• শিরোনাম

    মোঃ সরওয়ার হক চৌধুরীর প্রতিবাদের কবিতা “আমড়া কাঠের ঢেঁকি”।

    | ০৭ আগস্ট ২০২০


    মোঃ সরওয়ার হক চৌধুরীর প্রতিবাদের কবিতা “আমড়া কাঠের ঢেঁকি”।

    আমড়া কাঠের ঢেঁকি
    ————–
    ১.
    পুরোনো পঞ্চাশ টাকার নোটে যদি হয় মনের পরিবর্তন,
    সেই ব্যক্তি, সেই সমাজ কি করবে অর্জন?
    লজ্জাবতীর মতো করেছো বর্জন,
    তোমার জানা নেই গণতন্ত্রের প্রয়োজন।
    তোমাকে দেখিনি রাজপথে, দেখিনি ময়দানে,
    তুমি ভুলেছো তোমার উন্নয়ণে।
    চারিদিকে প্রবাহিত এতো রক্ত,
    কোথায় তোমার লক্ষ লক্ষ ভক্ত।
    বেশি কথা বলে ঢাকতে অযোগ্যতা,
    স্বার্থের বেড়াজালে বন্দী তাদের সবকিছু ভাওতা।
    আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নুরানী মূখগুলো দেখলে কষ্ট হয়,
    এটিই গণতন্ত্র ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া সমাজের জন্য ভয়।
    নুরানী মূখগুলো হারিয়ে ফেলেছে মানুষের জন্য ভালবাসা,
    করোণার দূর্যোগেও যারা আশ্রয় নেয় প্রতারণার তাদের উপর মানুষের নেই কোন আশা।
    কাঁদতে পারিনা, হাঁসতে পারিনা,
    এই ব্যবস্থা কি আমাদেরই আনা?
    শরীরের রন্দ্রে রন্দ্রে মিথ্যার বেশাতি ও নষ্ট ভাবনা,
    অনেক দেখিয়েছো আমার চন্দনা।
    মানুষ ও মানবিকতা পায় লজ্জা তাদের আচরনে,
    চাঁপাবাজের হুংকার মিথ্যার আবরনে।
    লজ্জায় লজ্জায় সময় অতিবাহিত,
    মিথ্যাবাদী অন্যায়কারীরা সব সময় ভীত।
    যারা বিচলিত হয় অন্যের সুখে,
    তাদের ব্যর্থতার কথা মানুষের মূখে মূখে।
    বালক তোমার কাজ হবে যথারীতি,
    নতুন ধরনের ভাব, দেখাবে তোমায় প্রীতি।
    হুম! করেছি অর্জন, কিন্তু পেয়েছি যথারীতি,
    একেবারেই অযোগ্য, অপদার্থ আমড়া কাঠের ঢেঁকি।
    মানুষের মাঝে যদি না থাকে মানুষের চরিত্র,
    তারা কীভাবে চিনবে শত্রু-মিত্র।
    জীবন বাজি রেখে যারা করেছিল যুদ্ধ,
    নিজস্বতা নেই, আমড়া কাঠের ঢেঁকি তাদের উপর বড়ই ক্ষুব্ধ।
    তখন যাদের ভূমিকা ছিল অশুদ্ধ,
    এখন তাদের তেলবাজিতে একেবারেই মুগ্ধ।

    ২.
    পাতাবাহারের পাতাগুলো রয়েছে নানান সাজে,
    মাটিকে আলিঙ্গন করে ফুলগুলো স্বপ্নের মাঝে।
    ফুলগুলো না কুঁড়িয়ে ছুঁড়ে ফেলেছে অনিশ্চয়তায়,
    পাতাবাহারের ফুল নেই তো কি হয়েছে তবুও আয়েশে জীবন কেঁটে যায়।
    বড়ই চমৎকার নানান ফুলের নানান রঙ,
    পাতাবাহারের পাতা নড়ে চড়ে দেখায় ঢঙ।
    নানান ফুলে রয়েছে নানান রকম সুবাস,
    গন্ধহীন পাতাবাহার বাগানে থাকবে বারোমাস।
    তারপরও ফুলের চেয়ে পাতাবাহারের বড়াই,
    সামনে ঘোর অন্ধকার বেদনাদায়ক লড়াই।
    পাতাবাহার বলে আমি বাগানে আছি বহুদিন,
    যখন আসবে ঝড় তখন মনে পড়বে ফুলের ঋণ।
    ফুলের পাপড়িগুলো নরম তুলতুলে হৃদয় জুড়ে হাহাকার,
    পাতাবাহার তখনও বলে আমার বড় আকার।
    ফুলের গুণে প্রতিহিংসায় মগ্ন আমড়া কাঠের ঢেঁকি,
    অন্যায়ের পাঠ পাতাবাহারের কাছে শিখি।
    জ্যোস্নায় সিক্ত রঙ বেরঙের ফুল,
    মালি যখন কাটবে গাছ পাতাবাহার পাবে না ফুল।
    ফুলে ফুলে পুরো বাগান রঙিন,
    পাতাবাহারের স্থায়িত্ব খুবই ক্ষীণ।


    ৩.
    ওরা চাল খায়, গম খায়, চাকুরী খায়, ত্রাণ খায়,
    চোখের সামনে যা কিছু পায়।
    তারপরও সততায় লাগে না কালিমা,
    কীভাবে মেটাবে হাজারও বায়না।
    পূরণ করতে হবে তোমার মনের বাসনা,
    খাত খুঁজে খুঁজে তুলতে হবে খাজনা।
    যাদের নিয়ে এতো কিছু তাদের নিয়ে নেই ভাবনা,
    তাইতো তাদের হৃদয়ে বড্ড যাতনা।
    ন্যায়ের পথে ফিরে এসো সেটাই কামনা,
    নইলে রাজপথ, তোমার আমার ঠিকানা।
    মত প্রকাশের স্বাধীনতা ভূলুন্ঠিত করোনা,
    তুমি বড্ড বেহায়া চন্দনা।
    ওরা কাগজ খায়, কাগজে যারা লিখে তাঁদের খেতে চায়,
    দুঃখিত! জনগন দিবে না সায়।
    যারা স্বাধীনভাবে কথা বলতে চায় তাঁদের যারা করবে লাঞ্চনা,
    তাদের বিরুদ্ধে বাজাও বাজনা।

     


     


    কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক
    মোঃ সরওয়ার হক চৌধুরী 

    Facebook Comments

    বিষয় :

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১