• শিরোনাম

    কালোমানুষের জীবনের দাম (পর্ব -৩) : রফিকুজ্জামান মহিদ

    | ০৯ জুলাই ২০২০


    কালোমানুষের জীবনের দাম (পর্ব -৩) : রফিকুজ্জামান মহিদ

    রেসিজম এর সঠিক বাংলা আমার জানা নেই, আমরা বর্ণবাদ শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করি, শাব্দিক প্রয়োগ যাই হোক আমরা সবাই এর মানে ঠিকই বুঝতে পারি। অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা সে অর্থনৈতিকভাবেই হোক বা শিক্ষায় বৈষম্য মোটামুটি সর্বত্রই , ধর্মের ব্যবহারও কম যায় না এই বৈষম্যের প্রতিযোগীতায়। যদিও একজন মানব শিশু জন্মগ্রহন করার পর সব দিক থেকে সমান মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রাখে সে নারী, পুরুষ, তৃতীয় লিঙ্গ, শারিরীকভাবে ত্রুটিযুক্ত, সাদা, কালো, বাদামী যাই হোক না কেন, রাষ্ট্র, সমাজ,ধর্ম কেউই তা সরাসরি অস্বীকারও করে না কিন্তু সেই শিশুটিই তার বেড়ে ওঠার সময়টায় পদে পদে দেখতে পায় বৈষম্যের বিষময়তা।

    প্রতিটি শিশুই পবিত্র মন নিয়ে সুন্দর ভাবে সবকিছুকে আপন করে নিতে চায়, আমরা বড়রা ধীরে ধীরে সেই শিশুটির কোমল মনে কালো ছায়া ফেলতে ফেলতে একসময় আমাদেরই ক্লোনকপি করে ফেলতে চাই, এমনসব কনটেন্ট দিয়ে চারিদিক আবৃত করে রেখেছি যার অধিকাংশই বৈষম্যের বিষেভরা। এখন দাবী উঠছে সরাতে হবে ঐসব স্ট্যাচু, মনুমেন্টস বা প্রতিষ্ঠানের নাম যেগুলোতে জড়িয়ে আছে ক্লেদাক্ত ইতিহাস।


    ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষার নামে আর একদলের মানুষ হা হু করছে সাথে সাথে তাদের পূর্বপুরুষের ন্যায় হুমকি ধামকি এমনকি শক্তি প্রয়োগও করছে কোনও কোনও ক্ষেত্রে , এই বিভাজনের চেষ্টায় কি অর্জন হবে তা সহজেই অনুমেয়। পৃথিবীতে মহামারীতে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তার চেয়ে বেশী মানুষ বৈষম্যের স্বীকার হয়ে মৃত্যুবরন করেছে, যতো গনহত্যা সংগঠিত হয়েছে তা ঐ রেসিজম এর জন্যই, তবে কি আমরা আবারও পৃথিবীব্যাপী মানুষ হত্যার প্লট তৈরী করে চলেছি।

    সাধারন জনগন সমস্ত দুনিয়াতেই শান্তিকামী সব দেশেই মানুষ মানুষে ভেদাভেদ চায় না, কিন্তু এই সাধারন মানুষদের যারা পরিচালনা করেন সেই রাজনৈতিক আদর্শ তার নেতৃত্ব তা কখনওই পুরোপুরি চায় না, বিশেষ করে মানবাধিকারের ধারক বাহক গনতন্ত্রের নেতৃত্বদানকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক্ষত্রে সবচেয়ে এগিয়ে তার নীতি নৈতিকতায় যদিও মুখে তার মতো ভালো কেউ নেই সে ছাড়া। এপর্যন্ত যতজন প্রেসিডেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পেয়েছে তার কয়জন রেসিস্ট ছিলেন না তা রীতিমতো গবেষণার বিষয়।


