• শিরোনাম

    যমুনায় তীব্র ভাঙন, দিশেহারা মানুষ

    দি গাংচিল ডেস্ক | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০


    যমুনায় তীব্র ভাঙন, দিশেহারা মানুষ

    যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় তীব্র ভাঙন এর কবলে পড়েছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরপৌলী, হগড়া গয়রাগাছা, কাকুয়া, কাতুলি, চকগোপাল এবং মাহমুদনগর ইউনিয়ন এর বেশ কয়েকটি গ্রাম। গত এক সপ্তাহের মধ্যে মসজিদ মাদরাসা এবং প্রায় শতাধিক ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

    এমন অবস্থায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এর দাবি জানিয়েছেন ভাঙনকবলিতরা। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এর প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।


    মাহমুদনগর ইউনিয়ন এর বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের চাপে বর্ষার ভাঙনের সময় কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিলো। কিন্তু যুগের পর যুগ ধরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এর দাবি তোলা হলেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। যে কারণে প্রতি বছরই স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী ভাঙন এর কবলে পড়তে হয়।

    এইভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে টাঙ্গাইল জেলার মানচিত্র থেকে এ ইউনিয়নগুলো বিলীন হয়ে যাবে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ এর জন্য দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


    কাকুয়া ইউনিয়ন এর নুরু ডাক্তার বলেছেন, তার বাবার প্রায় ৮০ বিঘা জমি ছিল। যমুনা নদীর ভাঙনে এখন আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না। ছোটবেলা থেকে তারা শুনে আসছেন এ নদীতে বাঁধ হবে। কিন্তু বাঁধ শুধু স্বপ্নেই রয়ে গেলো। তবে এখন তাদের সব শেষ হয়ে গেছে, আর বাঁধ দিয়ে কী হবে তাদের?

    ভাঙনকবলিত আবু তালেব জানিয়েছেন, ভাঙন এর তীব্রতা এতো বেশি যে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়ার সময়টুকুও পাওয়া যায়নি। এ মুহূর্তে সরকারের সাহায্য ছাড়া জীবন ধারন অসম্ভব বলে জানান তিনি।


    কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেছেন, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই যমুনার  ভাঙন এর কবলে পড়েছে এ ইউনিয়ন এর বাসিন্দারা। প্রায় প্রত্যাকদিনই নতুন নতুন ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভে। ভেঙে গেছে ইউনিয়ন এর শত বছরের পুরোনো চরপৌলী এলাকার ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, মাদরাসা এবং কবরস্থান। নদী ভাঙনের কবলে পড়ে জীবন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে জনগন।

    মাহমুদনগর ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান মো. মাজেদুর রহমান তালুকদার বলেছেন, ভাঙনকবলিত মানুষ ঘরবাড়ি এবং ফসলি জমি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ভাঙন প্রতিরোধ করার জন্য কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

    এই বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এর প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে এ অঞ্চলের মানুষকে যমুনার ভাঙন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বিদায় ফুটবল ঈশ্বর!

    ২৫ নভেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১