• শিরোনাম

    ৭ জানুয়ারী ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আব্দুস সুবহান খান-এর ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী

    দি গাংচিল ডেস্ক | ০৭ জানুয়ারি ২০২২


    ৭ জানুয়ারী ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আব্দুস সুবহান খান-এর ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী

    মরহুম ডাঃ আব্দুস সুবহান খান ১ মার্চ ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৪ সালের ৭ জানুয়ারী মৃত্যু বরণ করেন। রংপুরের নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে ২০০৭ সালে তাঁকে মরনোত্তর ভাষা সৈনিক পদকে ভূষিত করা হয়।

    তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের একনিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১২ মার্চ রংপুরের মাটিতে পাবলিক লাইব্রেরীর জনসভায় তিনি স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ৭নং সেক্টরে কর্মরত ছিলেন। আজকের এই শোকাবহ দিনে আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।


    প্রয়াত ডাঃ আব্দুস সুবহান খান একজন ধার্মিক, মানবতাবাদী, খোদাভীরু ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ ছিলেন। তিনি সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে একজন বিপ্লবী দার্শনিক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

    তিনি বূর্জোয়া পূঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রংপুরের মাটিতে গড়ে তুলেছিলেন দরিদ্র মেহনতি মানুষের সমাজ ব্যবস্থা। গরীব মেহনতি মানুষের উন্নয়নই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য ছিল। সমাজ পরিবর্তনের জন্য তিনি রংপুরের মানুষকে জাগরণের ডাক দিয়েছিলেন। একজন বিশুদ্ধ রাজানীতিক তথা সৃজনমূলক বিশুদ্ধ রাজনীতির পথিকৃত হিসেবে তিনি রংপুরের মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরনীয় হয়ে আছেন। প্রয়াত ডাঃ আব্দুস সুবহান খান ছিলেন মাটি ও মানুষের নেতা।


    তিনি মানবিক মূল্যবোধে প্রতিষ্ঠিত মানবতাবাদী একজন সৃজনশীল বিশুদ্ধ রাজনীতিক ছিলেন। তিনি ষাট – সত্তর দশকে উত্তরবঙ্গ মজদুর ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর দীর্ঘ সময় তিনি জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি কৈশোরে ভারতীয় ফরওয়ার্ড স্টুডেন্ট ব্লকে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকা অবস্থায় নেতাজি সুভাষ বোসের সঙ্গে কারাবরণ করেছিলেন। তিনি গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

    তাঁর বাম রাজনীতির সংগ্রামী নেতৃত্ব রংপুরের মানুষকে আলোড়িত ও অনুপ্রাণীত করেছিল। প্রয়াত ডাঃ আব্দুস সুবহান খান – এর সংগ্রামী জীবনের কথা রংপুরের গণমানুষের সবটাই জানা। তারপরও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো ও তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তাঁর সংগ্রামী জীবনের কথা তুলে ধরা প্রয়োজন। তিনি গণমানুষের জন্য ন্যায্যকথা ও অধিকার আদায়ের কথা বলতে গিয়ে একজন বিশুদ্ধ রাজনীতিক হিসেবে অসংখ্যবার কারাবরণ করেছিলেন।


    তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বা তাঁর স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য রংপুর মহানগরীতে তাঁর নামে একটি সড়কের (শাপলা চত্তর থেকে রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত) নামকরণ হয়েছে।

    উলে­খ থাকে যে, তিনি সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মোঃ শহিদ খান, দৈনিক নব সূচনা’র প্রকাশক ও সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন কণার পিতা।

    ৭ জানুয়ারী মরহুম ডাঃ আব্দুস সুবহান খানের মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে তাঁর মাগফেরাত কামনা করে পীরপুর খানকা শরীফে পবিত্র কোরআন তিলওয়াতসহ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    Facebook Comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১