• শিরোনাম

    গল্প :

    লক ডাউনের ঝিঙে পোস্ত – সব চরিত্র কাল্পনিক / দেবাশিস লাহা

    | ১০ আগস্ট ২০২০


    লক ডাউনের ঝিঙে পোস্ত – সব চরিত্র কাল্পনিক / দেবাশিস লাহা

    ওই তো বুড়োটা। কদর্য, কদাকার। ভাঙাচোরা রিক্সায় বসে নির্লজ্জের মত বিড়ি টানছে। মাস্কটা কখন থুতনির নিচে ঝুলে পড়েছে ভগবান জানে। আস্ত হারামি। পুলিশ দেখলেই নাকের উপর তুলে দেয়। বড় জোর দু মিনিট। তারপর যে- কে -সেই! ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে গাঙ্গুলি স্যার চারপাশ আরেকবার মেপে নিলেন। ভাস্কর গাঙ্গুলি। সরকারি ইস্কুলের অংকের শিক্ষক। বাড়িতেও পড়ান।

    এখন যদিও সবই অনলাইনে। শুধু এই বুড়ো নয়, পথচলতি লোক দেখলেই গাঙ্গুলি ব্যাপক খেপে যান। সরকারেরও বলিহারি। কমন সেন্স, স্বাস্থ্যবিধি বলে কোনো বস্তুই নেই। অন্তত দু মাসের নিশ্চিদ্র লক ডাউন করলেই রোগটা এত ছড়াতো না। তা না, নতুন কেতা! আনলক! আদিখ্যেতা আর কাকে বলে। হু হু করে করোনা বাড়ছে সেদিকে কারও ভ্রূক্ষেপ নেই। টিভি খুললেই হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। যত সব অশিক্ষিত গাধা। ওষুধপত্রের দোকান খোলা রেখে সারা দেশ লক ডাউন করলেই ঝামেলা মিটে যায়।


    উঁহু তারও দরকার নেই। এখন তো সব অনলাইনেই পাওয়া যায়৷ যত্ত সব। লোকে নাকি খেতে পাচ্ছেনা। কেজি কেজি চাল আলু মুফতে পাচ্ছে।তাও খাই খাই রব। বাইরে বেরোতেই হবে। এই সব অশিক্ষিত, ত্যাঁদড়দের জন্যই রোগটা ছড়াচ্ছে। শালারা সোশ্যাল ডিসট্যানসিং মানেনা, মাস্ক পরে না, স্যানিটাইজারের ধারে কাছে নেই। অন্তত গাঙ্গুলির তেমনই ধারণা। আরে বাবা দুদিন না খেলে মরে যাবি! রোগে ধরলে বুঝবি! শালাদের আবার করোনাও হয় না! এইসব ভাবতে ভাবতে গাঙ্গুলি আবার বুড়োটার দিকে তাকালো।

    হাড়গোড়ের ফাঁকে মাংস বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই। ছেঁড়া লুঙ্গির ভেতর কাঠির মত পা৷ আমসি হওয়া গালে ইয়া বড়া গর্ত। বিড়ির টানের সঙ্গে আরও ভেতরদিকে ঢুকে যায়। এই চেহারায় এত বিড়ি যে কীভাবে হজম করে! শালারা যমেরও অরুচি। ফুসফুস, পাকস্থলী কোনটাই ভদ্রলোকের মত নয়। ইতস্তত পায়চারি করতে করতে গাঙ্গুলি এবার বাঁ দিকে চোখ ফেললেন। হলুদ রঙের দোতলা বাড়ি। নিছক প্রতিবেশী নয়, সহোদর ভাই৷ বছর দুয়েকের ছোট। WBCS অফিসার। গেজেটেড! লক ডাউনের আগেও ঈর্ষা করতেন। সুপর্ণাও ঠারে ঠোরে বুঝিয়ে দিত — ছোট ভাই তোমার! তবু কত উঁচুতে চলে গেছে। শুনলাম নতুন গাড়ি কিনছে।


    মাথাটা কেমন গরম হয়ে যেত। কিন্তু লকডাউন শুরু হতেই ছবিটা বদলে গেল। গাঙ্গুলি বাড়িতে। ভাই আপিসে! এই মহামারির মধ্যেও! ভাবা যায়। ভাগ্যিস ইস্কুলের চাকরিটা পেয়েছিলেন। নইলে যে কী হত। Stay home, stay safe করার মত এমন আদর্শ চাকরি আর দুটো আছে। মাস মাস মাইনে ঢুকে যাচ্ছে। দু বেলা ভাল মন্দ বেশ ইয়ে করে — একেই বলে গুছিয়ে বাঁচা। বাপনও দিব্%A

    Facebook Comments


    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১