• শিরোনাম

    ২৫শে মার্চ রাজারবাগ পুলিশের আত্মত্যাগ ও ১৫ই আগষ্টের ট্রাজেডিঃ ইতিহাসে উপেক্ষিত একটি বাহিনী।

    দি গাংচিল ডেস্ক | ১৬ আগস্ট ২০২০


    ২৫শে মার্চ রাজারবাগ পুলিশের আত্মত্যাগ ও ১৫ই আগষ্টের ট্রাজেডিঃ ইতিহাসে উপেক্ষিত একটি বাহিনী।

    কে এএসআই ছিদ্দিকুর রহমান আর ডিএসপি অফিসার নুরুল ইসলাম খান?? প্রজন্মের জানা জরুরী।

    বাংলাদেশ পুলিশ ইতিহাসে  বরাবর উপেক্ষিত একটি বাহিনী। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাজারবাগে পুলিশের আত্মত্যাগের ইতিহাস অনেকের অজানা। আবার অনেকের জানা থাকলেও নেই কোন চর্চা নেই কোন স্মীকৃতি। পাকিস্তানী বাহিনীর অপারেশন সার্চ লাইট  কালো রাতে সেই অসম থ্রি নট থ্রি রাইফেল দিয়ে সীমাহীন সাহসিকতায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন পুলিশের বীর সদস্যরা। সেই রাতেই আট শতাধিক পুলিশ সদস্য শহীদ হয়েছিলেন।

    রাজারবাগে পুলিশের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বুঝতে পারে পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকতা ও দেশপ্রেম। তাই গোটা পূর্ব পাকিস্তানে পুলিশকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনা হাতে নেয়।


    কারণ বাঙালি পুলিশ সদস্যরা ছিলেন বঙ্গবন্ধু মুজিব ভক্ত। তাইতো মার্চের শেষ সপ্তাহ এবং এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে যেখানেই পাকিস্তানি বাহিনী হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে সেখানেই তারা পুলিশ থানা দখলে নিয়েছে।

    পরিস্থিতি বুঝেই বাঙালি পুলিশ সদস্যরা প্রায় সব থানার অস্ত্রাগারের অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেন  আর  নিজেরাও গড়ে তোলেন প্রতিরোধ । প্রতি জেলায় একই ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশের ডিআইজি, এসপি পদমর্যাদার অনেক অফিসার শহীদ হয়েছেন। কারণ পাকিস্তানি হায়েনাদের আক্রোশে বড় টার্গেট ছিলো বাঙালি পুলিশ।


    যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেখা গেল পুলিশ বাহীনির কেউই বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পাননি।  বীরউত্তম খেতাবও কপালে জোটেনি এমনকি। চার দশক পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের অবদান ছিল উপেক্ষিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ২০১১ সালে পুলিশকে দেয়া হয় স্বাধীনতা র পদক। পুলিশের বীর শহীদ কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়েছে পরে।

    স্বাধীনতার পর পুলিশকে জনগণের পুলিশ হতে বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু তার নিজ মুখে। সেই কথাও রেখেছিল পুলিশ । ১৯৭৫ সালে পিজিআর গঠনের আগ পর্যন্ত ঢাকা জেলা পুলিশ বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছিলো সফল ভাবে। বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছে নিতে পুলিশ সবসময় সজাগ ছিল। প্রতিটি সরকারী সফরে পুলিশ সদস্যরাই বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার এবং প্রটোকলের দায়িত্ব পালন করতেন।


    দিনকাল ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫। ভোররাতে পিজিআর সদস্যদের অস্ত্র হাতে থাকার পরও আত্মসমর্পণ করাতে বাধ্য করেছিলেন। কারণ তাদের বন্দুকে কোন গুলিই ছিল না। ১৪ আগস্ট গভীর রাতে পিজিআরের সুবেদার ওয়াহাব জোয়ার্দার ঘাতকদের সাথে ষড়যন্ত্র করে পিজিআরের সব গুলি নিজের জিম্মায় নিয়ে নেন বলে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়।

    গুলিবিদ্ধ হন পুলিশের ডিএসপি অফিসার নুরুল ইসলাম খানও। সব পুলিশ সদস্যকে বন্দী করে  এবং অস্ত্র কেড়ে নেয় ঘাতকেরা। কিন্তু কোন পুলিশ সদস্যের গুলিতে রক্তাক্ত হয়নি বঙ্গবন্ধুর  বুকের পাঁজর।

    ইতিহাসে কিভাবে উপেক্ষিত পুলিশ?
    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শহীদদের তালিকার মধ্যে কর্নেল জামিলের ছবি দেয়া হয়েছিল। তাই সবাই মরহুম জামিল সাহেবের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানার সুযোগ পেলেন। শহীদ এ এস আই ছিদ্দিকুরের নাম ক’জনই আর  জানেন বলুন? সেদিন গুলিবিদ্ধ পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম খানের খবর ক’জন রেখেছে ? মানুষ জানেই না,খবর রাখেনা । কারণ তারা পুলিশ আর পুলিশের পরবর্তী প্রজন্ম সাহস করে বিষয়টিকে সামনে আনেনইনি। অথবা কেউ সে সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়নি কেউ।

    নুরুল ইসলাম খান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা , বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ  একজন সাক্ষী ছিলেন। ১৯৯৭ সালে ফ্রিডম পার্টির সদস্যরা গাজীপুরে তার মাথা ইট দিয়ে থেঁতলে দিয়েছিল। আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে যান এবং আদালতে সাক্ষ্য দেন ঠিকঠাক। তাঁর বড় ছেলে এরশাদের সময় ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ভিপি ছিলেন তখন।

    স্থানীয় রাজনীতির রোষে পড়েন।  আরেক সন্তান  নাহিদ খান বর্তমানে বিজিবির রংপুর রিজিওয়ন কমান্ডার এখন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল । বিভিন্ন সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিজিআরের দায়িত্বে ছিলেন ও পালন করেছেন দায়িত্ব সফল ভাবে। সম্প্রতি  কুমিল্লা সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার করা হয়েছে তাকে।

    নুরুল ইসলাম খান ৮৮ বছর বয়সী এখন, আমেরিকায় থাকেন এখন। গত ডিসেম্বর মাসে তিনি দেশে এসেছিলেন একবার। তখন তাকে খুঁজে বের করেন সিনিয়র এ এস পি সুদীপ্ত সরকার। মেধাবী এই অফিসার মনেপ্রাণে একজন দক্ষ গবেষক। ঢাকা

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১