• শিরোনাম

    সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে স্বপ্নকলি স্কুল

    গাংচিল ডেস্ক | ০৫ এপ্রিল ২০২২


    সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এগিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখাচ্ছে স্বপ্নকলি স্কুল

    আমার মা আম খেতে ভালোবাসত। আমার মা আমাকে খুব আদর করতো। এভাবেই বাক্যের শেষে করতো বা বাসত শব্দটি ব্যবহার করে দশটি লাইন লিখেছিল মহিন। ২০২১ সনের বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষার চতুর্থ শ্রেণীর প্রশ্নপত্রে লিখতে বলা হয়েছিল মা সম্পর্কে দশটি বাক্য। মহিন বুঝিয়ে দিয়েছিল তার মা নেই। মাদকের ভয়াল ছোবলে অকালে বাবাকে হারায় সে। মায়ের বিয়ে হয়েছে অন্যত্র। দাদীর কাছে থেকেই চলছে তার জীবন।

    ১৩ বছরের সুখী। ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সুখী স্বপ্নকলি স্কুলে এ বছর ২য় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সুখীর বাবা মারা যাবার পর ভাইয়ের সংসারে ঠায় হয়েছে তার। স্বপ্নকলি স্কুল পড়তে কোন টাকা পয়সা লাগে তাই এখানেই ভর্তি হয়েছে সে। মাঝে মধ্যেই সুখীকে ধান কাটা এবং ধানের চারা লাগানোর জন্য মাঠে কাজ করতে যেতে হয়। ভাইয়ের পরিবারকে সহযোগিতা করতে হয় তার।


    স্যার আমাকে আর একটু সময় স্কুলে রাখেন না বাসায় গেলে ফুফু আমাকে দিয়ে অনেক কাজ করায়। হ্যাঁ এভাবেই স্বপ্নকলি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিম তার শ্রেণী শিক্ষকের কাছে আকুতি জানিয়েছিল। তার বাবা মা যার যার মত করে নতুন সংসার সাজিয়েছে। মেয়েটির জায়গা হয়েছে ফুফুর কাছে।


    জীম শারিরীকভাবে মাঝে মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। টাকার অভাবে ভালো ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয়নি তার পরিবারের। স্টেশন বস্তিতে চারবোন বাবা মা আর দাদীকে নিয়ে তার পরিবার। তার বাবা শ্রমিক হিসেবে যখন যা পায় কাজ করে। মা হোস্টেল গুলোতে রান্নার কাজ করে। বাড়তি ব্যয় জোগাতে তার দাদীর ভাপাপিঠার দোকানে কাজ করে জীম। মাঝে মাঝেই ক্লাসের পড়া করতে পারেনা মেয়েটি। বাড়িতে নেই বিদ্যুৎ আর মাঝে মাঝেই বাড়ে অসুস্থতা। জেনে অবাক হবেন মেয়েটি এখনও কেরোসিন তেলের বাঁতির আলোতে পড়ালেখা চালাচ্ছে। তবুও মেয়েটি চালিয়ে যাচ্ছে তার জীবন সংগ্রাম।


    প্রতিদিন প্রায় ১০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে কাজে যাওয়া আসা করে সঞ্জয়। বাবা মা দুজনই ভাম্যমান পরিচ্ছন্নতা কর্মী। চৌদ্দ বছর বয়সি সঞ্জয় বাসফোর পড়ালেখার পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছে কর্মজীবন। আয় না করতে পারলে জুটবে না ভাত।

    রিমন, স্বপ্নকলি স্কুলে পড়ালেখার পাশাপাশি ট্রেনে হকারের কাজ করে। প্রতিদিন রাতের ট্রেনে তার ব্যবসা। মাক্স, ইয়ারফোন, পানির বোতল সহ বিভিন্ন জীনিস বিক্রয় করে আয়ের টাকা তুলে দেয় সে পরিবারের হাতে। বাবা নাটোর স্টেশন বাজারে খাবারের হোটেলে কাজ করে।

    প্রতিদিন পঞ্চাশ টাকা মজুরিতে পারভেজ স্টেশন বস্তিতে কার্টুনের গুদামে কাজ করে। স্কুলে ছুটির পরেই ব্যাগ রেখে তাকে দৌড়াতে হয় কাজে। এতটুকু খেলার সময় তার নেই। যে বয়সে পড়ালেখার পাশাপাশি তার খেলার সময় সেই বয়সে ভারী কাজ করে তার কোমল হাতগুলোতে পড়েছে কড়া ছাপ।

