• শিরোনাম

    পরিমণি কান্ড এবং আমাদের নির্বুদ্ধিতা : মাহমুদুল হাকিম তানভীর

    | ১২ আগস্ট ২০২১


    পরিমণি কান্ড এবং আমাদের নির্বুদ্ধিতা : মাহমুদুল হাকিম তানভীর
    একটা ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়ের পথে চলেছি আমরা। আমাদের নির্বুদ্ধিতা, আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের চিন্তাশক্তিই এজন্য দায়ি। পরিমণির এক্সক্লুসিভ ভিডিও দিয়েই বিষয়টাকে দেখি। কলিগ পাঠাচ্ছে কলিগের কাছে, বয়ফ্রেন্ড পাঠাচ্ছে গার্লফ্রেন্ডের কাছে, বন্ধু পাঠাচ্ছে বন্ধুর কাছে। হয়তো কোন না কোনভাবে দেখে ফেলছে আমাদের বাসারই কোন অবুঝ শিশু!

    যারা হয়তো ইউটিউবে কার্টুন দেখার ফাঁকে পৌঁছে যাচ্ছে এইসব জঘন্য ভিডিওর কাছে। এসব নিয়ে আমাদের উত্তেজনার শেষ নেই। সেফুদা কিভাবে গালিগালাজ করলো, শেয়ার করছি একে অপরকে। মাহফুজুর রহমান কিভাবে গান গাইলো, শেয়ার করছি একে অপরকে।

    হিরো আলম কিভাবে নতুন নতুন উপায়ে গান শুনিয়ে আমাদের উত্তেজিত করলো, শেয়ার করছি একে অপরকে। হেলেনা জাহাঙ্গীর কি শিল্পী, রাজনীতিক নাকি সমাজসেবক? এসব সস্তা রুচির ভিডিও দেখতে দেখতে হয়তো আমরাই আমাদের শিশুদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি এসব ভিডিও।


    কোন নায়িকা ক্লিভেজ দেখিয়ে নাচলো, বৃষ্টিতে ভিজলো, শেয়ার করছি একে অপরকে। চলে যাচ্ছে হয়তো বাসাটার সবচেয়ে ছোট শিশুটার কাছে, বাড়ির সবচেয়ে কাছের মানুষটার কাছে।বাড়ছে অবিশ্বাস, বাড়ছে দুশ্চিন্তা। মহামারীর মতো বাড়ছে অবক্ষয়। পরিমণির মোবাইল ট্র্যাক করে সাকলাইনকে তার চুমু খাওয়ার দৃশ্য ঘুরছে মোবাইল থেকে মোবাইলে।

    ছড়িয়ে পড়ছে ফেসবুকের ভিডিও অপশনে, নয়তো ইউটিউবে!ভয় পাচ্ছি এরপর পরিমণির বেডসিন না দেখতে হয়। অবশ্য এমন একটা সিনেমার দৃশ্যও ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা আমাদের রিয়েল সিন দেখাতেই বেশি তাড়িত করছে। আমাদের চিন্তাশক্তিকে ভোঁতা করে দিচ্ছে।


    মানসিকতা গঠনে খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকে সরিয়ে রেখে দিনরাত উবু হয়ে যাচ্ছি মোবাইলের স্ক্রিণে! বই পড়ছি না, ফেসবুক পড়ছি। টিভিতে খবর কিংবা বিতর্ক শুনছি না, গঠনমূলক কোনকিছুর ধার ধারছি না। মাথাটাকে নিচু করে পথ চলছি আর ধপ করে হয়তো পড়েও যাচ্ছি নর্দমায়।

    অবশ হয়ে পড়ছি আমরা। পিতামাতার কোন দায় নেই যেন এসবে। অথচ সন্তানের শেষ আশ্রয় হওয়া উচিৎ ছিল পিতামাতা। বন্ধুর মতো পাশে থাকার কথা ছিল। টি-টাইম মুখর করার কথা ছিল কোন বই আলোচনায়।


    দয়া করে এসব বন্ধ করুন। অসুস্থ বোধ করছি। বিশ্বাস করুন এসব ভালো লাগছে না। ভীষণ অস্বস্তিবোধ হয় এসব দেখতে। বাড়িতে কার পরিবার কি অবস্থায় থাকে, কতটা নিরাপদে থাকে। ওদের চিন্তায় সারাক্ষণ অস্থির থাকতে হয়। ফেসবুক, ইউটিউবকে দোষারোপ করে কোন লাভ নাই।

    দোষটা আমাদের মানসিকতায়, চিন্তা করার শক্তির ভেতর। মানুস হওয়ার কিংবা গড়ার দৌঁড়ে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছি আমরা, আমাদের স্বজনেরা! এসব সহজলভ্য হলে মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখে দুশ্চিন্তাগুলো মাথাচাড়া দেয়। ভীষণ মন খারাপ হয়ে যায়, ভীষণ।

    Facebook Comments

    বিষয় :

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০