• শিরোনাম

    চামড়া শিল্পের ঋণ খেলাপি ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দিল সরকার

    গাংচিল ডেস্ক | ০৬ জুলাই ২০২০


    চামড়া শিল্পের ঋণ খেলাপি ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দিল সরকার

    মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। চামড়া শিল্প খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা অনিচ্ছাকৃ্ত খেলাপি হয়েছেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তাদের এই বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রবিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশে কার্যরত সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ৩০ জুন, ২০২০ তারিখ ভিত্তিক ঋণ/বিনিয়োগ স্থিতির ন্যূনতম ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নগদে আদায় সাপেক্ষে পুনঃতফসিল করার বিষয়ে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংকসমূহ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।


    এক্ষেত্রে ইতোপূর্বে সংশ্লিষ্ট ঋণ/বিনিয়োগ হিসাবে আদায়কৃত কিস্তি ডাউন পেমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে না।ডাউন পেমেন্ট অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।

    ঋণগ্রহিতাদের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ঋণ/বিনিয়োগ হিসাব শ্রেণিকৃত হয়ে থাকলে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল থাকলে এ সার্কুলারের আওতায় পুনঃতফসিল সুবিধা দেয়া যাবে। কেইস-টু-কেইস ভিত্তিতে ১ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ তলবী ও চলমান ঋণ সর্বোচ্চ ৬ বছর মেয়াদে এবং মেয়াদী ঋণ সর্বোচ্চ ৮ বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে।


    বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চামড়া শিল্পে সারা বছর ধরে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় অর্ধেকের যোগান আসে প্রতিবছর ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া থেকে। এ সময় কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হলে একদিকে মূল্যবান কাঁচামাল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আর্থিকভাবে উপকৃত হবে।

    তবে সরকার প্রদত্ত এই সুবিধা ভোগ করতে হলে ঋণগ্রহিতাকে কিছু শর্ত পালন করতে হবে। যেমনঃ


    ১. গত  ৩০ জুন ঋণের যে স্থিতি ছিল, তার ন্যূনতম ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নগদে জমা দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো নিজেরাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এরইপূর্বে আদায় করা কিস্তি ডাউন পেমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে না।

    ২. ঋণ গ্রহীতাদের নিয়ন্ত্রণহীন কোনো কারণে ঋণ শ্রেণিকৃত হয়ে থাকলে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল থাকলে পুনঃতফসিল সুবিধা দেয়া যাবে।

    ৩. কেস-টু-কেস ভিত্তিতে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ তলবি ও চলমান ঋণ সর্বোচ্চ ছয় বছর মেয়াদে এবং মেয়াদি ঋণ সর্বোচ্চ আট বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে।

    ৪. কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কেনার জন্য নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ‘কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট’ গ্রহণের শর্ত শিথিল করা যাবে।

    ৫. ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, চামড়া খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণই সোয়া ৩ হাজার কোটি টাকা। যার বেশির ভাগই দীর্ঘদিনের পুরনো ঋণ। এই সোয়া ৩ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের ৯০ শতাংশই আবার রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের।

    উল্লেখ্য, গত বছর গার্মেন্টস এবং এসএমই খাতে অনিচ্ছাকৃ্ত খেলাপী ঋণগ্রহিতাদের ৩১-১২-২০১৮ তারিখের স্থিতির উপর ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে নগদে পরিশোধ সাপেক্ষে ঋণ পুনঃতফসিল বা এককালিন এক্সিট সুবিধা প্রদান করা হয়।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    রেকর্ডে পদ্মা সেতু

    ১১ ডিসেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১