• শিরোনাম

    রাহাত খানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

    দি গাংচিল ডেস্ক | ২৯ আগস্ট ২০২০


    রাহাত খানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

    চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক রাহাত খান। ডায়বেটিকসসহ নানাবিধ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি । তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার রাতে এক শোকবার্তায় এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জানান সাংবাদিকতার পাশাপাশি লেখক হিসেবে রাহাত খান মুক্তবুদ্ধি চর্চা ও সমাজ উন্নয়নে বিপুল অবদান রেখেছেন রাহাত খান। রাহাত খানের মৃত্যু সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে জানান রাষ্ট্রপতি ।


    এদিকে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাহাত খান তার কর্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। মো. আবদুল হামিদ এবং শেখ হাসিনা রাহাত খানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

    শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইস্কাটনের বাসায় মৃত্যু হয় রাহাত খানের। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।


    রাহাত খানের স্ত্রী অপর্ণা খান গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় বাসাতেই শেষ নিঃশ্বাস করেন রাহাত খান। ওনার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করার জন্য আমরা দায়িত্বশীল সংস্থার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।

    এছাড়া রাত সোয়া ৯টার দিকে অপর্ণা খান নিজের ফেসবুক প্রোফাইলেও রাহাত খানের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন।


    গত ২০ জুলাই গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাহাত খানকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগের দিন বাসায় খাট থেকে নামতে গিয়ে কোমরে ব্যথা পান তিনি। এরপর এক্স-রে করা হলে পাঁজরে গভীর ক্ষত ধরা পড়ে, পাশাপাশি তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে তাকে বারডেম হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি করা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভোগার জন্য তার চিকিৎসা প্রক্রিয়াটা জটিল হয়ে পড়ায় সার্জারি করা যাচ্ছিল না বলে বাসাতেই অবস্থান করছিলেন।

    খ্যাতিমান কথাশিল্পী রাহাত খান ছোটগল্প ও উপন্যাস উভয় শাখাতেই অবদান রেখেছেন। সাংবাদিক হিসেবেও রাহাত খানের অবদান উল্লেখযোগ্য। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় তিনি ষাটের দশক থেকে কর্মরত। তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি। বিখ্যাত সিরিজ মাসুদ রানার রাহাত খান চরিত্রটি তার অনুসরণেই তৈরি করা।

    তিনি ১৯৪০ সালের ১৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পূর্ব জাওয়ার গ্রামের খান পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। কথাসাহিত্যিক হিসেবে সমাদৃত হলেও কর্মসূত্রে রাহাত খান আপাদমস্তক সাংবাদিক।

    ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন রাহাত খান । শিক্ষা জীবন শেষ করে রাহাত খান কিছুদিন জোট পারচেজ ও বীমা কোম্পানিতে চাকরি করে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে যোগদান করেন। তারপর একে একে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেছেন তিনি।

    ১৯৬৯ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় তার সাংবাদিকতা জীবনের হাতেখড়ি। পরে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দৈনিক বর্তমান পত্রিকা। বর্তমানে তিনি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

    বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনে রাহাত খান কথাশিল্প, ছোটগল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও উপন্যাসের নিপুণ কারিগর হয়ে উঠেছেন। ১৯৭২ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ অনিশ্চিত লোকালয় প্রকাশিত হয়। তার পরবর্তী উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অমল ধবল চাকরি, ছায়াদম্পতি, শহর, হে শূন্যতা, হে অনন্তের পাখি, মধ্য মাঠের খেলোয়াড়, এক প্রিয়দর্শিনী, মন্ত্রিসভার পতন, দুই নারী, কোলাহল ইত্যাদি।

    ইতিমধ্যে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৩), সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৫), সুফী মোতাহার হোসেন পুরস্কার (১৯৭৯), আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮২), ত্রয়ী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮) এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় একুশে পদক (১৯৯৬) পেয়েছেন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বিদায় ফুটবল ঈশ্বর!

    ২৫ নভেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১