    এরকমই একশত পয়ত্রিশ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে চলছে নাটোর স্টেশন বস্তিতে অবস্থিত স্বপ্নকলি স্কুল। স্কুলের একশো পয়ত্রিশ জন শিক্ষার্থীর জীবন সংগ্রামের গল্প যেনো একশো পয়ত্রিশ রকম। সেই ২০১২ সালে কথা দুজন স্বপ্নবাজ তরুণ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং সুষ্ময় দাস তাদের বন্ধু এবং আত্মীয় স্বজনের নিকট থেকে কিছু শীতের কাপড় সংগ্রহ করে স্টেশন এলাকায় শীত বস্ত্র বিতরণ করতে গিয়ে দেখল সেখানকার অধিকাংশ শিশু বিদ্যালয়ে যায় না। এছাড়া ওরা যা শীতের কাপড় নিয়ে এসেছিলো তা ছিলো ছিলো অপযাপ্ত। পরিকল্পনা করা হলো একা নয় সবাই একত্র হয়ে কিছু করা যায়। যেখান থেকে শুরু হয় হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন এর। তখনই তারা পরিকল্পনা করলো কিভাবে এই শিক্ষার্থী গুলোকে শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসা যায়। সেই ভাবনা থেকেই স্বপ্নকলি স্কুল তৈরি করে সংগঠনটি। যেখানে সুবিধাবঞ্চিত এবং স্কুল থেকে ঝড়ে পরা শিশুরা শিক্ষায় আলোয় নতুন করে স্বপ্ন বুনতে পারবে।

    স্বপ্নকলি স্কুল। ২০১৪ সালে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে নাটোর স্টেশন বস্তিতে হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করে। হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন একটি অলাভজনক এবং অরাজনৈতিক সংগঠন। ২০১২ সালে সংগঠনটি শিশু অধিকার বাস্তবায়ন এবং টেকসই উন্নয়নে সমাজের সকল স্তরের তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। স্বপ্নকলি স্কুল ২০১৪ সালে মাত্র ১৫ জন শিশু নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে ১৩৫ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। স্টেশন বস্তিতে বসবাসকারী দিন এনে দিন খান এমন পরিবারের শিশু, পথে বসবাসকারী শিশু, শ্রমজীবি শিশু, আদীবাসি শিশু, হরিজন শিশু, ভিক্ষুক শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে স্কুলটি থেকে।

    সংগঠন এবং স্বপ্নকলি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানায়,  প্রথম দিকে শুধুমাত্র প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের পড়াশোনা করানোর পর আমরা আশে পাশের সরকারি এবং পৌরসভা পরিচালিত স্কুলগুলোতে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হরেও পরবর্তিতে দেখা যায় শিশুগুলো আগের মতই স্কুলগুলো থেকে ঝড়ে যেতে থাকে। এরপর হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন উদ্যোগ নেওয়া হয় ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেবার। তবে শুরুটা একদমই ভালো ছিলো না স্বপ্নকলি স্কুলের জন্য। বস্তিতে বসবাসকারী অভিভাবকরা সন্তানদের পড়াশোনা করানোর জন্য খুব বেশি আগ্রহী ছিলেন না। হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন এর স্বেচ্ছাসেবকরা বস্তিতে সকলের নিকট গিয়ে কাউন্সিলিং করে আগ্রহ করে তোলার কাজ শুরু করে। হরিজন শিশুদের আমরা প্রথম দিকে স্কুলে নিয়ে আসতে সক্ষম হই। হরিজন শিশু আমাদের স্কুলে ভর্তি হওয়ায় অনান্য অভিভাবক আমাদের স্কুলে শিশুদের পাঠাতে চাইতেন না। ভর্তি করাতে গেলে সুইপার শিশুর পাশে বসে পড়ালেখা করতে দিতে চান না বলতেন। তবে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক এবং শিক্ষকদের চেষ্টা এবং বার বার কাউন্সিলিং করা, সামাজিকতার বিষয়গুলো চর্চা করানোর মধ্যে দিয়ে বর্তমানে এই ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় না আর ।

     

    এখন সকল ধর্মের এবং সকল জাতের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা একহয়ে পড়াশোনা করতে আসে স্বপ্নকলি স্কুলে। যাত্রার শুরু থেকে হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন এর লক্ষ্য ছিল স্বপ্নকলি স্কুলের এই সকল শিশুরা পড়াশোনার পাশাপাশি অনান্য সকল জায়গায় অন্য সকল শিশুর মত অংশগ্রহণ করবে। সেই লক্ষ্যে এই সকল শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি চিত্রাংকণ, নৃত্য, অভিনয় এবং পিটিতে পারদর্শী করার চেষ্টা চালিয়া যাওয়া হয়। ২০১৭ সালে স্বপ্নকলি স্কুলের শিশুরা প্রথম জেলা পর্যায়ে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রথম মাঠে কুচকাওয়াজ এবং ডিসপ্লেতে অংশগ্রহণ করে। ২০১৭ সাল থেকে ২০২১ এর মহান বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ এবং ডিসপ্লে পর্যন্ত স্বপ্নকলি স্কুলের শিশুরা বরাবরের মত জুনিয়র বিভাগের সাফল্যের সাথে বিজয়ী হয়ে এসেছে।

