• শিরোনাম

    শীতকালের পিঠা এবং খেজুর গুড়

    সুষ্ময় দাস | ২২ ডিসেম্বর ২০২০


    শীতকালের পিঠা এবং খেজুর গুড়

    ছবিঃসংগৃহীত

    বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ, ঋতুকাল চক্রে বারবার ঘুরে আসে শীতকাল। পৌষ ও মাঘ মাস নিয়ে শীতকাল হলেও আমাদের দেশে আশ্বিনের পর থেকেই শুরু হয় শীতের পরশ।

    শুরুতে হালকা শীতে শরীরে কাঁপন ধরে। এরপরেই কার্তিক মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয় তীব্র শীত। শহরে কোলাহলে শীত কম অনুভব হলেও গ্রামে এর অনুভূতি অনেক তীব্র। এসময় বিল, জমি সহ লোকালয় কুয়াশায় ঢেকে যায়। একটু বেলা হলে সূর্যের উকি দেখা দেয়। একটু উষ্ণতা পাবার জন্য সবাই রৌদ্দজ্বল স্থানে রোদ পোহায়। অনেক সময় তীব্র শৈত্য প্রবাহে কয়েকদিনও সূর্যের দেখা মিলে না।


    শীতকালে আমাদের দেশে শুরু হয় পিঠাপার্বনের উৎসব। পিঠা পছন্দ করে না এমন মানুষ খুজে পাওয়া যায় খুব কম। বাড়ি বাড়ি তৈরি হয় ভাপা, চিতই, পুলি, পাটিসাপটা, সহ হরেক রকম পিঠা। বাড়িতে বাড়িতে চলে পিঠা পায়েসের নিমত্রণ। কুটুম আসে বাড়িতে। শীতকালে অতিথিকে পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন আমাদের প্রাচিন এক সংস্কৃতি। শহরের ব্যস্ত কোলাহল ছেড়ে মানুষ গ্রামে ছুটে আসে পিঠার নিমত্রণে।

    বাঙ্গালির ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর মধ্যে পিঠা একটি অন্যতম খাবার। নতুন জামাই আসলে তাকে পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করা যেন একধরনের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। আর এই পিঠা তৈরিতে অন্যতম একটি উপকরণ হলো গুড়। দেশীয় টাটকা গুড়ের স্বাদ পিঠাকে আরো সুস্বাদু করে। গুড়ের ঘ্রাণে পিঠার ঘ্রাণ আরো সুন্দর হয়। আমাদের দেশে শীতকালে তৈরি হয় খেজুর গুড়। খেজুর গাছ হতে রস সংগ্রহ করে সেই রস চুলায় ফুটিয়ে তৈরি করা হয় গুড়। গাছে গাছে লাগানো থাকে মাটির হাড়ি। ফোটায় ফোটায় রস জমা হয়ে ভরে যায় হাড়ি।


    গুড় তৈরির কৃষক মাঝরাতের পরথেকেই শুরু করে রস সংগ্রহের কাজ। গাছে উঠে রসের হাড়ি নামিয়ে তা থেকে রস ঢেলে নেওয়া হয়। এরপর আবার তা গাছের সাথে লাগানো হয়। একের পর এক গাছের রস সংগ্রহ করে কৃষক তা নিয়ে আসে বাড়িতে। এরপর শুরু হয় রস জ্বাল দেবার কাজ। রস ফুটিয়ে তৈরি হয় গুড়। গুড় তৈরি হলেই তাকে বিভিন্ন ধরনের পাত্রে ঢেলে আকৃতি দেওয়া হয়।

    অসাধারণ স্বাদের এই গুড়টির অনেক চাহিদা রয়েছে। শহর হতে গুড় ব্যবসায়ী আড়তদাররা কৃষকের বাড়িতে এসেই গুড় কিনে নিয়ে যায়। এরপর তা খুচরা বাজারে বিক্রি হয়। এই বিষয়ে একজন কৃষকের সাথে কথা বললে তিনি জানান। প্রতিদিন রাত তিনটায় তিনি রস সংগ্রহ করতে বের হন। লিজ নেওয়া ১০০ টি খেজুর গাছ হতে প্রতিদিন যে রস সংগ্রহ করে তা দিয়ে প্রায় ৯০ কেজি গুড় উৎপাদন করেন তিনি। রস সংগ্রহ করে আনার পর তা শুরু হয় চুলায় জ্বাল দেবার। রস থেকে গুড় তৈরির পর আড়তদাররা বাড়িতে এসেই গুড় ক্রয় করে নিয়ে যায়।


    আজ সরজমিনে নাটোরের লালপুর উপজেলার টুনিপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গুড় তৈরির এই কর্মযজ্ঞ। বাড়ি বাড়ি থেকে ভেসে আসে গরম রস এবং গুড়ের ঘ্রাণ। যার স্বাদ এবং ঘ্রাণ মোহিত করে পিঠার অতিথিদের।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১