• শিরোনাম

    সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোঃ সরওয়ার হক চৌধুরীর করোণাকালের কবিতা “খিদেটা বড্ড হারামি”।

    | ০৪ জুলাই ২০২০


    সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোঃ সরওয়ার হক চৌধুরীর করোণাকালের কবিতা “খিদেটা বড্ড হারামি”।

    খিদেটা বড্ড হারামি
    ==========
    ১.
    লকডাউন লকডাউন খেলা,
    হাজার মানুষের মেলা।
    খিদেটা বড্ড হারামি,
    পাকস্থলির হাহাকার নেই কারও মেহেরবানী।
    মধুর হাঁসি হারিয়ে মলিন চেহারা,
    মানুষগুলো কথা শোনে না একেবারেই বেয়ারা।
    রেডজোনে হৃদয়ে লাল রক্তক্ষরণ,
    কান্নার আওয়াজ, হয়েছে কারও মরণ।
    কাজ হারানো মানুষ এদিক সেদিক ছুটছে,
    জীবন বাঁচাতে তাই একটা চাকুরি খুঁজছে।
    কবিতা বলে হায় মানুষতো চোখ বুঁজছে,
    কান্নার জল ছলছল মানুষ চোখ মুছছে।
    বাসা – বাড়িতে কাজে যাওয়া নিষেধ, উঠেনি চূলোয় রান্না,
    খিদেটা বড্ড হারামি, এলাকা জুড়ে শিশুদের কান্না।
    মধ্যবিত্তের হৃদয়ের চিৎকার কেউতো শোনে না,
    লজ্জায় নিশ্চুপ সয়ে যায় গঞ্জনা।
    সমাজতন্ত্রী ভাইরাস, ধনী গরিব সবাই সমান,
    দেশে দেশে দিচ্ছে অনেক দাম।
    জনপ্রতিনিধির ত্রাণ চুরি, তারা বলে মিছেমিছি,
    ধরা পড়লে থুক্কু, মানুষ বলে ছি ছি।
    মানুষ ছাড়ছে প্রাণের ঢাকা, কষ্টের ঢাকা,
    অসহায় জীবনের পথ বাঁকা।

    ২.
    বড়লোকের বড় পেট ডাকে হুড়মুড়,
    অঝর ধারায় বৃষ্টি ঝরে, আকাশ ডাকে গুড়গুড়।
    সাড়ে তিন হাত নয় বারো হাত তাইতো স্বাস্থ্য সচেতন,
    নানান রকম খাবার, প্রতিদিন বনভোজন।
    মধ্যবিত্তের নিয়ম মানা জীবন,
    জমাটাও ফুরিয়ে গেছে ডুকরে কাঁদে মন।
    তাঁদের কথা কেই ভাবে না, ক্ষোভ আর যন্ত্রণা,
    যেন বাঁচতে চাওয়া মানুষগুলো একদম অচেনা।
    গরিবের ত্রাণ লুটে খায় জনপ্রতিনিধি,
    যদি হয় বিক্ষোভ, কাটে দিব্যি।
    দুখের দিনে বাঁচতে একটুখানি গরম ভাত,
    হবে ভোর, উঠবে সূর্য, কাঁটবে অন্ধকার রাত।


    ৩.
    শ্রমিক জানে না কারখানা খোলা না বন্ধ?
    হারিয়ে গেছে জীবনের ছন্দ।
    সাধারণ ছুটিতে সবাই যখন বাড়িতে,
    যানবাহন বন্ধ, তারপরও শ্রমিক আসছে সারিতে সারিতে।
    আমার বোনটি নিজ বাহন পায়ে চেঁপে কারখানার সামনে অজ্ঞান,
    লজ্জিত মানবতা, হৃদয় ভেঙ্গে খান খান।
    চাকুরিচ্যুতির হুমকি, আর বেতন দেয়ার অজুহাত,
    ঘরের দরজা বন্ধ, কাঁটাবে কোথায় রাত?
    যেখানে ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ নেই, আছে করোণার আঘাত,
    দূরে কান্নার আওয়াজ আর মৃত্যুর স্বাদ।
    কাজের বেলায় ষোলআনা, বেতন দিতে গড়িমসি,
    ওরা অমানবিক, ওরা শ্রমিক নির্যাতনে পারদর্শী।

    ৪.
    ঘরবন্দি মানুষের মাথার ভিতর অন্ধকার,
    হাতে স্মার্টফোন, কল করে বার বার।
    বই পড়া, গান শোনার প্রতি অনিবার্য আকর্ষন,
    তবুও ঘুচে না একাকিত্ব, চায় পরিবেশের পরিবর্তন।
    শরীর ভালো থাকলে মনও ভালো এটিই স্বাভাবিক প্রবৃত্তি,
    প্রয়োজন জীবনের ক্লান্তি ও অবসাদ হতে মুক্তি।
    পাকুর গাছের ডালে ডালে বাবুই নাচে, দোয়েল নাচে,
    সবুজের ছাঁয়ায় নিশ্বাসে প্রশ্বাসে মানুষ বাঁচে।


    Facebook Comments


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১