• শিরোনাম

    রাজবাড়ী জেলার রাজকথা : এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

    | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০


    রাজবাড়ী জেলার রাজকথা : এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

    রাজ প্রাসাদ

    রাজবাড়ীর নাম যে একটি রাজার বাড়ীর নাম থেকে এসেছে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তবে কোন রাজার নামানুসারে আর কখন থেকে রাজবাড়ী নামটি এসেছে তার ঐতিহাসিক কোন তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়া যায়নি।

    বাংলার রেল ভ্রমণ বইয়ের (ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে ক্যালকাটা ১৯৩৫- এল.এন মিশ্র প্রকাশিত) একশ নয় পৃষ্ঠায় রাজবাড়ী সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া যায় সেখানে দেখা যায়  যে ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত নবাব শায়েস্তা খাঁ ঢাকায় সুবেদার নির্বাচিত হয়ে আসেন।

    তখন এই অঞ্চলে  দুর্ধর্ষ পর্তুগীজ জলদস্যুদের আক্রমন ও অত্যাচার দমনের জন্যে তিনি সংগ্রাম শাহকে নাওয়ারা প্রধান হিসাবে নিয়োগ করে পাঠান। তিনি রাজবাড়ীর বানিবহতে তখন স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন এবং এই সংগ্রাম শাহ্ ই লালগোলা নামক এক স্থানে একটি দুর্গ নির্মাণ করেন।


    আর এই লালগোলা দুর্গ এলাকাই বর্তমান রাজবাড়ীর কয়েক কিলোমিটার উত্তরে লালগোলা গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
    সংগ্রাম শাহ্ ও তার পরিবার পরবর্তীতে বানিবহের নাওয়ারা চৌধুরী পরিবার হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

    এল.এন মিশ্র ওই বইটিতে উল্লেখ করেছেন যে, লোকমুখে প্রচলিত আছে রাজা সংগ্রাম শাহের প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী অফিস সহ রাজ কারবার বা রাজকাচারী হিসাবে বর্তমান রাজবাড়ী এলাকাকে কাগজে কলমে রাজবাড়ী লিখতেন।


    ঐ বইয়েরই শেষ পৃষ্ঠায় রেলওয়ে স্টেশন এর নাম ‘রাজবাড়ী’ লিখিত পাওয়া যায়। আর বলে রাখা ভাল রাজবাড়ী রেল স্টেশন ১৮৯০ সালে স্থাপিত।ইতিহাস বেত্তা আনন্দনাথ রায় ফরিদপুরের ইতিহাস বইয়ে বানিবহের বর্ণনায় লিখেছেন নাওয়ারা চৌধুরীরা পাঁচথুপি থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে বানিবহ এসে বসবাস শুরু করেন।

    স্বদেশীদের কাছে নাওয়ারা চৌধুরীদের বাড়ী তখন রাজবাড়ী নামে পরিচিত ছিল।বানিবহ এলাকা তখন বিদ্যাবাগিশ পাড়া, আচার্য পাড়া, ভট্টাচার্য পাড়া, শেনহাটি পাড়া, বসুপাড়া, বেনেপাড়া, নুনেপাড়া নিয়ে গঠিত ছিল। বানিবহ তখন বেশ জনাকীর্ণ স্থান।


    ভিন্নমতে রাজা সূর্য কুমারের নামানুসারে রাজবাড়ীর নামকরণ হয়। রাজা সূর্য কুমারের পিতামহ প্রভুরাম নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার রাজকর্মচারী থাকাকালীন সময়ে কোন কারণে ইংরেজদের বিরাগভাজন হলে পলাশীর যুদ্ধের পর লক্ষ্মীকোল এসে আত্মগোপন করেন। পরে এ অঞ্চলে জমিদারী গড়ে তোলেন তাঁর ছেলে দ্বিগেন্দ্র প্রসাদ।

    এঁরই ছেলে রাজা সুর্য কুমার রাজা উপাধিতে ভূষিত হন১৮৮৫ সালে তাঁর জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য।

    রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন এর নামকরণ করা হয় ১৮৯০ সালে। রাজা সুর্য কুমারের খ্যাতির জন্য এ স্টেশনের নাম তাঁর নামে করার প্রস্তাব করা হয়।

    বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী জানা যায় এ স্টেশন এর নামকরণের এ প্রস্তাবে বানিবহের জমিদারেরা বেশ আপত্তি তোলেন। এর কারণ হয়ত, বর্তমানে যে স্থানটিতে রাজবাড়ী রেল স্টেশন অবস্থিত, ওই জমির মালিকানা ছিল বানিবহের জমিদারদের।

    মনে করা হয় তাদের প্রতিবাদের জন্যই রেলওয়ে স্টেশনের নাম ‘রাজবাড়ী’ থেকে যায়। এই সমস্থ বিশ্লেষণ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় রাজবাড়ী নামটি অনেক আগে থেকেই প্রচলিত ছিল।

    এলাকার প্রতাপশালী ব্যক্তিগণ, জমিদার বা নাওয়ারা প্রধানরা যদিও রাজা বলে অভিহিত হতেন তখন, তবে রাজা সূর্য কুমার ও তার পূর্ব পুরুষদের লক্ষীকোলের সেই বাড়ীটি লোকমুখে রাজার বাড়ী বলেই সর্বাধিক পরিচিত ছিল মুখে মুখে এবং আজও রয়েছে। আর এভাবেই এসেছে আজকের আমাদের অধুনা রাজবাড়ী।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১