• শিরোনাম

    চাষ আবাদ :

    শিমচাষে কপাল খুলেছে মনিরামপুরের কৃষকদের

    কাজল মল্লিক, খুলনা থেকে। | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০


    শিমচাষে কপাল খুলেছে মনিরামপুরের কৃষকদের
    ধইঞ্চা গাছের ওপর শীতকালীন শিমচাষে কপাল খুলেছে মনিরামপুরের কৃষকদের।
    একমূখী চাষকে বাদ দিয়ে কৃষকেরা দ্বিমুখী চাষের পথে।অনেক দিন ধরেই ধানের দামের চেয়ে বেশি হচ্ছে ধান চাষের খরচ।যার কারণে কৃষকেরা পড়েছিল খুব বিপদে।

    ধানের দাম না থাকায় তারা বেছে নিলো অন্য পথ।ধইঞ্চা গাছের উপর শীতকালীন শিমগাছ উঠিয়ে দিয়ে করলো বাজিমাত।

    উপজেলার ইউনিয়ন চালুয়াহটি এবং ইউনিয়ন মশ্বিমনগরে প্রায় ৭৫০ বিঘা জমিতে চাষ হয়েছে শীতকালীন শিমগাছ।এই দ্বিমুখী চাষের উভয় ফসলে ভালো দাম পাওয়ায় দুই ইউনিয়ন এর কৃষকেরা এই চাষে আগ্রহী হচ্ছে।


    কয়েক বছর ধরে রামপুর গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন ধান চাষে ক্ষতির মুখে পড়েছিল। যার কারনে চাষ করা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলো।

    পরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে জুন মাস থেকে জমিতে শীতকালীন শিম চাষ শুরু করেন।প্রায় ৪৭ শতক কমিতে তিনি শিম চাষ শুরু করেন।তিনি বলেন,প্রথমে তিনি জমিতে ধইঞ্চা গাছ লাগান জুন মাসের দিকে।এই গাছ একটু বড় হলেই তার গোড়ায় শিমের বীজ বপন করেন।


    মাসের মধ্যে শিম গাছ গুলো বড় হয়ে যায় এবং তিনি শিম গাছ গুলো ধইঞ্চা গাছে উঠিয়ে দেন।শিম গাছ জায়গা পেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠে। ৪৮ শতক জমিতে আগস্ট মাসেই শিম গাছে ফুল আসে।

    আগস্ট মাসের শেষের দিকে তিনি শিম তুলে বাজারজাত করন করেন।প্রথম দিকে পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি করেন।এখন তিনি প্রায় ১১০ টাকা পর্যন্ত দাম পাচ্ছেন।


    কৃষক জাকির হোসেন বলেন,সম্পুর্ন জমিতে তার ব্যয় প্রায় ৫০০০ টাকা।এই ডিসেম্বর মাসের মধ্যে তিনি ৬০ হাজার টাকার বেশি শিম বিক্রি করবেন বলে আশা করেন।

    অন্য একটি গ্রাম হাকিমপুর যেখানের কৃষক বাশারত হোসেন বলেন,তার প্রায় ৩৩ শতক জমিতে একই ভাবে শীতকালীন শিমগাছ এবং ধইঞ্চা গাছের চাষ করা হয়েছে।ফলন ভালো হওয়ায় তিনি সপ্তাহে প্রায় দেড় মন শিম তুলে বিক্রি করেছেন।তিনি জানান ধানের চেয়ে শিমে লাভ বেশি পাচ্ছেন।প্রায় ১১০-১৩০ টাকা দরে তিনি শিম বিক্রি করছেন।

    এছাড়াও তাদের মত অনেক কৃষক এই চাষে আগ্রহী হয়ে চাষ করেছেন।তাদের মধ্যে ওবায়দুল রহমান, আমিন গাজী, মফিজুর রহমান, আমিন গাজী অন্যতম।

    কৃষকেরা বলেন,ধইঞ্চা গাছ থাকায় মাচার প্রয়োজন হয়না।তাতে খরপ কমে যায়।আর ৩৩ শতক জমিতে ৬০ টাকা দরের এক কেজি ধইঞ্চা বীজ লাগালে অনেক লাভ পাওয়া যায়।

    এর পাতা গবাদিপশু খায় আবার জমিতে পড়ে পচে গিয়ে সার তৈরি হয়।শেষ পর্যায়ে ধইঞ্চা গাছ জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়।আর এত সুবিধা থাকায় কৃষকেরা এই চাষে আগ্রহী হচ্ছে।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন,ধইঞ্চা গাছে শিম গাছের ফসল একটা দ্বিমুখী লাভজনক চাষ।তাই তারা কৃষকদের এই কাজে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন এবং উদ্বুদ্ধ করছেন।

    উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন,এই মৌসুমে মশ্বিমনগর ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নেই ১১০ হেক্টর (৭৫০ বিঘা) জমিতে এই দ্বিমুখী চাষ করা হয়েছে।

    এই চাষটি লাভ বেশি হওয়ায় এবং পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় কৃষকের মুখে নতুন করে হাসি ফুটেছে। তিনি আরো জানান,আশা করা যায় আগামী বছর আরো অনেক কৃষক এই চাষে আগ্রহী হয়ে এই চাষ করবেন।এতে কৃষকের চাহিদা ও দেশের চাহিদা দুইটাই পুরন হবে।

    উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন,ধইঞ্চা গাছে শিম গাছের ফসল একটা দ্বিমুখী লাভজনক চাষ।তাই তারা কৃষকদের এই কাজে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন এবং উদ্ভুদ্ধ করছেন।

    উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন,এই মৌসুমে মশ্বিমনগর ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নেই ১১০ হেক্টর (৭৫০ বিঘা) জমিতে এই দ্বিমুখী চাষ করা হয়েছে।

    এই চাষটি লাভ বেশি হওয়ায় এবং পরিবেশ বান্ধব হওয়ায় কৃষকের মুখে নতুন করে হাসি ফুটেছে। তিনি আরো জানান,আশা করা যায় আগামী বছর আরো অনেক কৃষক এই চাষে আগ্রহী হয়ে এই চাষ করবেন।এতে কৃষকের চাহিদা ও দেশের চাহিদা দুইটাই পুরন হবে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    দেশ এগিয়ে গেছে বহুদূর

    ১৮ জানুয়ারি ২০২১

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১