।
    আমি সমুদ্রের কথা বলছি
    যেখানে লবনাক্ত ও সুপেয় পানি
    পরস্পর মিলিত হয়ে আছে।
    আমি সহ-অবস্থানের কথা বলছি।
    আমি আমার কথা বলছি।

    আমি শান্তির কথা বলছি
    আমি বৈষম্য দূরীকরণের কথা বলছি।
    আমি বিবেক এর কথা বলছি।
    আমি বিবেকবান মানুষের কথা বলছি।

    আমি শান্তির সাদা হাত চাই।
    যে হাত উদ্দোলিত হলে
    সবাই অনিমিখে আপ্লুত হবে
    আকাঙ্খার প্রতীক্ষা শেষ হবে
    শান্তি ফিরে আসবে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১