• শিরোনাম

    খাগড়াছড়িতে স্থানীয় পর্যায়ে বেসরকারি উন্নয়ন

    খাগড়াছড়িতে প্রান্তিক জনগণের ভরসার নাম জাবারাং কল্যাণ সমিতি

    কৌশল চাকমা, খাগড়াছড়ি | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০


    খাগড়াছড়িতে প্রান্তিক জনগণের ভরসার নাম জাবারাং কল্যাণ সমিতি

    ফাইল ফটো

    জাবারাং কল্যাণ সমিতি। খাগড়াছড়ি জেলায় এক অতি পরিচিত নাম। দীঘিনালা থেকে মানিকছড়ি, পানছড়ি থেকে মহালছড়ি সমগ্র জেলার আনাচে কানাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এ সংস্থার হাজার হাজার উপকারভোগী।

    দারিদ্র্যমুক্ত সুশিক্ষায় শিক্ষিত, সামাজিক সাম্যতা, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ক্ষমতায়িত ও নিরাপদ একটি সমাজ বিনির্মানের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৫ সালের ২৮ জানুয়ারি এই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সংস্থাটি খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম এলাকার প্রান্তিক জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।


    বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলার সকল উপজেলায় জাবারাং এর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিষ্টিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, বন সংরক্ষণ, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু অধিকার ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার কাজ নিরলসভাবে করে চলেছে।

    জাবারাং কল্যাণ সমিতি মূলত দাতা সংস্থার সাহায্যে পরিচালিত একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। দেশি বিদেশি বিভিন্ন দাতা সংস্থার অর্থায়নে এই সংস্থাটি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করে থাকে। আর এসব উন্নয়ন কাজ পরিচালনার জন্য দক্ষতার সাথে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার নেতৃত্বে জাবারাং ম্যানেজমেন্টের কিছু পরীশ্রমী সদস্য। বর্তমানে জাবারাং সমগ্র খাগড়াছড়ি জেলায় ৪ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সেগুলো হলো বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহযোগিতায় স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সেতু-এমএলই প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সহযোগিতায় ওএলএইচএফ প্রোগ্রাম এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এর সহযোগিতায় ওয়াই-মুভস প্রোগ্রাম।


    জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, জাবারাং কল্যাণ সমিতি খাগড়াছড়ি জেলার সকল শ্রেণীর মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে। অতীতে পার্বত্য এলাকায় দাতা সংস্থাগুলোর সহযোগিতা বেশি থাকলেও বর্তমানে রোহিঙ্গা সমস্যা এবং করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে দাতা সংস্থাগুলোর অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র পরিবর্তন হওয়ায় এখানকার স্থানীয় এনজিওদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কিভাবে কার্যক্রম আরো গতিশীল করা যায় আমরা সকলে মিলে সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি ।

    শান্তিচুক্তি পরবর্তী সময়ের পর থেকে পার্বত্য এলাকায় বিভিন্ন এনজিও সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেও খুব কম সংখ্যক এনজিও দীর্ঘসময় ধরে টিকে থাকতে পেরেছে। এই দিক দিয়ে ব্যতিক্রমী কিছু এনজিওর একটি হচ্ছে জাবারাং কল্যাণ সমিতি। দক্ষতার সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষমতা, উন্নয়ন কাজে নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার, পরিশ্রমী ম্যানেজমেন্ট, সততা, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি, নারীদের জন্য সুন্দর কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, সঠিক কর্মী ব্যবস্থাপনা, অতীতের সুনাম ইত্যাদি বহুবিধ গুণের কারনে এই সংস্থাটি বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলার সকল শ্রেণীর মানুষের এবং দাতা সংস্থাগুলোর আস্থার অন্যতম ঠিকানা হিসেবে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছে।


    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১