• শিরোনাম

    সাহিত্যের আয়নায় আলোকিত মুখ, আমার বন্ধু জুন চৌধুরীঃ রুহুল আমিন সরকার

    | ২৪ আগস্ট ২০২০


    সাহিত্যের আয়নায় আলোকিত মুখ, আমার বন্ধু জুন চৌধুরীঃ রুহুল আমিন সরকার

    পুরো নাম মোঃ সরওয়ার হক চৌধুরী জুন। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মমিন চৌধুরী।

    মা আনোয়ারা মমিন চৌধুরী। স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন চৌধুরী কণা। একমাত্র সন্তান সিদরাতুল মুনতাহা শমিকা চৌধুরী।

    জুন চৌধুরী বর্তমানে নানা সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক নব সূচনা পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্ভ্রান্ত জমিদার ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করলেও তিনি পুরোপুরি ব্যতিক্রম।


    জমিদারী কিংবা রাজনীতির অহঙ্কার তার মধ্যে নেই। সদা হাস্যোজ্জ্বল জুন চৌধুরীর মনে বিন্দু মাত্র অহঙ্কার না থাকলেও তাঁকে নিয়ে আমাদের বন্ধু মহলে অহঙ্কারের শেষ নেই। কারণ তিনি ছোটবেলা থেকেই মিশুক ও প্রখর মেধা সম্পন্ন।

     


    মিশুক প্রকৃতির প্রখর মেধা সম্পন্ন জুনকে আমি বন্ধু হিসেবে পেয়ে যাই হাই স্কুলে এসে। আমাদের বন্ধুত্ব জীবনের শুরু থেকেই আমি দেখেছি, তিনি স্কুল জীবনে সব সময়ই প্রথম স্থানের অধিকারী ছিলেন। যিনি দ্বিতীয় স্থান দখল করতেন তার প্রাপ্ত নম্বরের সাথে জুন চৌধুরীর প্রাপ্ত নম্বরের মধ্যে সব সময়ই থাকত বিস্তর ফারাক। এ কারণে তিনি স্কুল জীবনে ছাত্র হিসেবে ছিলেন এক ও অনন্য।

     


    তিনি বদরগঞ্জ সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, বদরগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ, বদরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সময়ে অধ্যয়ন করেন। এছাড়া তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে ভূতত্ত¡ ও খনিবিদ্যা বিভাগে কৃতিত্বের সাথে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। স্কুল জীবন থেকেই তাঁর সাহিত্যের প্রতি ছিল বিশেষ আকর্ষণ। এ কারণে স্কুল জীবনেই তাঁর সাহিত্যে অনুপ্রবেশ ঘটে। তাঁর লেখা উপন্যাস, কবিতা ও সাহিত্যে সেই বৈশিষ্ট্যই পরিলক্ষিত হয়।

     

    তার লেখা অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন। যা পড়লে সহজেই অনুধাবন করা যায়। যে কারণে তাঁর প্রতিটি লেখায় বাস্তবতার ছোঁয়া রয়েছে। লেখালেখির প্রতি অতি মনোযোগের কারণে মাঝে মধ্যে জীবন তাঁর সাথে নিষ্ঠুর আচরণও করে। তাঁর লেখনীর সজীবতা খুঁজে পাওয়া যায় ‘রোদেলা দুপুর মেঘলা বিকেল’ উপন্যাসটিতে। যাতে অসা¤প্রদায়িকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা সৃজন এবং মননশীল লেখার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। তাঁর লেখাগুলো দেখে পরিষ্কার বোঝা যায় তাঁর অনুভূতিগুলো আরও বেশী ধারালো হয়ে উঠছে।

     

