• শিরোনাম

    ছোট গল্প

    নির্জনা : সায়নী শৈলী ( ৬ষ্ঠ শ্রেনী )

    | ২৬ আগস্ট ২০২১


    নির্জনা :  সায়নী শৈলী ( ৬ষ্ঠ শ্রেনী )

    নির্জন ঘন জঙ্গলের পাশে ছোট্ট কুড়ে ঘরে জন্ম নিল এক ছোট্ট ফুটফুটে মেয়ে নির্জনা।রূপে রূপসী গুণে গুণাবতী।মনটা তার দুধের মত সাদা।চোখটা তার গাছের গুড়ির মত বাদামি।ঠোঁট তার আপেলের মত লাল।চুলতার সূর্য্যের আলোর মত ঝকমকে। কাজগুলো তার কাচের মত স্বচ্ছ।

    নির্জনার বাড়ির উঠানে প্রতিটি গাছ তার লাগানো। ঘুম থেকে উঠে তার প্রথম কাজ বাগানে যাওয়া।
    জল নিয়ে বাগানের প্রতিটি গাছে জল দেয়। তার পর নির্জনা ঘরে গিয়ে তার ছোট লাল চাদরটি নিয়ে এসে উঠানের মাঝে পেতে বসে গাছের সাথে কথা বলে, গান করে। আর গাছেরা আনন্দে দোলে। নির্জনা দেখে ভাবে গাছেরা বুঝি তার গানে তাল মিলিয়ে নাচছে।নির্জনা ভাবে আর হাসে।এর পর সে যায় রান্নায় মাকে সাহায্য করে।ভাত রাধে তরকারি রাধে। তারপর বাবাকে খাবার দেয়,মাকে খাবার দেয় তারপর নিজে খায়।


    নির্জনার বাবা নদী থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাত।তাই বাবা কাজে যাওয়ার আগে নির্জনা তার বাবাকে দুপুরের খাবার সহ অনন্য প্রয়োজনীয় জিনিস এগিয়ে দিত।তারপর বাবা কাজে যেত।তখন থেকে নির্জনা তার মায়ের সেবা করতো,দুপুরের রান্না করতো।সে তার অবসর সময়ে সেলাই করতো,বই পড়তো বিশেষ করে বিকালে সে বনে হাঁটতে যেত।

    নির্জনা লেখাপড়ায় অনেক ভালো ছিল।নির্জনার বড় একজন ডাক্তার হওয়া স্বপ্ন ছিল। সন্ধায় বাবা বাড়ি ফিরলে বাবাকে জল বা লেবুর শরবত খেতে দিত।এরপর মা আর নির্জনা মিলে রাতের খাবার রান্না করতো।সকলে এক সাথে মিলে খেতে বসতো। নির্জনা তারপর বই পড়তো। এর পর বাবা -মায়ের বিছানা গুছিয়ে দিত। তারা ঘুমালে নির্জনা ঘুমাতো। এই ছিল নির্জনার প্রতিদিনের সময়সূচি।


    এভাবেই চলতে থাকে। কিন্তু এক দিন হঠাৎ নির্জনাদের জীবনে কালো অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। তার বাবার নৌকা মাঝ নদীতে হঠাৎ ডুবে গেল এবং তখন তার বাবা নৌকার নিচে চাপা পরে সেখানেই মারা গেল। নির্জনার সপ্ন ভেঙে চুর মার হয়ে গেল।তারা ভাবতে লাগালো তাদের মরা ছাড়া আর হয়তো কোনো উপায় নেই।ঘরে চালও দিনদিন ফুরিয়ে আসছিল।একদিন দিশাহারা হয়ে জঙ্গল দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটা নতুন গ্রামে পা রাখলো।গ্রামটা খুব বেশি বড় না।হঠাৎ সে দেখলো একটা মেয়ে বাজারে আম বিক্রি করছে। মেয়েটার বয়স খুব বেশি হলে ৯বছর হবে।নির্জনা যেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল যে তোমার নাম কি?মেয়েটা বললো আমার নাম নিঝুম।তারপর নির্জনা জিজ্ঞেস করলো- তোমার বাবা-মা কোথায়?নিঝুম বললো আমার মা- বাবা নেই।তারা একটা দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছে।

    নির্জনা বললো তোমার মনে হয়নি যে তোমার বাবা-মা মারা গিয়েছে! আমি একা কি করবো? নিঝুম উত্তরে বলে নাতো! আমার এরকম একদম মনে হয়নি। আমি আমার মায়ের একটা সোনার হার বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আমি এখন আম বিক্রি করছি। এতে আমার খাওয়া দাওয়া হয়ে যাচ্ছে।নিঝুমের এই একাটা উত্তর যেন নির্জনার স্বপ্ন টাকে আবার গড়ে তুললো।নির্জনা বাড়ি এসে ভাবলো এতটুকু একটা মেয়ে যখন মা-বাবা ছাড়াই নিজের জীবন টাকে নতুন করে গড়তে পারে তাহলে আমি কেন নতুন করে আমার স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যেতে পারবনা ?


    তাই সে মনে মনে ভাবলো যে তার বাবার মাছ ধরার নৌকাটা বিক্রি করে যে টাকা পাবে সেই টাকা দিয়ে গ্রামে একটি নতুন বস্ত্রের দোকান খুলল।যেহেতু সে সেলাই জানত তাই এটা তার পক্ষে কোন ব্যাপার ছিল না।বাড়িতে সে নিজের হাতের তৈরী জামা সেলাই করে দোকানে বিক্রি করত।এতে তাদের দুজনের খাওয়া পরা ঠিক মত হয়ে যেত।সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘর সহ দোকানের সকল কাজ করত।এবং রাতে মনোযোগ সহকারে পড়তে বসত।দেখতে দেখতে গ্রামে তার দোকান খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠল।এবং তার স্বপ্ন যেন ধীরে ধীরে কাছে এগিয়ে আসতে লাগল।আর সত্যিই যেন তাই হলো।এত প্রতিকুল পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সে যেন তার স্বপ্নকে সত্যি প্রমান করতে সক্ষম হলো।

    নিজেকে মানুষের সেবায় নিয়জিত করার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলো।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    লাইবার আঁকা ছবি

    ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০