• শিরোনাম

    আলভীর কল্পলোকের গল্পঃ লিখেছেন -তানজিনা তাজিন

    | ১৫ জুন ২০২০


    আলভীর কল্পলোকের গল্পঃ লিখেছেন -তানজিনা তাজিন

    ছবিঃ আলভী

    ছোট্ট আলভী আমাদের পরিবারের সুখের উৎস যে সবসময় তার কাজ আর আলতো আহ্লাদী হাসি মাখা মুখ দিয়ে সবাইকে উৎফুল্ল করে রাখে।তার এই প্রায় পাঁচ বছর জীবনের শুরু থেকে যে সুখ ও প্রশান্তি আমাদেরকে দিয়েছে তার জন্য আমরা সবাই আন্দদিত ও উচ্ছাসিত ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা অবারিত। এবার আসি আলভীর কল্পনার অগোছালো গল্প নিয়ে, আলভী প্রতিদিন সকালে উঠে তার দেখা স্বপ্নের কথা বলে যা প্রত্যেককেই শুনতে হয় আর তার অধিকাংশ স্বপ্নগুলোই হয় ডাইনোসরকে নিয়ে। সে ছবি আঁকতে ও কার্টুন দেখতে বেশি ভালোবাসে।সে বিশেষ করে রোবট ও টাইমমেশিনের ছবি আঁকে যে রোবট তার নিজের শরীরে বিদ্যমান এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করে বলে সে মনে করে।

    সে আরও ভালোবাসে তার গল্পগুলো যেকোনো মানুষকে শোনাতে।গল্পগুলো থাকে তার নিজের কল্পনার জগৎ ঘিরে। যেমন আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে সে আমাকে তিনটি গল্প শুনিয়েছে তার মধ্যে একটি হলোঃএকটা ইদুর এক লোকের সব গাজর খেয়ে ফেলছিল।লোকটা বলছিল,”আর খেয়ো না, আর খেয়ো না।”কিন্তু ইদুঁরটা সব গাজর খেয়ে ফেললো আর লোকটা দুঃখী হয়ে গেল।এখন যদি লোকটার ক্ষিদে পায় তাহলে সে কি খাবে?কি খাবে?তাহলে সে পেয়ারা খেয়ে নেবে।এই বলে সে নিজেই হেসে গড়াগড়ি দেয়।  তার এমন ছোট ছোট হাস্যরসাত্মক গল্পের মধ্য থেকেই বোঝা যায় “সবার সাথে খেলনা ভাগাভাগি করতে হয় কারণ সবাই তার বন্ধু, স্কুলে গিয়ে সে সবার সাথে সুন্দর করে কথা বলবে। সবাইকে সাহায্য করবে আবার যেমন কোনো কাজ শুরু করলে সেটা শেষ করতে হয় এমন অনেককিছুই যা আলভী তার বুদ্ধি দিয়ে ভাবার চেষ্টা করে এবং তার বাস্তবায়ন ও চায়।


    আলভী

    এই যেমন ইচ্ছে হলো সে পাইলট হবে,সে প্লেন কেমন কাছ থেকে না দেখলেও আকাশে উড়ে যাওয়া দেখেছে,টেলিভিশনে দেখেছে, সেই পাইলট হতে গেলে কেমন করে প্লেন চালাতে হয় এই ভাবনায় সে মত্ত,হঠাৎ করে খাতা পেন্সিল নিয়ে প্লেন আঁকা শুরু করলো। একে নিয়ে সেই প্লেনে কোথায় সে বসবে কিভাবে চালাবে,কোথায় আরো মানুষ কে বসাবে এসব অবলিলায় বলতে থাকে।তার কল্পনায় সব কিছুর মাঝে কিছু আপন মানুষ কে সে প্রতিনিয়ত ই রাখে,এই যেমন প্লেনে মা, বাবা,খালামনি,নানা-নানু কোথায় বসবে এগুলো তার বাস্তব ও কল্পনার জগৎ এ বরাবরই থাকে।

    আলভীর উচ্ছলতা ও উচ্ছাসের সকল প্রকাশ বাস্তবের সাথে মিল রেখে কিছু বাস্তবায়ন করার জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা প্রয়োজন যা আমাদের পরিবার সমাজে নেই।আসুন আমরা সকলেই এমন হাজারো আলভীর কল্পনাকে বাস্তবে পুরোটা রুপ না দিতে পারলেও শিশুর সঠিক বিকাশে যে যার জায়গা থেকে সচেতন হয়ে শিশুদের জন্য সময় দেই।সেটা না হোক বড় সময় ছোট্ট কিছু সৃজনশীল সময় ও চিন্তার খোরাক ওদের দেই যাতে করে ওরা সঠিক ভাবে বেরে উঠুক। তবে সবার আগে মা-বাবার ভূমিকার কোন সীমা নেই, মা-বাবার সঠিক জানা ও বোঝার চেষ্টায় একজন শিশু কল্পলোকের জগৎ থেকে বাস্তব জীবনে পূর্ণ ভালো মানুষ হয়ে উঠতে পারে।আজ আলভীকে নিয়ে এই পর্যন্তই থাক, আসবো আরেকদিন আসবো আলভীর কল্পলোকের গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে।


     


    তানজিনা তাজিন

     

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    লাইবার আঁকা ছবি

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১