• শিরোনাম

    ভারতের রানীদের সম্পর্কে কিছু তথ্য : তানজিনা তাজিন

    তানজিনা তাজিন | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০


    ভারতের রানীদের সম্পর্কে কিছু তথ্য : তানজিনা তাজিন

    ভারতের ইতিহাস বহু শতাব্দী প্রাচীন।

    এই ইতিহাসটি রাজা, মহারাজা এবং রানী,শওকত  জংয়ের সাথে সম্পর্কিত।

    সে সময়ে এখানে অনেক রানী ছিলেন যারা তাদের তুলনাহীন সৌন্দর্য এবং বীরত্বের জন্য পরিচিত ছিলেন।যাদের সৌন্দর্যের কোনও অন্ত ছিল না। ভারতের এই রানীদের সৌন্দর্য কেবল ভারতে নয়, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ছিল।


    রাণী সংযুক্তা
    সংযুক্তা ছিলেন কনৌজের রাজা জয়চাঁদের কন্যা। রাজকুমারী সংযুক্তার অপূর্ব রূপ-সৌন্দর্যের এত প্রচার ছিল যে দিল্লির শেষ রাজপুত রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান তাকে না দেখে হৃদয় দিয়েছিলেন।

    পরবর্তীকালে তিনি ছদ্মবেশ ধারণ করে কনৌজের রাজকুমারী সংযুক্তার স্বয়ম্বর সভায় প্রবেশ করে তাঁকে হরণ করে নিজের রাজধানী দিল্লিতে নিয়ে এসে বিবাহ করেন।


    কন্যার এরূপ অপহরণের ফলে ভয়ানক ক্রুদ্ধ হন সংযুক্তার পিতা রাজা জয়চাঁদ এবং পৃথ্বীরাজকে তাঁর কুকর্মের উচিত শিক্ষা দিতে গজনীর তুর্কি সুলতান মহম্মদ ঘোরীকে দিল্লি আক্রমণ করবার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

    এদিকে পৃথ্বীরাজ চৌহান রাণী সংযুক্তার প্রেমে এতোই মেতে ছিলেন যে তার মাতৃভূমিকে বিদেশি আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে সেরকম ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে পারেননি।


    রাণী পদ্মিনী
    রানী পদ্মিনী/রানী পদ্মাবতী হিসেবে ও পরিচিত ছিলেন।

    তিনি ছিলেন ১৩-১৪ শতকের কিংবদন্তি ভারতীয় রানী।চিত্তৌর দূর্গের রাজপুত শাসক ছিলেন রতন সেন, যিনি হিরামন নামের একটি কথা বলা টিয়া পাখির কাছে তার রূপের কথা জানতে পারেন।

    এক রোমাঞ্চকর অভিযানের মাধ্যমে রতন সেন পদ্মাবতীকে জয় করে নেন।তার সৌন্দর্যের কথা শুনে দিল্লির শাসক আল্লাউদ্দিন খিলজি চিত্তৌর আক্রমণ করেছিলেন।

    এই যুদ্ধে প্রায় 30 হাজার সৈন্য নিহত হয়েছিল এবং যুদ্ধে জয়ের পরেও আল্লাউদ্দিন খিলজি রানী অর্জন করতে পারেননি কারণ আলাউদ্দিন তাঁর কাছে পৌঁছানোর আগে রানী তার মর্যাদার জন্য হাজার হাজার রাজপুত মহিলাদের সাথে আগুনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

    জওহর করেছিলেন নিজেদের সম্মান রক্ষার্থে।

     

    রানী লক্ষ্মী বাঈ
    রানী লক্ষ্মী বাঈ বারাণসীর একটি মারাঠি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

    তাঁর নাম ছিল মণিকর্ণিকা।সাহসিকতার জন্য ইতিহাসে তাঁর নামটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তবে তিনি সাহসী হওয়ার পাশাপাশি খুব সুন্দরীও ছিলেন।

    ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিদ্রোহের অন্যতম প্রতিমূর্তি ও পথিকৃৎ হয়ে রয়েছেন তিনি।

    তিনি তাঁর শিশুটিকে পিঠে বেঁধেছিলেন এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করেছিলেন।তিনি ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাওকে বিয়ে করার পরে তাঁর নাম পরিবর্তন করা হয়েছিল।আজ ইতিহাসে তাঁকে ‘ঝাঁসির রানী’ বা ‘ঝাঁসি কি রানী’ হিসেবেও স্মরণ করা হয়।

     

     

    কাপুরথালার সীতা দেবী
    সীতা দেবী ছিলেন কাশীপুরের হিন্দু রাজা উদয় রাজ সিংয়ের কন্যা।

    তিনি প্রিন্সেস কারাম নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিয়ে হয়েছিল কাপুরথালার শিখ রাজপুত্র করমজিৎ সিংয়ের সাথে।

    তিনি তার সময়ের অন্যতম গ্ল্যামারাস মহিলা হিসাবে গণ্য ছিলেন।

    ভোগ ম্যাগাজিন তাকে সর্বশেষ “ধর্মনিরপেক্ষ দেবী” অভিষিক্ত করেছিল। তিনি বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় ভাষায় কথা বলতে পারতেন।

     

     

     

    মহারানী গায়ত্রী দেবী

    জয়পুরের পূর্বের রাজ পরিবারের রানী গায়ত্রী দেবী লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

    তিনি তার সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত ছিলেন।

    মহারাজা দ্বিতীয় সওয়াই মান সিংহকে বিবাহ করে তিনি জয়পুরের তৃতীয় মহারানি হন।

    তিনি ছিলেন মহারাজা মানসিংহের তৃতীয় স্ত্রী।

    ধ্রুপদী সৌন্দর্যের জন্য খ্যাত গায়ত্রী দেবী পরিণত জীবনে ছিলেন একজন ফ্যাশন আইকনের মতো।

    জনপ্রিয় ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগ-এ তিনি বিশ্বের 10 জন সুন্দরী মহিলাদের মধ্যে স্থান পেয়েছিলেন।গায়ত্রী দেবী রাজনীতিবিদ হিসেবে চরম সাফল্য অর্জন করেন।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১