    এর যৌক্তিক কারণও আছে, দীর্ঘ সময় ধরে চলমান গনতান্ত্রিক রাজনৈতিকধারায় সামাজিক অর্থনৈতিক পালাবদলের হাওয়ায় তাল মিলিয়ে চলা এবং মিশ্রসংস্কৃতির পাল্লায় মার্কিন জনগোষ্ঠীর বড় একটা অংশ ইউরোপীয় বংশোদ্ভুত কঠোর পরিশ্রমী সাদা মানুষ যারা গ্রামীন কৃষি উতপাদনে জড়িত তারা নিজেদের সুযোগ সুবিধা হারানোর ভয়ে থাকেন, এই শ্রেনীর মানুষ সাধারনত অত্যন্ত সহজ সরল অতটা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত নয় বংশ পরম্পরায় তাদের কৃষি খামার নিয়েই কাটিয়ে দেন, মাটির সাথে তাদের যোগাযোগ অত্যন্ত নিবিড় অন্যদিকে অন্য অভিবাসীরা শহরে বসবাস কারী ও শিল্প উতপাদনেই বেশী জড়িত। আফ্রিকান আমেরিকান কালোমানুষেরা শিক্ষায় সম্পদে অনেক পিছিয়ে তারা নিজেদের বঞ্চিতই ভাবেন, তাদের এ অবস্থা অনেকটা উপেক্ষেতই থাকে।

    রাজনৈতিক দলদুটো তাদের ক্ষমতায় যাওয়া বা থাকার জন্য যে খেলা করে তাতে অত্যন্ত সুকৌশলে মুল সমস্যাকে এড়িয়ে চলে ভোটের বাক্সকে সুরক্ষার জন্য।


    “We believe in equal opportunity, equal justice, and equal treatment for citizens of every race, background, religion, and creed.

    Every child, of every color—born and unborn—is made in the holy image of god”

    উপরোক্ত বাক্যগুলো অত্যন্ত সুন্দর সাবলীল যা জনাব ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলেছেন, অত্যন্ত লোভনীয় কথা, কিন্তু মার্কিন গরীব মানুষ যাদের স্বাস্থ্যবীমার সামর্থ্য নেই যারা বেশীরভাগই কালোমানুষ তারা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতই থাকেন, ডেমোক্রাটিক প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবার কথা বলতে গিয়েই নির্বাচনের দৌড় থেকে বাদ পড়েছেন বলেই মনে করার যথেষ্ট কারন আছে।

    পুরো পদ্ধতিতে ধনীক শ্রেনীর স্বার্থের বাইরে যাওয়ার নজির তেমন নেই। প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের বাক্যবানে আমাদের তৃতীয় বিশ্বের নেতারাও পিছিয়ে আছেন জনাব ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে, সবকিছুকে উপেক্ষা করে নিজের ঢোল নিজেই পিটিয়ে যাচ্ছেন করোনা মহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দেড় শত হাজারের কাছাকাছি তবুও তাকে কোনই গুরুত্ব দিচ্ছেন না জনাব প্রেসিডেন্ট, তার কাছে হয়তো ভোটের হিসেবে এটা তেমন বিষয়ই নয় , সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য তার এজেন্ডা বলতে তিনি তার এই মেয়াদের অভিজ্ঞতাকেই সম্বল মনে করেন ,২০২০ নির্বাচনের আরো বেশকিছুদিন বাকী আছে ফেক মিডিয়া, ল এন্ড অর্ডার, হোক্স ইত্যাদি তত্ব মার্কিন ভোটাররা বিশ্বাস করা শুরু করলে বিপক্ষ দল ২০১৬ এর পূনরাবৃত্ত্বি দেখতেও পারে এজন্য ডেমোক্র্যাট শিবিরে এখনও শংকা রয়েই গেছে।

    কোভিড পরবর্তী বিশ্ব আর আগের জায়গায় থাকবে না, বিশ্ব নেতৃিত্বের আসীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান কোথায় দেখতে চায় তা সময়ই বলে দিবে তবে অভ্যন্তরীণ বর্তমান বিএলএম আন্দোলন পথ হারালেও তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির খুব বেশী পরিবর্তন হবে তেমন লক্ষন নেই।

    ………………….চলবে

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১