    বৃষ্টি ঝরা রাত্রি’ উপন্যাসটিতে নারীর উপর পুরুষের নানাভাবে প্রাধান্য বিস্তারের মৌলিক মনোবৃত্তি গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আবার ‘হৃদয় ছোঁয়া’ বইটিতে প্রেম ও ভালবাসাকে উপন্যাসের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। দেশে চলমান মৌলবাদী-সা¤প্রদায়িক ভ্রান্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান তাঁর সাহিত্য রচনায় লক্ষ্য করা যায়। লেখক সমাজের অনিয়ম, দূর্নীতি ও না পাওয়াকে চিহ্নিত করে ‘মৃত্যুর সাথে বসবাস’ নামক একটি উপন্যাস লিখেছেন। তাঁর লেখায় বহুমাত্রিকতা রয়েছে।

    তিনি সাহিত্য চর্চা ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে আদর্শিক লড়াইকে গতানুগতিক ধারার বিপরীতে গতিশীল করে চলেছেন। জুন চৌধুরীর কবিতা নিয়ে মূল্যায়ণ করা এত ক্ষুদ্র পরিসরে সম্ভব নয়। তাঁর লেখা ‘আমার ঠিকানা’ কাব্যগ্রন্থটি পড়লেই তা’ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ‘ফুলে ভরা বসন্ত’ উপন্যাসটিতে বাঙালি সংস্কৃতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। তার লেখা যে শুধুমাত্র বইয়ে ছাপা হয় তা’ নয়। তাঁর লেখা কবিতা জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোতে নিয়মিত ছাপা হয়ে থাকে।

    তার প্রতিটি নিবন্ধ সমাজপতিদের স্বেচ্ছাচারিতা ও কপটতা সাধারণ মানুষের কাছে নগ্ন করে দেয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এ পর্যন্ত জাতীয় দৈনিকগুলোতে তাঁর সহস্রাধিক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখা নিজস্ব চিন্তাধারায় সমৃদ্ধ ও শৈল্পিক

    গুণে গুণান্বিত। তিনি বিগত সময়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দীর্ঘ সময় একটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন রকম সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।

    বাঙালির চেতনার গভীরে মানুষের নানা দূর্দশার কথা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছেন তাঁর লেখাগুলোর মাধ্যমে। তাঁর লেখায় নিপীড়িত মানুষের বন্ধনকে তিনি অবজ্ঞা করতে পারেন নি। তাই তিনি লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত থেকেছেন আজ অবধি। তিনি বর্তমানে ঢাকা থেকে প্রকাশিত আধুনিক প্রযুিক্ত নির্ভর জাতীয় ‘দৈনিক নব সুচনা’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগ্রামী ও বর্ণিল সাহিত্য জীবনে জুন চৌধুরী সবসময়ই সাহিত্য কর্মীদের পাশেই থেকেছেন।

    তিনি একজন ভূতত্ত¡বিদ হলেও অর্থ ও বৈভবের তোয়াক্কা না করে সাহিত্য ও সংস্কৃতির টানে বিভিন্ন সাহিত্য, সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা, আদর্শ ও সততার সাথে পালন করেছেন সকল দায়িত্ব। তিনি ভূতত্তে¡র ডানবারের থিওরী কিংবা ব্যবসার হিসেব-নিকেশে বড়ই অমনোযোগী । মহান মুক্তিযুদ্ধের দীক্ষা ও আদর্শ ধারণ করে তিনি পথ চলেছেন অবিচল ও অবিরামভাবে অপসংস্কৃতিমুক্ত বাংলা গড়ার একজন একনিষ্ঠ যোদ্ধা হিসেবে। উত্তর জনপদের মাটি ও মানুষের খুব কাছাকাছি সম্পৃক্ত থেকে সাহিত্য রচনায় আতœনিয়োগ করেছেন। এমন এক মুহুর্তে বলতেই হয় তিনি আমার বন্ধু জুন চৌধুরী।

     

    রুহুল আমিন সরকার
    বদরগঞ্জ প্রতিনিধি, দৈনিক সংবাদ ও দৈনিক করোতোয়া।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১