• শিরোনাম

    স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে হাতি কিনলেন কৃষক!

    দি গাংচিল ডেস্ক | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০


    স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে ১৬ লাখ টাকা দিয়ে হাতি কিনলেন কৃষক!

    ছবিঃ সংগৃহিত

    প্রিয়জনকে খুশি করতে মানুষ কতো কিছুই না করে। ভালোবাসার আশ্চর্য সব উদাহরণ আছে ইতিহাসের পাতায়। এমনই প্রেমের এক উজ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন লালমনিরহাটের কৃষক দুলাল চন্দ্র রায়।

    স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে ষোল লক্ষ টাকা দিয়ে তিনি হাতি কিনে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। দুলাল চন্দ্র রায় লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রথিধর দেউতি গ্রামের পরলোকগত বীরেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে।


    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশুপাখি ভালোবাসতে এবং তাদের প্রতি যত্নবান হতে দৈব নির্দেশ পান দুলাল চন্দ্র রায়ের স্ত্রী তুলসী রানী দাসী। ওই দৈব নির্দেশ পালনে কয়েক বছর আগে তার স্বামী প্রথমে একটি ঘোড়া, তারপর রাজহাঁস ও ছাগল কিনে দেন। এতদিন ধরে তাদের পরিচর্যা করছেন তুলসী রানী দাসী।

    এক বছর আগে তিনি আবারো স্বপ্নে দৈব নির্দেশ পান একটি হাতি কিনে যত্ন নেওয়ার। এরপর থেকে স্বামী দুলালের কাছে হাতি কিনতে বায়না ধরেন তুলসী রানী দাসী।


    স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণ করতে এবার ২ (দুই) বিঘা জমি বিক্রি করে হাতি ক্রয়ের পরিকল্পনা করেন দুলাল চন্দ্র। পরিকল্পনা করেই থেমে থাকেননি তিনি। বরং সঠিকভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে সিলেটের মৌলভীবাজার গিয়ে সাড়ে ষোল লাখ টাকা দিয়ে হাতি ক্রয় করেন তিনি। বিশ হাজার টাকা দিয়ে ট্রাক ভাড়া করে হাতি নিয়ে বাড়ি ফেরেন কৃষক দুলাল।

    সেইসাথে হাতিকে দেখভাল করার জন্য ইব্রাহীম মিয়া নামে এক মাহুতকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে মৌলভীবাজার থেকে নিয়ে আসেন দুলাল।


    প্রভাবশালী কৃষক দুলাল চন্দ্র রায় হাতি কিনেছেন শুনে শুধু গ্রামের লোকজন নয়, দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ হাতিটি দেখতে ভিড় করছেন দুলাল চন্দ্রের বাড়িতে।

    ওই গ্রামের অধিবাসী অতুল চন্দ্র বলেন, অনেক দিন ধরে শুনছি দুলালবাবু হাতি কিনবে। অবশেষে জমি বিক্রি করে তিনি স্ত্রীর কথামত হাতি কিনে এনেছেন। হাতি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু শত মানুষ এই গ্রামে আসছে।

    পাশ্ববর্তী রাজারহাটের শতবর্ষী বাসন্তী রাণী বলেন, জীবনে বহুবার হাতি দেখেছি তবে স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে এই যুগে কেউ হাতি কিনেছেন সেটা শুনে দেখতে এসেছি।

    হাতির মাহুত ইব্রাহীম বলেন, থাকা খাওয়াসহ প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা মজুরিতে মৌলভীবাজার থেকে এসেছি। ভবিষ্যতে হাতির মাহুত বানাতে স্থানীয় দুইজনকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তাদের প্রশিক্ষণ নেয়া শেষ হলে তাদের ওপর দায়িত্ব দিয়ে আমি চলে যাবো।

    হাতির মালিক দুলাল চন্দ্র রায় বলেন, স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে সাড়ে ১৬ লাখ টাকায় হাতিটি কিনেছি। হাতিটির দেখভাল করতে মৌলভীবাজার থেকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতনে মাহুতকে নিয়ে এসেছি। আপাতত হাতির পিছনে মাহুতের মজুরি এবং কলাগাছের জন্য দৈনিক একশত থেকে দেড়শত টাকা খরচ হচ্ছে। এর আগে ঘোড়া, রাজহাঁস এবং ছাগল কিনে দিয়েছি।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১