• শিরোনাম

    শিক্ষাবিদ থেকে রাজনীতিবিদঃ খান বাহাদুর মাহাতাবউদ্দিন

    নির্ণয় চৌধুরী, দিনাজপুর | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০


    শিক্ষাবিদ থেকে রাজনীতিবিদঃ খান বাহাদুর মাহাতাবউদ্দিন

    এই সময়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিরা রাজনীতিতে তেমন একটা স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না।কিন্তু দিনাজপুরের খান বাহাদুর মাহাতাবউদ্দিন যেমন করে উচ্চ শিক্ষায় নিজে শিক্ষিত ছিলেন তেমনি করে রাজনীতিবিদ হিসেবে দিনাজপুরের জনগণকে শিক্ষিত করার প্রচেষ্টাও প্রচুর করেছেন।মাহতাবউদ্দিন আহমদ ১৮ শতকের মধ্যভাগে জন্মগ্রহণ করেন।

    তিনি ছিলেন দিনাজপুর জেলার প্রথম দিকের মুসলমান শিক্ষাবিদ।পেশায় তিনি ছিলেন বিভাগীয় স্কুল ইন্সপেক্টর। তিনি যে সময় সরকারী উচ্চ পদে চাকরী করতেন তখন ঐসব পদে মুসলমানের সংখ্যা সামান্যই ছিল। তাই তিনি দিনাজপুরের মুসলমান সমাজের গর্বের পাত্র ছিলেন। তিনি শিক্ষা বিভাগে চাকরি গ্রহণ করেন এবং প্রথমে সহকারী স্কুল পরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ পান।পরবর্তীতে বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।পরবর্তীতে তিনি এলএলবি পাস করেন। সে সসময় শিক্ষা বিভাগে এত বড় পদ লাভ করা খুব কঠিন ব্যাপার ছিলো। চাকরি থেকে অবসর লাভের পর দিনাজপুর জেলা আদালতে তিনি আইন ব্যবসা শুরু করেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।


    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে ১৯৩৭ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় আইনসভার নিম্ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।খান বাহাদুর মাহতাবউদ্দিন (দিনাজপুর মধ্য পশ্চিম মুসলিম আসন)  স্বতন্ত্রপ্রা র্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। অন্যদিকে  মুসলিম লীগ প্রার্থী ছিলেন  মৌলভী এডভোকেট কাদের বকস মির্জা। নির্বাচন এ মুসলিম লীগ প্রার্থী কাদের বকস কে পরাজিত করে  এমএলএ হিসেবে নির্বাচিত হন মাহতাবউদ্দিন আহমেদ । (বর্তমান সময়ের সংসদ সদস্য বা এমপিকে সেই সময় এমএলএ বলা হতো, এমএলএ এর পূর্ণ রূপ মেম্বার অফ লোয়ার এসেম্বলি)।

    নির্বাচন এ বিজয়ী হয়ে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন। তিনি মুসলিম লীগে যোগদান করলেও পার্টির কোনো রকম পদে দায়িত্ব পালন করেননি। তবে ১৯৩৭ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের কার্যকরী সংসদের দিনাজপুর জেলার প্রতিনিধি নির্বাচিত  হন।তিনি ছিলেন আমৃত্যু এমএলএ।এবং দিনাজপুর জেলা বোর্ড চেয়ারম্যান। ১৯৩৯ সালে  দিনাজপুর জেলাবোর্ডের নির্বাচন এ  মুসলিম লীগের মনোনয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি দিনাজপুর জেলা বোর্ড এর প্রথম মুসলিম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।তার পূর্বে অন্য কোনো মুসলিম প্রার্থী চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয় লাভ করতে পারেন নি।


    বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী হিসেবে তিনি পাকিস্তান সরকারের কাছে খান বাহাদুর উপাধি লাভ করেন। দিনাজপুরের অনেক স্কুল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করতে তার প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভূমিকা ছিল। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত  সমাজসেবক।  সৎ, সদালাপী ও পরোপকারী এই মানুষটি জনগণের এতই মন জয় করতে পেরেছিলেন যে, তখন তার নামটি ছিল সবার মুখে মুখে। দিনাজপুর শহরের কসবায় তার বাসভবন ছিলো। তিনি ১৯৪১ সালে মৃত্যু বরণ করেন।তাকে সম্ভবত কসবা কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

    তার এক পুত্র ছিলেন কোলকাতা করপোরেশনের নামকরা চিকিৎসক ডা মোতাহার উদ্দিন আহমদ। এবং মাহতাবউদ্দিন এর পুত্রবধূ জয়নব রহিম ছিলেন দিনাজপুরের প্রথম মুসলিম মহিলা গ্রেজুয়েট এবং কোলকাতা করপোরেশন পরিচালিত স্কুল পরিদর্শক ।


    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১