    এছাড়া জেলা পর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত শিশু নাট্য প্রতিযোগিতায় জেলায় তৃতীয় স্থান অর্জনও করে আমাদের স্বপ্নকলি স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। জেলার জাতীয় এবং আন্তজার্তিক দিবসগুলোতে বিভিন্ন প্রতিয়োগিতায় স্বপ্নকলি স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত এই সকল শিশুরা অন্য সকল শিশুর সাথে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সময়ে পুরস্কৃত হয়েছে। স্বপ্নকলি স্কুলের নিজেস্ব কোন আয় নেই। হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন এর স্বেচ্ছাসেবকদের চাঁদা এবং ব্যক্তিগত অনুদানের উপর ভিত্তি করেই শিশুদের শিক্ষা উপকরণ, পোশাক, বনভোজন, শিশুদের ইচ্ছে পুরনের দিন, ঈদের খাবার সামগ্রী বিতরন, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল শিশুকে ঈদের আগে নতুন পোশাক বিতরণ, মেহেদী উৎসবের আয়োজন, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল শিশুর সাথে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সাথে (যেমনঃ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন সংগঠন ইত্যাদি) উন্নত পরিবেশে ইফতারের আয়োজন, বার্ষিক মেধাবৃত্তি প্রদান, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, স্কুলের বিদুৎ বিল, শিশুদের নাস্তার বিল, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কারসহ বিভিন্ন ব্যয় নির্ভর করে। আমরা স্বপ্ন দেখি এই সকল সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা অন্য সকল শিশুর সাথে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে, নিশ্চিত হবে তাদের সকল অধিকার।

     

    স্টেশন বস্তির মাঝামাঝি স্থানে দশ শতাংশ জমিতে দুইটি আধাপাকা ঘরে মেঝেতে বসিয়ে চলছে স্বপ্নকলি স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম। শিশুবিকাশ হতে পঞ্চম শ্রেনী পর্যন্ত মোট ছয়টি শ্রেণীর পাঠদান চলছে মাত্র দুইটি কক্ষে। শ্রেণি কক্ষের অভাবে সকাল ৮ টা থেকে টানা ৫ টা পর্যন্ত শিক্ষাদান করেন স্কুলেরস্বেচ্ছাসেবক শিক্ষক আসলাম, শরিফুল, রাশিদাএবং মোছাঃ মনোয়ারা পারভিন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সৈকতে মাতা মোছাঃ মনোয়ারা পারভীন। ৫০ বছর বয়সী এই নারী ছেলে এই ভালো কাজগুলোকে ভালোবেসে নিজেও স্কুলটিতে বিনামূল্যে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। স্কুলটিতে বসার মত কোন হাই ব্রেঞ্চ বা সিট ব্রেঞ্চ নেই। শীত, গ্রীষ্ম এবং বর্ষা সবসময় স্কুলের শিশুরা অত্যন্ত কষ্ট করেই লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে এখানে। এরপরও শিশুরা ভালোবাসে স্কুলটিকে। এই স্কুলে উপস্থিতি হার ৯৯% এবং স্কুল থেকে ঝড়ে পড়ার হার শূণ্যের কোঠায়। শিশু এবং অভিভাবকদের সাথে স্কুলটির একটি ভালোবাসার বন্ধনে যেন জড়িয়ে গেছে। অভিভাবকদের সচেতন করতে নিয়মিত অভিভাবক সভার পাশাপাশি বিভিন্ন সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, প্রশিক্ষণ এবং কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

     

    যেখানে অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা, লেখাপড়া, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারে। এছাড়া অভিভাবকদের কর্মমূখী এবং স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে অভিভাবকদের কর্মমূখী প্রশিক্ষণ প্রদানের চেষ্টা করা হয়। তবে পর্যাপ্ত অর্থের জন্য সবসময় তা হয়ে উঠে না। কর্মমূখী প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য থাকে যাতে করে পরিবারের কোন শিশুকে কোন প্রকার শ্রমের সাথে জড়িতে পড়তে না হয়।
    বর্তমানে ১৩৫ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষা উপকরণ, শ্রেণীকক্ষের স্বল্পতা নিয়ে চরম সংকটে রয়েছি। ব্যাক্তিগত যেটুকু সহযোগিতা ছিলো করোনা মহামারীর কারনে তাও প্রায় শূন্যোর কোঠায়। সংগঠনটি চাইলেও পারছে না অসহায় সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের ভবিষৎ চিন্তা করে পারছি না স্কুল বন্ধ করে দিতে।

    সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা অব্যাহত রাখতে স্বপ্ন দেখানোর কারখানা স্বপ্নকলি স্কুলটিকে বাঁচাতে সবাইকে সহযোগিতা করার অনুরোধ রইল। স্কুলে শ্রেণি কক্ষ, শিক্ষা উপকরণ এবং শিক্ষকদের সম্মানির ব্যবস্থা করা গেলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এই স্কুলটির মাধ্যমে উক্ত এলাকার অসংখ্য শিশু এবং তাদের পরিবারগুলোর বড্ড উপকার হতো। স্কুলটিকে সহযোগিতা করার ঠিকানা ঃ হ্যাপি ড্রিমস ফাউন্ডেশন, হিসাব নম্বর ঃ ০২০০০১৫৮৩০০৬২, রাউটিং নম্বর ঃ ০১০৬৯১০৯৬, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, নাটোর জেলা শাখা।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০৩১