• শিরোনাম

    বাংলাদেশে ধর্ষণ এবং প্রাসংগিক কিছু কথা : মোঃ আনোয়ার হোসেন আদিব

    | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০


    বাংলাদেশে ধর্ষণ এবং প্রাসংগিক কিছু কথা : মোঃ আনোয়ার হোসেন আদিব

    খাগড়াছড়ি তে বাড়িতে ঢুকে বাবা-মাকে বেঁধে রেখে সেটেলার কর্তৃক আদিবাসী নারীর ধর্ষণ, আর সিলেট এমসি কলেজে স্বামীর সাথে ঘুরতে আসা মেয়েটির ধর্ষণ।

    একটির খবর শুনে ট্রমা টা কাটতে না উঠতে উঠতে আরেকটি অমানবিক ঘটনা।এই দুটি ঘটনা আবারো প্রমাণ করে এদেশে নারী কোনোভাবেই নিরাপদ না, বাবা-মার সাথেও না, স্বামীর সাথেও না।

    যেসমস্ত মূর্খ ছাগলের দল বুলি আওড়ায় মেয়েরা একা ঘুরতে গেলে এসব হবেই, তাদের চোখে আরেকবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া যতদিন না আইনের শাসন নিশ্চত হবে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে ততোদিন কোনোভাবেই নারী নিরাপদ না।


    দুটি ঘটনায় ই একটা ব্যাপার স্পষ্ট। ক্ষমতা প্রদর্শন। আদিবাসীদের উপর সেটেলারদের ক্ষমতা প্রদর্শন, ঘুরতে আসা একটা কাপল এর উপর ছাত্রলীগের নেতাদের ক্ষমতা প্রদর্শন। শুধু নারীদেহ ভোগের লিপ্সা থেকে ঘটনাগুলি হয় নি, এটা তাদের এরিয়া, তাদের বাঁধা দেয়ার মতো কেউ নেই এই বিশ্বাস থেকেই এই ঘটনাগুলি হচ্ছে।

    পাহাড়ে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার-নিপীড়ন নতুন কিছু না, কিছুদিন পর পরই গুম, খুন, ধর্ষণের খবর আসে পাহাড়গুলো থেকে।


    আমরা কেনো জানি এই খবরগুলো ইগ্নোর করে যাই। পাহাড়টাকে আমরা ঘুরতে যাওয়ার স্পট হিসেবেই পছন্দ করি, এই পাহাড়ে থাকা সহজ-সরল মানুষগুলো যে আমাদের মতোই বাংলাদেশি, তাদের ঠিক ততটুকুই এদেশের উপর অধিকার যতটুকু আমাদের সেটা আমরা এক্সেপ্ট করতে পারি না। এই মানুষগুলোকে সেনাবাহিনী গুতাবে, সেটেলার রা উচ্ছেদ করবে, ট্যুরিস্ট স্পট হবে নতুন নতুন।

    ছেলেগুলো গুম হবে, আর মেয়েগুলো ধর্ষণ এই তো। বাঙালি ভুলে যায়, এই নিপীড়ন একদিন তাদের উপর ও হয়েছিলো। নিজের ইতিহাস যে জাতি ছুড়ে ফেলে দেয়, সে জাতির কোনো অগ্রগতি সম্ভব না।


    ছাত্রলীগ কে নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় আওয়ামীলীগের, এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের চলে এসেছে। জেনারেলাইজ হেট্রেড প্রকাশ করে লাভ নেই, আমার বন্ধু বান্ধবের অনেকেই ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। তারা এ ঘটনায় যারপরনাই লজ্জিত এবং রাগাণ্বিত।

    কিন্তু তারা যদি আজ থেকেই ছাত্রলীগের যেকোন কুকর্মের বিরুদ্ধে আওয়াজ না তুলে, এ ধরনের ঘটনার দায় কিন্তু তাদের উপরও বর্তাবে।যে ক্ষমতা ছাত্রলীগের হাতে এ সরকার তুলে দিয়েছে, এর লাগাম টেনে ধরা এখনই জরুরি। নাহয় এই কয়জনের বিচার হয়তো হবে, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে।

    বাংলাদেশ নারীদের জন্য কোনোকালেই নিরাপদ ছিলো না। একাত্তরের যুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নারীরা ত্যাগ স্বীকার করেই যাচ্ছে।

    এমসি কলেজের যে ঘটনাটি নিয়ে আজ এত আলোড়ন, আজ যদি ঐ নারীর সাথে তার স্বামী না থেকে কোনো ছেলেবন্ধু থাকতো, তবে এই খবর হয়তো জানাও যেতো না।।প্রতিনিয়ত এই ধরনের অনেক ঘটনা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে চলেছে। আজই যদি আমরা এ ধরনের নিপীড়নে বিরুদ্ধে আওয়াজ না তুলি তবে একই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতেই থাকব।

    মোঃ আনোয়ার হোসেন আদিব
    জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১