• শিরোনাম

    সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোঃ সরওয়ার হক চৌধুরীর করোণাকালের কবিতা “বেওয়ারিশ”

    | ০৬ জুলাই ২০২০


    সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোঃ সরওয়ার হক চৌধুরীর করোণাকালের কবিতা “বেওয়ারিশ”

    বেওয়ারিশ
    =====
    ১.
    লাল, নীল, সাদা, হলুদ বেওয়ারিশ ফুল,
    লেগেছে পোকা পরিচর্যা নেই চারিদিকে ভুল আর ভুল।
    মালী হয়েছে জড়োসড়ো পেয়েছে অনেক ভয়,
    সুস্থ সতেজ ফুল ছড়াবে সুবাস নিশ্চয়।
    কাছে কেহ যায় না ফুলের সুবাসে বিষ,
    কানে কানে কথা বলে ফিস ফিস।
    ফুলের পাপড়িতে জল পড়ে ধুয়ে নিয়ে যাক,
    টল টলে জলে পোকা থেকে মুক্তি পাক।
    সবুজ পাতাগুলো বেদনা নিয়ে তাকিয়ে আছে,
    শেষ চেষ্টা, গাছের মূলে জল দেই যদি বাঁচে।
    বাগান মালিকের এত চেষ্টা, মানুষ বলে ঘুমিয়ে পড়েছে,
    পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাকুর গাছটি আকাশ ছুঁয়েছে।
    পায়ে পিষ্ট ফুলগুলো হারিয়েছে রঙ, নেই কারো মাথা ব্যথা,
    হারিয়ে গেছে আলো ঝলমলে রোদের মতো সততা।
    তোমার বাঁচার পথ হারিয়ে গেছে তাদের টাকার মোহে,
    অনৈতিকতা হেরে যাবে সকলের দ্রোহে।
    অন্যায় অবিচার চারিদিকে শুধু লোভ আর লোভ,
    এত কষ্ট, এত ধ্বংস, তারপরও জাগছে না শুভবোধ।
    দু’হাত বাড়িয়ে বেওয়ারিশ ফুলগুলো তুলে নেই,
    তুলতুলো নরম পাপড়িসহ রঙিন ফুলগুলো সেই।
    যে ফুলকে ভালবাসে না সেকি?
    মিছিলের সামনে আবার দেখায় ‘ভি’।
    তোমার স্পর্শ এখনও রয়েছে রক্তাক্ত লাল গোলাপে,
    হয়েছো অবৈধ টাকার মালিক ফুলে ফেঁপে।
    হয়েছে অবক্ষয়, মিথ্যাচারে ভরা স্বভাব,
    চারিদিকে শুধু ভালবাসার অভাব।

    ২.
    সামজিক দুরত্ব বজায় রাখার নামে মানুষ এখন একলা,
    বাঁচলেও একা, মরলেও একা ডুবে যায় বেলা।
    সামজিক বন্ধন নেই এ কেমন বেঁচে থাকা,
    মরলে বেওয়ারিশ জীবনটা আঁকা – বাঁকা।
    কেউ কেউ গুজবে ব্যস্ত চারিদিকে বেওয়ারিশ,
    গুজব প্রতিষ্ঠিত করতে কেউবা করে সুপারিশ।
    কাক ডাকে কা কা অমঙ্গলের সুর,
    অসহায় মানুষের কান্না, জীবনটা বেদনা বিদুর।
    ধনী – গরিব সবার মাঝে বিশ্ব মহামারী,
    জীবন বাঁচাতে সবাই সবাইকে দিয়েছে আঁড়ি।
    মহামারীর ধাক্কায় জীবন গেছে থমকে,
    সারি সারি মৃত্যু হৃদয় গেছে চমকে।


    ৩.
    শিক্ষার্থীদের চলছে এখন ভার্চুয়াল ক্লাস,
    নেই বাচ্চাদের হৈ হুল্লোড়, চলছে না স্কুল বাস।
    বাদাম, চানাচুর, আঙ্কেলের মূখে নেই হাঁসি,
    নানান রকম ফেরিওয়ালার বাজে না মিষ্টি বাঁশি।
    খেলার মাঠে শিশুদের নেই চিৎকার, দোলনা দোলে না,
    স্কুলের প্রতিটি মূহুর্ত শিক্ষার্থীরা ভোলে না।
    নিয়মানুবর্তিতা ও শৃংখলাবোধের মাঝে বেড়ে ওঠা প্রতিটি সময়,
    ঘরবন্দি জীবন আর স্কুলে যাওয়া জীবন এক নয়।
    জীবন – মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চারিদিকে মহামারীর ভয়,
    ক’টা দিন স্কুলে না গেলে জীবনটা হবে না ক্ষয়।
    দুঃখের দিনে দুঃখের কথা অনেকের নেই স্মার্টফোন,
    ইন্টারনেট পরিচালনায় পায় না শিক্ষা লোন, কাঁদে আমার বোন।

    ৪.
    কানে কানে কথা বলে মহামারী কবে হবে শেষ?
    একলা ও একঘেয়েমিতে জীবনটা নেই বেশ।
    বাজার গেলে মুরুব্বিদের মাস্ক পরার অনুরোধ,
    নৈতিক মূল্যবোধের সাথে সম্পর্কিত মানুষের জীবনবোধ।
    সামাজিক দুরত্ব তো দূরের কথা করছে হুড়োহুড়ি,
    করোণা’র আঘাত যেন তাদের কাছে মুড়িমুড়কি।
    হাঁসবে নাকি কাঁদবে, তাদের বেপরোয়া কাজ দেখে,
    অনেক আগেই দেখতাম, ঘুরতাম জোছনা মেখে।
    সাহসী মানুষগুলো পালিয়ে যায়, মানুষ মরলে হয়ে যায় বেওয়ারিশ,
    কেউ তো নেয় না দায়িত্ব, ছুটে যায় অফিস।
    ত্রিশ মিনিটের অক্সিজেন আশি হাজার,
    তারপরও বড় বড় স্যারেরা হয় না বেজার।
    টাকাতো তাদের কাছে হাতের ময়লা,
    নিস্তব্ধ সকালে মানুষতো একেবারেই একলা।


    *****

    সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোঃ সরওয়ার হক চৌধুরী

    Facebook Comments


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১