• শিরোনাম

    পদ্মায় ইলিশঃ

    ভরা মৌসুমেও ইলিশ নেই, পদ্মা পাড়ের জেলেদের মুখে হতাশা

    জুবায়ের, রাজবাড়ী | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০


    ভরা মৌসুমেও ইলিশ নেই, পদ্মা পাড়ের জেলেদের মুখে হতাশা

    পদ্মায় জেলেরা

    ইলিশের এই ভরা মৌসুমে গভীর সাগরে বড় সাইজের প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও হাসি নেই পদ্মা পাড়ের জেলেদের, শুধু ক্লান্তি আর হতাশার ছাপ তাদের মুখে।

    সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে ২৩ জুলাই। ইতিমধ্যে করোনার কারনে বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও নাজুক হয়ে ওঠায় তার প্রভাব পড়ে জেলে পল্লী গুলোতেও।

    তাই সাগর বা নদীতেও মাছ ধরা নৌকা বা ট্রলার এতদিন খুব একটা দেখা যায়নি। সম্প্রতি সাগরে ইলিশ ধরা শুরু হয়েছে, ঝাঁকেঝাঁকে মাছ পড়ছে জালে এবং বড় সাইজের ইলিশ ধরাও পড়ছে। অথচ পদ্মায় জেলেদের জালে কোন ইলিশ নেই।

    রাজবাড়ী শহরের গোদারবাজার ঘাট থেকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলৎদিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিমি এর বেশী পথ সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় কোন কোন নৌকায় ১২-১৫ টা ছোট বা মাঝারী সাইজের মাছ। যার বিক্রয় মূল্য ১৫শ থেকে ৩হাজার টাকার মধ্যে। অথচ গত বছর এই সময়ে তারা ৭-১০ হাজার টাকার মাছ পেয়েছে প্রতিদিন।


    এর কারন হিসেবে অন্তার মোড়ের শাজাহান মাঝি বলেন “এই সময়ে পদ্মায় ইলিশ কমই থাকে কারন সাগরের কাছাকাছি নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা জাল রয়েছে সেসব পার হয়ে এই পর্যন্ত মাছ পৌছাতে পারে কম তাছাড়া এবার ছোট মাছও সেখানে ধরা পড়ছে, তাহলে আমরা মাছ কোথায় পাবো! তবে স্রোত কমলে, পানি আরও একটু কমলে যখন নদী চেপে আসবে (ছোট হবে) তখন কিছু মাছ পাওয়া যাবে।

    এর জন্যে অপেক্ষা করতে হবে আরও প্রায় ২৫-৩০ দিন। (ততদিনে আবার ইলিশ ধরার বিরুদ্ধে প্রসাশনিক নিষেধাজ্ঞা; যা অক্টোবর মাসে ২২ দিন থাকে; শুরু হয়ে যাবে।) একদিকে করোনা নদীতে ইলিশ নাই, জাল ফেলে যে মাছ পাই তাতে এই নৌকার ৩ জন মানুষের তিনটা সংসার খরচ চলেনা, তবুও আশায় বুক বেঁধে আছি।”


    পদ্মা পাড়ের বাসিন্দা জয়দার মন্ডল জানান “ইলিশের জন্যে জাল ফেললেও পাঞ্চামাছ (পাঁচমিশালী মাছ) ছাড়া এই সময় ইলিশ আমাদের ভাগ্যে নাই, ইলিশের জন্যে আমাদের আরও কতদিন অপেক্ষা করা লাগবে। বংশ পরম্পরায় এভাবেই দুঃখকষ্ট নিয়ে আমরা দিন পার করছি।

    আমাদের ভাই-বেরাদার কেউকেউ সুযোগে পেশা বদল করেছে, আর আমরা যারা পেশা বদল করতে পারিনাই তারা জালে ইলিশ পড়লেই খুশি হই, মৌসুমের এই সময়টাতে ইলিশের অপেক্ষায় দিনরাত নদীর পাড়েই কাটাই, নদীতে ইলিশের এত আকাল আমার ষাট বছরের জীবনে এর আগে আর দেখিনি।”


    তিনি বৃষ্টি এবং ইলিশের ভরা মৌসুমের হেরফের হওয়ায় তার ভাষায় ইলিশ ধরার বিরুদ্ধে অভিযানের (ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ) সময় পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষেও মত দেন।

    নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ছোট ইলিশ (৯ ইঞ্চির কম) যা জাটকা নামে পরিচিত তা ধরা নিষেধ। ইলিশের নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠার জন্যে মার্চ এপ্রিলে ইলিশের অভয়াশ্রমে সব ধরনের জাল ফেলা নিষেধ থাকে আর মা ইলিশ কে নিরাপদে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে অক্টোবরে ২২ দিন বন্ধ থাকে ইলিশ ধরা।

    এর মধ্যে গত মাসের ৩০ তারিখ দৌলৎদিয়াতেই মৌসুমের সবচেয়ে বড় সাইজের ইলিশ জালে পড়েছে যার ওজন ২কেজি ৩০০গ্রাম, বিক্রি হয়েছে প্রায় সাত হাজার টাকায় তারপরও এবছর পদ্মায় চলছে ইলিশের আকাল। জেলে পল্লীর মানুষের মুখে নেই হাসি, নেই স্বস্তি।

    অনুসন্ধানে জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী জানা যায় গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এবছর পদ্মা থেকে ইলিশ আহরণের পরিমান চার ভাগের একভাগ মাত্র। এর প্রধান কারন নদী দুষণ এবং নদীতে পলি জমে চরের সৃষ্টি, যা ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলে বাধার সৃষ্টি করেছে। এবারের দীর্ঘমেয়াদী বন্যা এবং বৃষ্টিতে নদীর দুই কূল ভেসে যাওয়ায় জমিতে ব্যবহৃত সার, কীটনাশক ও বর্জ্য নদীতে পড়েছে বেশী এভাবেই নদী দুষন বাড়ছে বলেই ভাবছেন বিশেষজ্ঞেরা।

    প্রতিটি ৪০০-৫০০ গ্রাম সাইজের ইলিশের দর ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি।
    আধা কেজি থেকে পৌনে এক কেজি সাইজের ইলিশ স্থানীয় বাজার মূল্য ৫শ থেকে সাড়ে ৬শ টাকা। এর চাইতে বড় সাইজের ইলিশ ৭শ থেকে ৯শ টাকার মধ্যে বিক্রয় করা হচ্ছে।

    স্থানীয় কিছু বাজার ঘুরে সেখানে ইলিশের দর এমনই পাওয়া গেছে। অবশ্য স্থানীয় বাজারের এই ইলিশ গুলো বেশীর ভাগই বরিশালের।

    স্থানীয় বাজারে পদ্মার ইলিশের চাহিদা তুলনা মূলক কম থাকলেও সারাদেশই পদ্মার ইলিশের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা, রয়েছে আলাদা কদর। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করে ইলিশের সুদিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন ইলিশের সাথে সম্পর্কিত প্রান্তিক মানুষেরা।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১